আজকে

  • ৩রা আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
  • ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
  • ৭ই মুহাররম, ১৪৪০ হিজরী
 

সোশ্যাল নেটওয়ার্ক

একজন তারেক রহমান ও একটি অগ্নি ঝরা বক্তব্য

Published: বুধবার, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৮ ১০:৩৫ অপরাহ্ণ    |     Modified: বুধবার, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৮ ১০:৩৫ অপরাহ্ণ
 

সায়েক এম রহমান: ১। ৩রা সেপ্টেম্বর ২০১৮, লন্ডন রয়েল রিজেন্সি হলে বিএনপির ৪০ তম প্রতিষ্টা বার্ষিকী উপলক্ষে দেশের এই মহা ক্রান্তি লগ্নে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের বক্তব্যটি ছিল, এক অগ্নি ঝরা বক্তব্য! অন্য সব দিনের মতন নয়! সন্পূর্ণ ই আলাদা। তাঁহার এই দিনের বক্তব্যে ছিল এক ভিন্ন কন্ঠ, ভিন্ন চেহারা, ভিন্ন এক তারেক রহমান, তাহার চোঁখ, মুখ, হাত পা সব কিছু যেন কথা বলছিল। হল ভর্তি নেতাকর্মী শ্লোগানে শ্লোগানে বার বার মুখরিত করে তুলেছিল।

যদিও পয়লা সেপ্টেম্বর প্রতিষ্টা বার্ষিকীর দিনে ঢাকা নয়া পল্টনে লাখো লাখো মানুষ জন সমুদ্রে যোগ দিয়ে এক বিশাল ম্যাসেজ দিয়েছিল কিন্তু সেদিন আশানুরুপ কোন প্রকার নির্দেশনা না পেয়ে অনেকটা হতাশা নিয়ে মানুষ বাড়ি ফিরে ছিল। কিন্তু ঐ দিন জনাব তারেক রহমানের সময়পোযোগী ও ভবিষ্যৎ নির্দেশনা মূলক বক্তব্যে এক আলোড়ন সৃষ্টি করে। তাঁহার জ্বালাময়ী ও অগ্নি ঝরা বক্তব্যে লক্ষ কোটি নেতাকর্মী প্রাণের সঞ্চার পেয়েছে ও উজ্জীবিত হয়েছে। পাশাপাশি দেশের সাধারন মানুষ পেয়েছে প্রাণের সঞ্চার। আজ রাজনৈতিক অনেক পর্যবেক্ষকরা বলছেন,” হয়তবা তারেক রহমান নিজেই জানেন না, তাঁহার অজান্তেই, দেশের সংকটময় মহুর্তে তাঁহার এই সময়পোযোগী বক্তব্যটি একটি ইতিহাস হয়ে গেল।

তারেক রহমান তাঁহার অগ্নি ঝরা বক্তব্যে দেশ ও জাতি সামনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেন,,,,,,,
ক। তিনি বলেন, ” এই অবৈধ সরকারের সময়ে আমাদের ইলিয়াস আলী ও চৌধুরী আলমসহ দিনারের মতন শত শত নেতাদের গুম করা হয়েছে, শত শত নেতাদের লাশ পানিতে ভেসে উঠছে, বিএনপি নেতা সালাউদ্দীউন কে ভারতের সীমান্তে ফেলে আসা হয়েছে।


তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, বিএনপি বহুবার ক্ষমতায় ছিল, বলুন,,,,, আওয়ামী লীগের এই মাপের কোন নেতাকে বিএনপির শাসন আমলে গুম করা হয়েছে? এই ভাবে খালে বিলে লাশ ভেসে উঠেছে? না করেনি, ভেসে উঠেনি। এই হচ্ছে বিএনপি আর আওয়ামী লীগের পার্থক্য।

খ।সীমান্তে ফেলানির হত্যাকান্ডের দৃশ্য দেখেছেন? এ ভাবে অসংখ্য মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে। প্রশ্ন রেখে বলেন,” বিএনপির আমলে ফেলানির মতন কোন দৃশ্য কি জাতি দেখেছেন? সীমান্তে এত হত্যা দেখেছেন? না, এত সব ছিল না। এখানেই আমাদের পার্থক্য।


