আজকে

  • ৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
  • ২০শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং
  • ১০ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪০ হিজরী
 

সোশ্যাল নেটওয়ার্ক

গাজীপুর সিটি নির্বাচনে অনিয়মে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ

Published: বৃহস্পতিবার, জুন ২৮, ২০১৮ ৭:৫৭ অপরাহ্ণ    |     Modified: শুক্রবার, জুলাই ২৭, ২০১৮ ১১:০৪ অপরাহ্ণ
 

ঢাকা সংবাদ দাতা:সব দলের অংশগ্রহণে বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য জাতীয় নির্বাচন আয়োজন নিশ্চিত করতে সরকার যে অঙ্গীকার করেছে তার বাস্তবায়ন দেখতে চায়  মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ওই নির্বাচনটি এমন হতে হবে যাতে ভোটের ফলাফলে জনগণের আকাঙ্ক্ষা তথা রায়ের প্রকৃত প্রতিফলন ঘটে। খুলনার পর গাজীপুর সিটি নির্বাচনে ব্যালট ছিনতাই, বলপূর্বক সিল মারা, ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টিতে হুমকি-ধমকি এবং বিরোধী পক্ষের পোলিং এজেন্টদের জোর করে কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়াসহ নানা অনিয়ম ও সহিংসতায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট এভাবেই আসন্ন জাতীয় নির্বাচন প্রশ্নে বন্ধুপ্রতিম ও উন্নয়ন সহযোগী যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাশার কথা ব্যক্ত করেন।

কূটনৈতিক রিপোর্টারদের সংগঠন ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিকাব) আয়োজিত মতবিনিময় অনুষ্ঠান ডিকাব টক-এ রাষ্ট্রদূত এসব কথা বলেন। সংগঠনের সভাপতি রেজাউল করিম লোটাসের সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে ডিকাব সাধারণ সম্পাদক মাহফুজ মিশুসহ সংগঠনের সদস্য ও নিয়মিতভাবে কূটনৈতিক বিট কভার করা রিপোর্টাররা উপস্থিত ছিলেন। ডিকাবের ফ্ল্যাগশিপ প্রোগ্রাম ডিকাব-টক-এ মার্কিন দূত দেশের সমসাময়িক রাজনীতি, নির্বাচন এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক রাজনীতির বিভিন্ন বিষয়ে অত্যন্ত খোলামেলা আলোচনা করেন। সদ্য সমাপ্ত গজীপুর সিটি নির্বাচনের প্রচারণা থেকে শুরু করে ভোট পর্যন্ত সবার সমান সুযোগ ছিল না মন্তব্য করে রাষ্ট্রদূত সেখানে পুলিশের বাড়াবাড়ি, বিরোধী পক্ষের পোলিং এজেন্টদের অহেতুক হয়রানি ও আটক, গণমাধ্যম কর্মীদের অবরুদ্ধ করে রাখাসহ পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা এবং এ সংক্রান্ত বিভিন্ন রিপোর্টের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তবে ওই নির্বাচন বিভিন্ন দলের অংশগ্রহণ এবং সহিংসতা তুলনামূলক কম হওয়ায় (লো লেভেল অব ভায়লেন্স) স্বস্তি প্রকাশ করেন তিনি।

রাষ্ট্রদূতের ভাষায় এটি ?‘উৎসাহব্যঞ্জক’। গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের পথ প্রশস্ত করতে সিটি নির্বাচনগুলোর অনিয়ম ও সহিংসতার অভিযোগগুলোর দ্রুত তদন্ত এবং সংশ্লিষ্টদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসার তাগিদও দেন রাষ্ট্রদূত। বাংলাদেশের অতীতে অনেক ভালো ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হয়েছে উল্লেখ করে বার্নিকাট বলেন- একটি অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে যেসব আইন থাকা দরকার তা আপনাদের (বাংলাদেশের) আছে। আপনারা (বাংলাদেশ) এ-ও জানেন কীভাবে অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করতে হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র মনে করে- বাংলাদেশের জন্য জরুরি হচ্ছে এমন রাজনৈতিক পরিবেশ সৃষ্টি করা যেখানে সহনশীলতা, মানবাধিকার এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সমুন্নত থাকবে।

সবাই এগুলোর প্রতি সমর্থন করবে। সেখানে সব নাগরিকের নিজের ভবিষ্যৎ বিষয়ে শক্তিশালী ও শান্তিপূর্ণ মত প্রকাশে কোনো বাধা থাকবে না। মানুষের স্বাধীন চিন্তা বা মত প্রকাশের স্বাধীনতা, মুক্ত গণমাধ্যম, শান্তিপূর্ণ সভা-সমাবেশ করার অধিকার এমনকি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ, বিক্ষোভ, মানববন্ধন, সবার অংশগ্রহণে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন বাংলাদেশের স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি এবং উন্নয়ন অগ্রযাত্রার ধারাবাহিতার জন্য অপরিহার্য বলে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রদূত। এক প্রশ্নের জবাবে বার্নিকাট বলেন- একটি দেশের জাতীয় নির্বাচন কীভাবে হবে বা কীভাবে দেখা যাবে সেটা অনেক ক্ষেত্রে তার আগে অনুষ্ঠিত সিটি নির্বাচনের পরিস্থিতি দেখলে অনুমান করা যায়। সিটি নির্বাচন প্রধান নির্দেশক হতে পারে। সেখানে দ্বিতীয় দফায় তিনি সবার অংশগ্রহণে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনে সরকারের কথা দেয়ার বিষয়টি ব্যক্ত করেন। বলেন- এটা আমাদের কাছে বিবেচ্য যে আমরা এখানে গণতন্ত্রের বাস্তবায়ন দেখতে চাই। যেটি হতে পারে একটি ভালো নির্বাচনের মধ্য দিয়ে। গণতন্ত্র চর্চা এবং এ ধারা অব্যাহত রাখার বিষয়ে রাষ্ট্রদূত বার্নিকাট একাত্তরে বাংলাদেশের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করেন।

