আজকে

  • ৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
  • ২২শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং
  • ১২ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪০ হিজরী
 

সোশ্যাল নেটওয়ার্ক

কেমন মুসলমান ?

Published: শুক্রবার, জুন ১, ২০১৮ ৫:৪৮ অপরাহ্ণ    |     Modified: সোমবার, জুন ১১, ২০১৮ ১:০৭ অপরাহ্ণ
 

আমিমুল আহসান তানিম : “বেয়াদবি নিবেননা দেইখা আমার ভান , হাদিস কোরআন মানেননা কেমন মুসলমান !?” প্রয়াত তারিক মাসুদ পরিচালিত মাটির ময়না চলচ্চিত্রে সংযোজিত এই গানটি বা চলচ্চিত্রটি নিয়ে রয়েছে অনেক বিতর্ক। ইসলামিক সংস্কৃতি বা জীবন ব্যাবস্থাকে আপত্তিকর ভাবে তুলে ধরতে মুন্সিয়ানা দেখিয়েছিলেন নির্মাতা তারিক মাসুদ।
অবশ্য আমার আলোচনার বিষয় তারিক মাসুদ বা তার শিল্পকর্ম নয়। আলোচনার সূত্রপাতের জন্য একটি শিরোনামের প্রয়োজন ,শিরোনাম নেতৃত্বের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে লেখাকে উপসংহারের দিকে ধাবিত করতে সহায়তা করে।
আজ আমি যে মুসলমানদের নিয়ে বলবো তারা নামাজ রোজা করেন আবার হাদিস কোরআন ও মানেন। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে তিনারা কেমন মুসলমান?
আমার চাচি মারা গেলেন মাস কয়েক আগে। জানাজা সম্পন্ন হলো ইস্টলন্ডন মসজিদে ,নামাজ শেষে সবাই রওয়ানা দিচ্ছেন কবরস্থানের উদ্দশ্যে। লেস্টার থেকে আগত আমার মেজো চাচা ইচ্ছা পোষণ করলেন যে আমার সাথে তিনি কবর স্থান পর্যন্ত যাবেন। আমার গারি পার্ক করা ছিল মসজিদের সন্নিকটে ইস্টলন্ডন বিসনেসসেন্টারের পার্কিংয়ে কিন্তু বিপত্তি ঘটলো তখন যখন দেখলাম পারকিং থেকে বহির গমনের পুরুটা রাস্তা বন্দ করে বসে আছে সুপার ষ্টোর টেসকোর দানব ভ্যান। প্রচন্ড ক্ষোভে প্রবেশ করলাম টেসকোর ভিতরে কারণ জানতে চাইলাম।ড্রাইবার নিজেই জানালেন কারণটি। সাদা চামড়ার এই মানুষটি আমার মতোই বিপদ গ্রস্ত। এসেছিলেন টেসকোর মালামাল পরিবহনের জন্য ,কর্ম সম্পাদনের পর বিশাল এই ভ্যান নিয়ে বের হতে পারছেননা ছুট্ট গলি থেকে। তাই নিরুপায় হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন, কারণ মসজিদের পিছনের রাস্তায় ডাবল ইয়েলো লাইনে কোন এক জন মুসল্লি রেখে গেছেন তার শখের বাহনটি ঠিক একই ভাবে অন্য পাশে দাঁড়িয়ে আছে আরেকটি। অবস্থার অনিশ্চয়তা বুঝতে পেরে চাচা কে তুলে দিলাম আরেকটি গাড়িতে। তার পর থেকে শুরু হলো আমার অপেক্কার পালা একে একে চলে গেল ৩০ টি মিনিট। মসজিদ শৃংখলা বিভাগের দায়িত্ব রত ব্যাক্তি গণ সদ্য মত চেষ্টা করলেন সেই আলোকিত জনদের দৃষ্টি আকর্ষণের।অবশেষে একজনের আগমন গঠিল, হাতে রসনা বিলাস সামগ্রী।
মনে মনে ভাবলাম ঝগড়া করার দরকার নেই কিন্তূ লোকটাকে অশান্তি দেয়ার দরকার আছে তাই কাছে গিয়ে বললাম টেসকো এবং মসজিদ কর্তৃকক্ষ আপনার গারির ছবি তুলে পুলিশের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছে আশা করছি সাপ্তা খানেকের ভীতরে একখানা পত্র পাবেন ইনশাআল্লাহ ।তিনি দ্রুত প্রস্থান করিলেন।
আমি ঘড়ি দেখলাম,দাফন পাবার খুব একটা সম্বাবনা আছে বলে মনে হলোনা, তার পরেও শেষ চেষ্টা মনে করে দৌড়ে গাড়িতে উঠলাম পার্কিং এলাকায় আরো কয়েকটি গাড়ি দেখলাম দাঁড়িয়ে আছে মুক্তির অপেক্ষায়।