গ। সাংবাদিকদের উদ্যেশ্যে বললেন,” সাংবাদিক বন্ধুরা,সরকারের বিপক্ষে একটি নিউজ যাওয়ায় আপনাদের সহকর্মীর বাসায় ডুকে স্বামী স্ত্রী,,,, দুইজনকে মেরে ফেলল। প্রধান মন্ত্রী বললেন রুম পাহারা দিতে পারবেন না। কত নাটক করা হল। আপরারা সাগর রুনীর বিচার পেয়েছেন? তাদের ছেলে মেঘ এখন বড় হয়েছে, তার কাছে কি জবাব দিবেন? আপনারা না সাংবাদিক? বলুন,,,বিএনপি সরকারের আমলে এমন কোন ঘটনা ঘটেছে? এ ভাবে সাংবাদিক নির্যাতন, হত্যা হয়েছে? আমাদের ব্যবধান এখানেই!

ঘ।৷ বিএনপির চেয়ার পার্সন বেগম খালেদা জিয়া কে অন্যায় ভাবে মিথ্যা বানোয়াট মামলায় অসৎ উদ্যেশ্যে জেলে পুড়াচ্ছে , নির্যাতন করচ্ছে শুধু তাই নয় হাজার হাজার নেতাকর্মীদেরকে ও জেলে পুড়াচ্ছে , নির্যাতন করচ্ছে,গুম খুনের মাধ্যমে খালে বিলে লাশ ভাসিয়ে দিচ্ছে। আপনারা দেখেছেন, “এমনকি আমাদের কোমলমতি ছেলে মেয়েদের ও কোটা সংস্কারকারী ছাত্রছাত্রীদের কে ও রেহাই দেয় নাই। তাদের ন্যায্য দাবী না মেনে তাদেরকে বিভিন্ন ভাবে নির্যাতন করে,হাতুড়ী দিয়ে পিঠিয়ে, হেমলেট বাহিনী ব্যবহার করে, জেলে পুরে, বিভিন্ন ভাবে রিমান্ড দিয়ে সায়েস্তা করা হয়েছে।
এখন আপনারা ই বলুন, ” বিএনপি এদেশের ক্ষমতায় অধিকবার ছিল, কখনও এমন হয়েছে? সমস্বরে হল ভর্তি মানুষ বলে উঠলেন,,,, না, না, না, এমন কখনও হয় নাই। এই হলো, আওয়ামী লীগ বিএনপির পার্থক্য।


ঙ। বিশিষ্ট আলোকচিত্রী শহীদুল আলমের কথা বলতে গিয়ে বললেন,”মিডিয়ায় সত্য কথা বলাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছে, জেলে পুড়াচ্ছে । শুধু বেগম খালেদা জিয়া নয়,,,,,,যে মানুষই অপশাসনের বিরুদ্ধে দাঁড়াবে,গুম, খুন না হয় জেলে পুড়াবে। তারা বিভিন্ন পত্রিকা বন্ধ করে দিয়েছে, মানুষের জবান বন্ধ করে রেখেছে। প্রধান বিচারপতি দুই একটা সত্য কথা বলায়, দেশ ত্যাগে বাধ্য করিয়েছে। সাংবাদিকদের আবারও বলেন,”বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মী যদি মানুষের জন্য লড়তে পারে, আপনারা কেন পারবেন না? আপনাদের হাত বাধাঁ তাইতো? লিখতে পারছেন না।কিন্তু কয় দিন পর যে আপনাদের হাত থেকে ওরা কলম কেড়ে নিবে, তখন কি করবেন? তাই বলছি,এখনও সোচ্চার হোন। এটা আওয়ামী লীগ শাসন আমল! এটা বিএনপি নয়!

একজন তারেক রহমান ও একটি অগ্নি ঝরা বক্তব্য

চ। বাংলাদেশ ব্যাংক এর ৮০০ শত কোটি টাকা ডিজিটাল জালিয়াতির মাধ্যমে গায়েব। ছয় লক্ষ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা। বেসিক ব্যাংকসহ প্রায় সবকটি রাষ্ট্রীয় ব্যাংক লুট করে নেওয়া। শুধু তাই নয়, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভের রাখা সোনা তামা হয়ে গেছে, কয়লা নাই হয়ে গেছে, পাথর গায়েব হয়ে গেছে, এদেশ টাকে কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছে! আর কয় দিন পর দেশের মাটি কুঁড়ে নিয়ে যাবে।

