আজকে

  • ২৯শে কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
  • ১৩ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং
  • ৪ঠা রবিউল-আউয়াল, ১৪৪০ হিজরী
 

সোশ্যাল নেটওয়ার্ক

শিল্পীরা রাস্তায়:বুকে গুলি করিস না,এখানে বঙ্গবন্ধু ঘুমায়’

Published: বুধবার, আগস্ট ১, ২০১৮ ৫:৫৬ অপরাহ্ণ    |     Modified: সোমবার, আগস্ট ২০, ২০১৮ ১১:৩৪ অপরাহ্ণ
 

ঢাকা সংবাদদাতাঃঈদের আগে সংগীতশিল্পী, নির্মাতা ও অভিনয়শিল্পীদের ব্যস্ততা থাকে অন্য সময়ের চেয়ে অনেক বেশি। দম ফেলার সময় থাকে না। এরপরও শুটিং বন্ধ রেখে তারকারা রাস্তায় নেমেছেন।

এত দিন তারকারা ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে সমর্থন জানালেও আজ অনেকেই সশরীরে রাস্তায় নেমেছেন। শিক্ষার্থীদের কষ্ট দেখে সংগীতশিল্পী, অভিনয়শিল্পী, পরিচালক, প্রযোজকদের অনেকেই শুটিং বন্ধ করে রাস্তায় নেমে আসেন। যাঁরা বাসায় ছিলেন, তাঁরাও শিক্ষার্থীদের কষ্ট সহ্য করতে না পেরে রাস্তায় নামেন।

এদের মধ্যে ছিলেন পরিচালক সকাল আহমেদসহ অভিনয়শিল্পী জাকিয়া বারী মম, নাদিয়া আহমেদ, নওশীন, অর্ষা, নাদিয়া আহমেদ, তৌসিফ, নাবিলা প্রমুখ।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সমর্থন জানিয়ে ঢাকার শাহবাগে মানববন্ধনে অংশ নিয়েছেন অভিনয়শিল্পী জ্যোতিকা জ্যোতি, নওশাবা, অধিকারকর্মী আনন্দ কুটুমসহ আরও অনেকে।

এদিকে আন্দোলন করা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করে আগামীকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার বিভিন্ন সড়কে নামবেন সংগীত ও অভিনয়জগতের অনেক তারকা। থাকবেন প্রযোজক-পরিচালকেরাও।

ফেসবুকে তারকাদের প্রতিক্রিয়া:

সাংগঠনিক কোনও জোটবদ্ধ কর্মসূচি কিংবা প্রতিক্রিয়া না পাওয়া গেলেও দেশের নাটক, চলচ্চিত্র এবং সংগীতাঙ্গনের মানুষরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন প্রতিনিয়ত। এমন প্রতিবাদ সাম্প্রতিক সময়ে অন্য কোন ইস্যুতে লক্ষ্য করা যায়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত প্রতিক্রিয়া প্রকাশের পাশাপাশি কেউ কেউ সরাসরি রাজপথে নামারও আহ্বান জানাচ্ছেন।

দেশের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী জাকিয়া বারী মম আজ ১ আগস্ট নিজের ফেসবুকে লিখেছেন এভাবে, ‘সাধারণ মানুষের ভোগান্তি’ এই সময়ে দাঁড়িয়ে এই কথাটি খুবই অবান্তর। কারণ, সাধারণ মানুষ সারা বছরই নানা ভোগান্তিতে ভোগেন। আমিও সাধারণ মানুষ, আপনিও। পায়ে হেঁটে কাজে এসেছি আজ। আরও আসবো, কষ্ট করতে রাজি আছি। কিন্তু এই স্বেচ্ছাচারিতায় বাঁচতে রাজি না। হোক আন্দোলন, হোক স্বনির্ভর অভিযান।

কোণঠাসা হয়ে ঝিমিয়ে, নুইয়ে, মেনে নিয়ে, সহ্য করে, আপস করে, ঠকে বাঁচার চেয়ে প্রতিবাদ করে নিজের বাঁচার পথ সুগম করা অনেক ভালো।

নন্দিত চিত্রনাট্যকার মাসুম রেজা সরকারের উদ্দেশে তার পোস্টে লেখেন, ‘সরকারের দায়িত্বশীল কেউ একজন শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেওয়ার ঘোষণা দিন। এ পর্যন্ত কী কী ব্যবস্থা নিয়েছেন তা ওদেরকে জানান। পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট হলফনামা দেওয়া হোক। নৌমন্ত্রীর নিষ্ঠুর আচরণের তুলনায় তার সামান্য দুঃখপ্রকাশ যথেষ্ট নয়। পরিবহন নীতিমালায় কী কী থাকছে মন্ত্রিসভায় ওঠার আগেই তার সারাংশ জানানো হোক। শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনের সাথে আছি।’