টেসকোর গাড়িটি একই কায়দায় দাঁড়িয়ে আছে দেখে কিঞ্চিৎ বিরক্তি ভাব নিয়ে জানতে চাইলাম কারণ। এই বার সমস্যা রাস্তার অন্য পাশে রাখা গাড়িটি। আমরা আর বুজতে চাইলাম না ,টেসকোর ভ্যান চালককে বললাম চেষ্টা করতে। তিনি চেষ্টা করলেন এবং এক পর্যায়ে সামনের গাড়িটিকে আঘাত করলেন।তাকে আবার থেমে যেতে হলো ,কারণ পুলিশি অনেক ঝামেলা শেষ করে তবেই থাকে যেতে হবে।আমরা কোন রকমে বের হয়ে গেলাম। যেতে যেতে চিন্তা করলাম ভ্যান চালকটির কথা। কি ধারণা নিয়ে সে যাবে এই অমুসলিম মানুষটি আমাদের সম্পর্কে ? ইসলামের ইতিহাসের যেদিকে তাকাই সেদিকেই ভালোবাসা ,নিয়মবর্তীতা এবং সৎ চারিত্রিক গুণাবলীর মাদ্ধমে মানুষেক ভালোবেসে অর্ধেক পৃথিবী শাসনের উদাহরণে ভরপুর সমৃদ্ধ ইতিহাস রয়েছে আমাদের।মুসলিমরা তলোয়ারের মাদ্ধমে রাজ্যের সীমানা জয় করেছিলেন ঠিকই কিন্তু সেই তালোয়ার রাজ্য সীমানায় ফেলে চরিত্র নামের অস্রটি সঙ্গী করেছিলেন তারা। যার ধার এতো বেশি ছিল, যা অমুসলিমদের মধ্যে বিদ্ধিমান ইসলাম সম্পর্কে সকল অপপ্রচারকে চোচির করে দিয়েছিলো।
আমরা যদি এই দেশের আইন না অমান্য করতাম তাহলে হয়তো অমুসলিম এই ভ্যান চালককে এই অযাচিত ঝামেলায় পড়তে হতোনা । ইস্টলন্ডন মসজিদের শৃঙ্খলা এতটাই উন্নত মানের যা যেকোনো মানুষকে মুগ্ধ করতে বাধ্য। কিন্তু আমরা যারা মুসল্লি আমাদের আচরণের কারণে সকল অর্জন ম্লান হয়ে যাবার উপক্রম হয়েছে।
কেন এতদিন পরে এই ঘটনার বর্ণনা দিচ্ছি? তাহলে কারণটাও সংক্ষেপে বলি।১ম রমজানের তারাবির নামাজ পড়তে গেলাম ইস্টলন্ডন মসজিদে। নামাজের একপর্যায়ে মাইকে গোষণা আসলো ,একটি গাড়ি রাস্তা বন্দ করে পার্ক করা হয়েছে।দ্রুত গাড়িটি সরানোর অনুরোধ জানানো হলো।জানিনা ওই বাহনের মালিক গোষণা শুনছিলেন কিনা ?নাকি তিনিও সেই সময় ব্যাস্ত ছিলেন রসনা বিলাস সামগ্রী ক্রয়ে?
আর আমার মত কোন একজন হয়তো ছিল অপেক্ষায়,প্রিয়জনের শেষ বিদায়ে পাশে না থাকার দুঃখ নিয়ে।
প্রায় প্রতিটি শুক্রবারে দেখাযায় যেখানে সেখানে পার্কিং,আবার অনেককেই দেখাযায় ট্রাফিক সিগন্যাল না মেনেই দৌড় দিয়ে রাস্তা পার হতে।বাই সাইকেলের জন্য বরাদ্ধ রাস্তা সব সময়ই থাকে আমাদের দখলে,নামাজ শেষে এখানে দাঁড়িয়ে গল্প করতেই যেন আমাদের বেশি ভালোলাগে।
বিলেতের সংবাদ কর্মীদের কল্যানে প্রকাশিত হয় সাপ্তাহিক কিছু ফ্রী পত্রিকা অনেক সময় এই পত্রিকা গোল দেখা যায় জায়নামাজ হিসেবে ব্যাবহৃত হচ্ছে ফুটপাতে নামাজ শেষে ফেলে যাওয়া এই পত্রিকাগুলো বাতাসে ভেসে চলে যাচ্ছে ব্যস্ততম রাস্তায় যা অনেক সময় রাস্তা ব্যবহার কারীদের জন্য সৃষ্টি করছে মহা ভুগান্তির।আমাদের সৃষ্ট এই অসঙ্গতির প্রত্যক্ষ দর্শী হচ্ছেন শত শত অমুসলিম।
কিন্তু কেন তারা এগুলো করছেন?তারিক মাসুদের চলচিত্রের মুসলিম চরিত্র গোল যেমনি সকল মুসলমানের চারিত্রিক বৈশিষ্টের প্রতিনিধিত্ব করে না ঠিক তেমনি ব্রিটেনে এই কর্মকান্ড যারা সম্পাদন করছেন তারও সকল মুসলমানদের চরিত্রের প্রতিনিধিত্ব করছেননা। আর নিশ্চই তারা ইসলামের মূল শিক্ষা থেকে রয়েছেন অনেক দূরে, যে শিক্ষার আলোয় মুসলমানরা ঝালিয়ে রেখেছে শ্রেষ্ট্রত্তের মশাল হাজার বছর ধরে।

 
 
 

এই বিভাগের আরও সংবাদ

 

ক্যালেন্ডার