তিনি বলেন- বাংলাদেশিরা তাদের অধিকারের জন্য যুদ্ধ করেছে, জীবন দিয়ে এটি অর্জন করেছে। বাংলাদেশের অতীতের ভালো নির্বাচনগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র সব সময় উদযাপন করে যাবে এবং নির্বাচনের অনিয়মগুলোকে চিহ্নিত করতে উদ্বেগের সঙ্গে আহ্বান জানিয়ে যাবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এ সময় তিনি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের কিছু গণতান্ত্রিক নীতি এবং ভিত্তির উল্লেখ করে বলেন- এটি আমাদের দুই দেশের বন্ধনকে শক্তিশালী করছে। তিনি ইন্দো-প্যাসিফিক রিজিওনের স্থিতিশীলতা নিয়ে কথা বলেন। তার মতে, এ সংক্রান্ত স্ট্র্যাটেজি সার্বভৌমত্বকে আরো শক্তিশালী ও সমুন্নত রাখবে। বাংলাদেশের নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য হচ্ছে কি না? তার সঙ্গে ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ডনাল্ড ট্রাম্প সরকারের পরিকল্পনাকেও মিলিয়ে দেখার চেষ্টা করেন রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র একই গণতান্ত্রিক নীতি ও ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত।

এ বিষয়টিই আমাদের দুই দেশের অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে। আর ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য বাংলাদেশের শক্তিশালী অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্প প্রশাসন শুরু থেকেই তাদের নতুন ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় পরিকল্পনাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আসছে। যেভাবে তারা ভারত ও  প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলকে চিহ্নিত করে আসছে তা যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূল থেকে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। এই এলাকার মধ্যে পৃথিবীর অর্ধেকের বেশি মানুষের বসবাস। বিশ্ব অর্থনীতির বেশিরভাগ কর্মকাণ্ড এ এলাকাতেই চলে। যুক্তরাষ্ট্র এ অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক অংশীদার, ঋণদাতা ও বিনিয়োগকারী। বিশ্ব ব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের বড় অংশীদার হিসেবেও এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আর নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনায় নিলে ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল হল সেই এলাকা, যার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বেশি সমুদ্রসীমা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের মিত্র বেশ কয়েকটি দেশের অবস্থান ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে। বাংলাদেশসহ এ অঞ্চলের প্রায় প্রতিটি মিত্র দেশের সঙ্গেই যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী নিয়মিত সামরিক মহড়া ও যৌথ প্রশিক্ষণের আয়োজন করে আসছে।

ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গাদের ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত: এদিকে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট রোহিঙ্গাদের সাহায্য এবং সুরক্ষা ও জবাবদিহিতার নীতি অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে তার সরকারের দেয়া অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। বলেন, সুরক্ষা ও জবাবদিহিতার নীতিকে সমর্থন দিতে যুক্তরাষ্ট্র গর্বের সঙ্গে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছে। রাষ্ট্রদূত জানান, নির্যাতিত মানুষদের ন্যায়বিচার পাওয়া এবং নৃশংসতা ও অন্যান্য মানবাধিকার লঙ্ঘনে জড়িতদের উপযুক্ত বিচার নিশ্চিত করাতে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশসহ তাদের বন্ধু দেশ ও সহযোগীদের সঙ্গে কাজ করছে।

বাংলাদেশ মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে জাতিগত নিধনের শিকার হয়ে পালিয়ে আসা ৭ লাখ রোহিঙ্গার জীবন বাঁচিয়েছে জানিয়ে বার্নিকাট বাংলাদেশের উদারতা, মানবতা ও সস্নেহ এবং এর জনগণের ইতিহাস মনে রাখার দৃঢ়তার প্রশংসা করেন। সেই সঙ্গে তিনি রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায় নিরাপদ ও সম্মানের সঙ্গে ফেরত পাঠানো নিশ্চিত করতে মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়ারও প্রশংসা করেন। বার্নিকাট বলেন, রাখাইন রাজ্যে শুরু হওয়া এ সংকটে সাড়া দেয়া প্রথম দেশগুলোর একটি ছিল যুক্তরাষ্ট্র। মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রদূত বার্নিকাট মাদকের ‘প্রধান হোতাদের’ ধরা এবং অবৈধ মাদক বাণিজ্যের জাল ধ্বংস করে দেয়ার ওপর গুরুত্ব দেন। সেই সঙ্গে তিনি ‘বন্দুকযুদ্ধের’ পরিস্থিতি এড়ানো এবং সঠিক উপায়ে কাজ করার বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও পরস্পরের কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ নিয়ে কথা বলেন।

 
 
 

এই বিভাগের আরও সংবাদ

 

ক্যালেন্ডার