দেশ ও জাতিকে বলেন,” বিএনপি সরকারের আমলে এমন কিছু কি কোন পত্রিকায় দেখেছেন বা শুনেছেন? সমস্বরে হল ভর্তি মানুষ বলে উঠলেন না, না, না। তা হলে এই হলো,,,,,,,,, আওয়ামী সরকারের শাসন আমল আর বিএনপি সরকারের শাসন আমলের পার্থক্য। এই হলো, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পার্থক্য।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাঁহার অগ্নি ঝরা বক্তব্যে এভাবেই আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পার্থক্য তুলে ধরে বলেন,,,,,,,””””” না, না, না,! অ-নে-ক হয়েছে। আজ এখানেই রুখে দিতে হবে। জনগনের দেশ, জনগনের কাছে ফিরিয়ে আনতে হবে। এটা আমাদের দায়িত্ব। এ জন্য দরকার ঐক্য। যে ঐক্য হলো সমাজের সকল স্তরের মানুষের ঐক্য। সে ঐক্য হবে বৃহৎ জাতীয় ঐক্য।

আর নেতাকর্মীদের উদ্যেশ্যে বললেন,” বাংলাদেশের প্রতিটি কোনায় কোনায়, প্রতিটি গ্রামে গঞ্জে, প্রতি ওয়ার্ডে, প্রতিটি থানায়, জেলায়, পৌরসভায়, প্রতিটি বিভাগে আমাদের লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মী আছে। আপনারা স্ব স্ব অবস্হান থেকে প্রস্তুতি নিন। ডাক দেবার সময় এসে গেছে, ডাক আসা মাত্র দেশের সর্বস্তরের মানুষদেরকে সাথে নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। ইনশাআল্লাহ,,,, সময় মত ডাক আসবে। আপনাদের স্ব স্ব অবস্হান থেকে প্রস্তুতি গ্রহণ করুন।

২। তারেক রহমান নেতাকর্মী দের হুুসিয়ার করে বলেন,” সরকার ভীতি, প্ররোচনা কিংবা কোন প্রকারের ফাঁদে পা না দিতে সবাইকে হুুসিয়ার থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, মনে রাখবেন,,,,দেশের মানুষের ঐক্য নষ্ট করার জন্য অবৈব সরকার, ডাকাত সরকার, সব ধরনের চেষ্টা করবে। তারা গুম খুন নিখোঁজ করার মাধ্যমে ভয় দেখানোর চেষ্টা করবে, মানুষকে ধুম্রজালে ফেলার জন্য। কাজেই সব কিছুতেই সজাগ থাকতে হবে।
আরো বলেন, আমাদের লক্ষ কিন্তু একটি, আন্দোলনের মাধ্যমে একটি জনগনের সরকার। যে সরকার বাংলাদেশের জনগণের দ্বারা সটিক ভাবে নির্বাচিত হবে। যে সরকার হবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় প্রতিষ্টত।

আর বাংলাদেশে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া শিশু কিশোরদের নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন, মনে প্রানে নিরাপদ সড়ক চাই, আমি ব্যক্তিগত ভাবে চাই, আমার দল ও চায়। কোটা সংস্কার ও একটি ন্যায্য দাবি। সেটাও আমি মনে প্রানে চাই, আমার দল ও চায়। নিরাপদ সড়ক আমাদের থাকবে। আজ নিরাপদ সড়কের সাথে তাল মিলিয়ে বলতে চাই,,,,নিরাপদ একটি বাংলদেশ ও চাই।

পাঠক, দেশের এই মহা সংকট মহুর্তে, বাস্তবকে উপলদ্ধি করে, বাস্তবমুখী চিন্তা চেতনার মাধ্যমে একবিংশ শতাব্দীর জাতীয়তাবাদী ভিশনারি সংগঠক তারেক রহমানের সময়পোযোগী এ অগ্নি ঝরা নির্দেশনা মূলক বক্তব্য টি আগামী দিনে দেশ এ জাতিকে সঠিক স্হানে নিয়ে যাবে বলে দেশের বড় অংশের ধারনা। লিখনীর পরিশেষে বলতে চাই,” ভিশনারি সংগঠক জনাব তারেক রহমান হয়ত বা তিনি নিজেই জানেন না, তাঁহার এ বক্তব্য তাঁহার অজান্তেই বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক ইতিহাস হয়ে গেল।

লেখক :
লেখক ও কলামিস্ট
সায়েক এম রহমান
sayakurrahman@hotmail.কম

 
 
 

এই বিভাগের আরও সংবাদ

 

ক্যালেন্ডার