আজকে

  • ৫ই শ্রাবণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
  • ২০শে জুলাই, ২০১৮ ইং
  • ৫ই জিলক্বদ, ১৪৩৯ হিজরী
 

সোশ্যাল নেটওয়ার্ক

পর্দা নামলো ‘প্রাণের বৈশাখী ‘ মেলার: শ্রীহীন মেলায় স্টল ব্যাবসায়ীরা হতাশ

Published: সোমবার, জুলাই ২, ২০১৮ ১:৫৯ পূর্বাহ্ণ    |     Modified: বুধবার, জুলাই ৪, ২০১৮ ৩:৫৮ অপরাহ্ণ
 

পর্দা নামলো ‘প্রাণের বৈশাখ’ মেলার: শ্রীহীন মেলায় স্টল ব্যাবসায়ীরা হতাশ

ইউকেবিডিটাইমস:

কয়েক বছর আগেও বৈশাখী মেলাকে কেন্দ্র করে লন্ডনে বাংলাদেশী মানুষের মাঝে বিরাজ করতো এক অনাবিল আনন্দ। আয়োজক কমিটির প্রচার প্রচারণায় ব্যাস্ত রাখতেন প্রিন্ট এবং ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াকে। বাংলাদেশ থেকে নিয়ে আসা হত উঁচু মানের শিল্পীদের, যাদের গান সবার কাছে পরিচিত এবং ব্যাপক ভাবে জনপ্রিয়।প্রতিটি উপস্থাপনায় ছিল বাঙালিত্বের ছাপ। যার ফলে অতীতে এই মেলাকে কেন্দ্র করে নেমেছিল মানুষের ঢল। কিন্তু বিগত দুটি মেলায় উপরের সবকিছুই ছিল অনুপস্থিত। ওয়েস্ট্রান স্টাইলের নাচ এবং মেলাতে বাঙালি ঐতিহ্যের অনুপস্থিতি অনেককেই হতাশ করেছে। যার ফলে এই বারের মেলা লোক টানতে ব্যার্থ হয়েছে। এবারের মেলায় দর্শকদের মাতাতে বাংলাদেশ থেকে এসেছিলেন ব্যান্ড দল চিরকুট। নব প্রতিষ্টিত এই শিল্পীদের গান শ্রুতাদের কাছে ছিল অপরিচিত এবং আবেদনহীন। এছাড়া চায়না চৌধুরীর নেতৃত্বে তাল তরঙ্গ এবং শৌমি ডান্স কোম্পানীর পরিবেশনায় ছিল বর্ণাঢ্য নৃত্য।বিকেলে ফান ফেয়ার এলাকায় বাচাদের নিয়ে অনেকেই আসেন তখন মেলা এলাকা কিছু সময়ের জন্য জমে উঠে।
লন্ডনে টাওয়ার হ্যামলেটস’ কাউন্সিলের উদ্যোগে অনুষ্টিত হয়েছে ইউরোপের সর্ববৃহৎ বৈশাখী মেলা। ১লা জুলাই রোববার পূর্ব লন্ডনের উইভার্স ফিল্ডে অনুষ্ঠিত হয় ,মেলায় যখন প্রবাসী আসা শুরু করেন তখন প্রায় শেষ হয়ে যায় মূল অনুষ্ঠান।
প্রতি বছর মেলাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক প্রচার প্রচারনা থাকলেও এবার ছিল তুলনামূলক কম। মেলা সরাসরি সম্প্রচার করেনি কোন বাংলাদেশী টেলিভিমন। অনলাইন মিডিয়ার খবর ও স্যোশাল মিডিয়ায় দেখে শেষ বেলায় আসেন বহু প্রবাসী। মেলায় মানুষ না আসায় বিক্রি কম হওয়ায় স্টল নিয়ে বসা ব্যবসায়ীরা হতাশা ব্যক্ত করেন , বার্মিংহাম থেকে আগত একজন ব্যাসায়ী ইউকেবিডিটাইমস কে বলেন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত মেলায় লোক সমাগম ছিল খুব কম যার ফলে অনেকটা বেকার সময় পার করেছেন তারা, স্টল ব্যাবসায়ী মুতালিব বলেন কিছুদিন আগে বার্মিংহাম অনুষ্টিত মেলাতে অনেক মুনাফা অর্জন করতে পেরেছিলেন তারা ,তাই ইংলেন্ডের সবচাইতে বড় এই মেলার ব্যাপারে আশাবাদী ছিলেন তিনি কিন্তু এখন স্টলের ভাড়া জুগার না হওয়ার উপক্রম হয়েছে। তিনি বলেন মেলা কমিটি আমাদের কাছথেকে মোটা অংকের অর্থ নিলেও তারা ভালো ভাবে প্রচারণা চালায়নি।
ব্রিকলেনের বাক্সটন স্ট্রীট থেকে বর্ণাঢ্য র‌্যালীর মাধ্যমে মেলা শুরু হয় বেলা ১১টায়। টাওয়ার হ্যামলেটসের বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নেয়। বিভিন্ন স্ট্রীট প্রদক্ষিন শেষে র‌্যালী গিয়ে মিশে ওয়েভার্স ফিল্ডে। এরপরই মেলার মূল মঞ্চ থেকে ধারাবাহিকভাবে পরিবেশন করা হয়, গান, নৃত্য ইত্যাদি।
মেলায় কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ, সংবাদকর্মীসহ উপস্থিত ছিলেন, স্থানীয় এমপি রোশনারা আলী, বাংলাদেশের হাইকমিশনার নাজমুল কাওনাইন, মেয়র জন বিগস, স্পিকার কাউন্সিলার আয়াছ মিয়া, ডেপুটি মেয়র কাউন্সিলার সিরাজুল ইসলামসহ টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের অধিকাংশ কাউন্সিলারবৃন্দ।
এছাড়াও লন্ডনের স্থানীয় কিছু সংগঠন কে মূল মঞ্চের বাহিরে আলাদা ভাবে সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অনুষ্টান করতে দেখা যায় কিন্তু লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে স্থানীয় সংগঠন গুলোর ক্ষুদ্র প্রচেষ্টায় ছিল বাঙালি সংস্কৃতির অকৃতিম ছুঁয়া।

 
 
 

এই বিভাগের আরও সংবাদ

 

ক্যালেন্ডার