অভিনেত্রী আশনা হাবিব ভাবনা লেখেন, ‘ধানমন্ডি থেকে উত্তরা যাচ্ছিলাম শুটিংয়ের উদ্দেশে। এয়ারপোর্ট ক্রস করার পর পরই দেখলাম জটলা, সব গাড়ি যে যার মতো তাড়াতাড়ি ঘোরাচ্ছে। সব গাড়ির সাথে পুলিশের গাড়িও ঘোরাচ্ছিল। ঠিক বুঝলাম না, পরে জানতে পারলাম বাস পোড়াচ্ছে সামনে। একটু পরই আমার পাশের বাসেই মারপিট শুরু, ভাঙচুর শুরু, কিন্তু আমার একটুও ভয় লাগলো না। বাসের ড্রাইভারের লাইসেন্স চাওয়াতে সে ক্ষেপে গেলেন- তাই শুরু হলো মারামারি। আমি দেখলাম স্টুডেন্টদের আবেগ, তারা তাদের সোনার দেশ তো সোনার মতোই খাঁটি রাখতে চায়। সমর্থন রেখে গেলাম।’

অভিনেত্রী মৌসুমী হামিদ নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের প্রথম থেকেই বেশ অ্যাকটিভ সোশ্যাল মিডিয়ায়। ২৯ জুলাইয়ের একটি পোস্টে তিনি লেখেন, ‘হবে না কিচ্ছু…। রাজীবরা হাত পা খোয়ানোর কষ্টে অভিমানে মরবে। কার কী হবে! ওদের (চালকদের) বিচার কেউ করবে না। এত সময় কার আছে? সময় নেই বলেই পায়েলকে (এনএসইউর ছাত্র) ফেলে দিয়েছে ব্রিজ থেকে। তো কী হবে বিচার?

৩১ জুলাই যুক্তরাজ্যে বসে সংগীতশিল্পী প্রীতম আহমেদ লেখেন, ‘হে বাংলাদেশ- ১৮ বছর বয়সের বুকে এতো ঘৃণা ও ক্রোধ জমিয়ে তুমি কাকে দেশপ্রেমিক বানাতে চাও?’

৩০ জুলাই অভিনেত্রী শবনম ফারিয়া লেখেন, ‘এইসব ১২/১৫ বছরের বাচ্চারা তো শখ করে রাস্তায় নামেনি! তাদের বাধ্য করা হইছে! হ্যাঁ কষ্ট হচ্ছে। শান্তিনগর থেকে গুলশান হয়ে, ৩০০ ফিট ঘুরে, উলুখোলা হয়ে উত্তরা যেতে হচ্ছে আমাকে! কিন্তু আমাদের এই সাময়িক কষ্ট থেকে এইসব সমস্যার একটা শক্ত সমাধান জরুরি।’

১ আগস্ট নিজের ফেসবুক দেয়ালে আন্দোলনরত ছাত্রদের একটি ব্যানারের ছবি পোস্ট করে অভিনেতা আদনান ফারুক হিল্লোল লেখেন, ‘বুকে গুলি করিস না, এখানে বঙ্গবন্ধু ঘুমায়। বন্ধু জেগে উঠলে সব ধ্বংস হয়ে যাবে।’

এদিকে চলচ্চিত্রের মানুষদের চলমান আন্দোলন নিয়ে তেমন কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি ফেসুবক-টুইটারে। এরমধ্যে চিত্রনায়ক নিরব হোসেন ছোট্ট করে লেখেন, ‘সাথে আছি ভাই তোদের…।’

নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর কড়া বক্তব্য নৌপরিবহন মন্ত্রীকে ঘিরে। তার ভাষ্য এমন, ‘ইনবক্সে কেউ কেউ লিখছেন, ভাই, শাজাহান খান তো নৌপরিবহন মন্ত্রী। সড়ক পরিবহনের সমস্যায় উনি পদত্যাগ করবেন কেন? উনি নৌপরিবহনমন্ত্রী সবাই জানে। কিন্তু উনি যেহেতু উভয়চর প্রাণী সেহেতু উনার রাজত্ব ডাঙ্গায়ও বিদ্যমান। সড়ক পরিবহন খাতের নাটের গুরু এই লোক, এটা সবাই জানেন। তবে উনাকে বরখাস্তের কথা আসছে, উনার নিষ্ঠুরতা এবং মন্ত্রীর পদমর্যাদা খাটাইয়া ষণ্ডামি করার কারণে। নৈতিকভাবে তো উনার মন্ত্রিত্ব হারানোর কথা ছিল তারেক মাসুদের ঘটনার পর উনার ভূমিকার কারণেই। এইবার সেটা ষোলকলা পূর্ণ হইছে। এখানে মনে রাখা দরকার, কেউ উনার পদত্যাগ চাচ্ছে না, চাচ্ছে বরখাস্ত। পদত্যাগ করার মতো লজ্জা শরমবোধ উনার নাই। সবশেষে, সড়ক পরিবহন নীতিমালা বা আইন কানুন সংস্কার সেটা অন্য বিষয়। সেটার জন্য সরকারের দায়িত্বশীল মহলকে চাপ দিতে থাকেন।’

ব্যান্ড তারকা শাফিন আহমেদ ১ আগস্ট আন্দোলনের কিছু ছবি পোস্ট করে মুগ্ধতা নিয়ে লেখেন, ‘কিছুক্ষণ আগের দৃশ্য এয়ারপোর্ট রোডের সামনে। ছাত্ররা পুলিশের গাড়ির কাগজ-পত্র চেক করে দেখে কারোরই কোনও লাইসেন্স নাই। তারা শুধু গাড়ির গায়ে লিখে দেয়- লাইসেন্স নাই। পুলিশের লোগোটা কলমের কালি দিয়ে কেটে দেয়। কি অদ্ভুত ব্যাপারটা!’

অভিনেত্রী নওশীন নাহরিন মৌ লেখেন, ‘আজকের পর থেকে পুলিশকে সম্মান করার কোনও যুক্তি আছে? এই বাচ্চাগুলোর গায়ে যারা হাত তুলতে পারে তারা আর যাই হোক, মানুষ না।’

জ্যোতিকা জ্যোতি লেখেন, ‘“ঊষার দুয়ারে হানি আঘাত, আমরা আনিব রাঙা প্রভাত… চল্ চল্ চল্…’

আর ঘরে বসে থাকা যায় না, আমার মন উত্তাল তোমাদের সাথে! আপনি আছেন তো?

এদিকে কিংবদন্তি সংগীত পরিচালক আলাউদ্দিন আলী লেখেন, ‘যারা ইন্ধন দিয়ে বাচ্চাদের মারছেন, তারা কিন্তু পরবর্তী ফলাফল ভেবেই সরকারকে ডোবাচ্ছেন। এই আগুন কিন্তু থামানো মুশকিল।’

এই সময়ের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ইমরান লেখেন, ‘এ মৃত্যুর দায়ভার কে নেবে? ৩টা তরতাজা প্রাণ ঝরে গেলো! বিচার কি আদৌ হবে? নাকি চলছে, চলবে?’

৩১ জুলাই রাতে সোহানা সাবা লেখেন তার বাবা-চাচাদের মুক্তিযুদ্ধের সত্য ঘটনা টেনে অসাধারণ একটি লেখা। সেটি হলো এমন-

আমার বাবা আর বড় চাচ্চুকে ট্রেনিং এর জন্য ইন্ডিয়া পার করে দিয়ে আসেন আমার দাদুভাই৷ বাড়িতে এসে আমার দাদুভাই কান্নায় ভেঙে পড়েন। কারণ, ট্রেনিং শেষে ছেলেরা দেশে আসবে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করতে, হয়তো ছেলেরা আর ঘরে ফিরবে না। হয়তো এটাই শেষ দ্যাখা।

আমার বাবা তখন ক্লাস এইটের ছাত্র, ৫ ভাই ও ৪ বোনের মধ্যে তিনি সেজো।

আমার বাবা সাহসের সাথে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করে ঘরে ফিরেছিলেন। তবুও বাবার চেয়ে আমি বেশি অহংকার করি দাদুভাই ও দিদুমনিকে নিয়ে৷ এই দুই মহৎপ্রাণ মানুষ দেশের জন্য প্রাণপ্রিয় ছেলেদের বলি দিতেও প্রস্তুত ছিলেন।

আজকেও বাচ্চা বাচ্চা ছেলেমেয়েদের চেয়ে বেশি ধন্যবাদ জানাবো তাদের বাবা-মা`কে।

আমার ছেলের বয়স এখনও ৪ বছর হয়নি।

সে আরেকটু বড় হলে আমিও তাকে আন্দোলনে পাঠাতাম।

হতাম দেশের জন্যে জীবন বাজি রাখা ছেলের অহংকারী `মা`!

এমন আরও অনেক প্রতিক্রিয়া রয়েছে তারকাদের ফেসবুক দেয়ালে। ইউটিউবার সালমান মুক্তাদির গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন।

 
 
 

এই বিভাগের আরও সংবাদ

 

ক্যালেন্ডার

    নভেম্বর ২০১৮
    রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
    « অক্টোবর    
     
    ১০
    ১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
    ১৮১৯২০২১২২২৩২৪
    ২৫২৬২৭২৮২৯৩০