আজকে

  • ১০ই আষাঢ়, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
  • ২৪শে জুন, ২০১৮ ইং
  • ৯ই শাওয়াল, ১৪৩৯ হিজরী
 

সোশ্যাল নেটওয়ার্ক

মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান:এক রাতে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ১০

Published: সোমবার, মে ২১, ২০১৮ ৭:৩৪ অপরাহ্ণ    |     Modified: সোমবার, জুন ১১, ২০১৮ ২:১২ অপরাহ্ণ
 

ইউকেবিডি টাইমসডেস্ক:মাদকবিরোধী অভিযান চলার মধ্যে এক রাতেই সারা দেশে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এর মধ্যে যশোরেই মারা গেছে ৩ জন। এছাড়া ঝিনাইদহ, ফেনী, নরসিংদী, রাজশাহী, চুয়াডাঙ্গা ও গাজীপুরে একজন করে নিহত হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, নিহতরা মাদক ব্যবসায়ী। মাদকবিরোধী অভিযানে গত ছয় দিনে অন্তত ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এসব ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র।

যশোর:রোববার দিবাগত রাতে যশোরে তিন জনের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি মাদক ব্যবসায়ী দুই পক্ষের গোলাগুলিতে তাদের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে শনিবার রাতে গুলিতে এক যুবকের মৃত্যু হয়। শুক্রবার অভয়নগরে র‌্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছিলেন তিন মাদক ব্যবসায়ী। কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজমল হুদা জানান, গভীর রাতে সদর উপজেলার খোলাডাঙ্গা ও মণ্ডলগাতি গ্রামের মাঠের মধ্যে ফাঁকা জায়গায় দুই দল মাদক ব্যবসায়ীর মধ্যে বন্দুকযুদ্ধের খবর পায় পুলিশ। ঘটনাস্থলে পুলিশ ফোর্স গেলে অস্ত্রধারীরা পালিয়ে যায়। সেখান থেকে উদ্ধার করা হয় অজ্ঞাত এক ব্যক্তির মরদেহ আর দুটি শাটারগান ও দুই রাউন্ড গুলির খোসা। একই ধরনের ঘটনা ঘটে সদর উপজেলার তরফনওয়াপাড়া গ্রামের জনৈক নওয়াব আলীর মেহগনি বাগানে। সেখানে হাজির হয়ে পুলিশ দুটি মরদেহ, দুটি পিস্তল, দুই রাউন্ড তাজা গুলি, গুলির খোসা এবং ৪০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত ডাক্তার কল্লোল কুমার সাহা জানান, হাসপাতালে আনার আগেই তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের সবার মৃত্যু হয়েছে মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে।
তিনি বলেন, গুলিতে নিহত তিন ব্যক্তির বয়সই ৩৫ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে। এদের একজনের গায়ে লাল স্যান্ডো গেঞ্জি ও চেক লুঙ্গি, একজনের গায়ে জাম রঙের হাফ হাতা গেঞ্জি ও সাদা থ্রি-কোয়ার্টার প্যান্ট এবং অন্যজনের খালি গা ও পরনে চেক লুঙ্গি ছিল। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এ তিনজনের কারও পরিচয় জানা যায়নি।

কালীগঞ্জ: কালীগঞ্জ নরেন্দ্রপুর এলাকায় র‌্যাবের সঙ্গে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ছব্দুল মণ্ডল (৪৫) নামে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে। রোববার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এসময় ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশি নাইন এমএম পিস্তল, ২ রাউন্ড গুলি, একটি ম্যাগাজিন, ১০০ বোতল ফেনসিডিল, ১৫০ পিস ইয়াবা, একটি হেলমেট ও নগদ ১ হাজার ১০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে র‌্যাব। নিহত ছব্দুল মণ্ডল উপজেলার নরেন্দ্রপুর গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে। সে এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী বলে র‌্যাব জানিয়েছে।
ঝিনাইদহ র‌্যাব-৬ এর ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক এএসপি গোলাম মোর্শেদ জানান, রাত আনুমানিক ২টার দিকে নরেন্দ্রপুর নামক স্থানে তাদের একটি টহল টিম চেকপোস্ট বসিয়ে দায়িত্ব পালন করছিল। সে সময় ওই স্থান দিয়ে একটি মোটরসাইকেলে ২ থেকে ৩ জন লোক ঘটনাস্থলে যাওয়ার সময় র‌্যাব তাদের গতিরোধ করে। এসময় তারা র‌্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। র‌্যাবও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায়। গোলাগুলির শেষে অন্যরা পালিয়ে গেলেও ঘটনাস্থলে সব্দুলের লাশ পড়ে থাকে।
যদিও নিহতের ভাই আতিয়ার মণ্ডল বলেছেন, শনিবার বিকালে বাড়ির পাশে শসা ক্ষেতে কাজ করার সময় তাকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়।
ছাগলনাইয়া (ফেনী) প্রতিনিধি জানান, ছাগলনাইয়ায় পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে আলমগীর হোসেন (৩২) নামের এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে। পুলিশ জানায় সে উপজেলার চিহ্নিত ইয়াবার ডিলার। রোববার রাত দেড়টার দিকে উপজেলার পাঠাননগর ইউনিয়নের পশ্চিম পাঠান নগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাত ১টার দিকে ওই এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। পুলিশের কাছে খবর আসে বড় ধরনের একটি মাদকের চালান বিক্রি হবে। এ সময়ে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক ব্যবসায়ী আলমগীর ও তার দল পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে, পুলিশও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি ছোড়ে। এক পর্যায়ে মাদক ব্যবসায়ীরা পালিয়ে গেলে পুলিশ আলমগীরকে আহত অবস্থায় সেখান থেকে উদ্ধার করে। পরে ফেনী আধুনিক সদর হাসপাতালে নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এসময় পুলিশ একটি বন্দুক, ৩ রাউন্ড গুলি, ১শ’ বোতল ফেনসিডিল ও ১ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করে। ছাগলনাইয়া থানার পরিদর্শক (ওসি) এম মোর্শেদ পিপিএম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, নিহত আলমগীরের বিরুদ্ধে ছাগলনাইয়া থানায় বিভিন্ন অভিযোগে ৯টি মামলা রয়েছে। সে উপজেলার চিহ্নিত ইয়াবার ডিলার ও ফেনসিডিল ব্যবসায়ী। সে পাঠাননগর ইউনিয়নের পূর্ব পাঠানগড় এলাকার আবদুস সালাম ভূঁইয়ার ছেলে।
পলাশ (নরসিংদী): নরসিংদী ও পলাশের শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ইমান আলী (২৮) র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। সোমবার ভোরে ঘোড়াশাল পৌর এলাকার খালিসকার টেক গ্রামে তার বাড়ি সংলগ্ন মাঠে এ ঘটনা ঘটে। বন্দুকযুদ্ধের পর একটি বিদেশি পিস্তল ও বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় র‌্যাবের দুই সদস্য আহত হয়েছে বলে র‌্যাব দাবি করেছে। র‌্যাব- ১১-এর কোম্পানি কমান্ডার মো. জসিম উদ্দিন জানান, ঘোড়াশাল পৌর এলাকার খালিসকারটেক এলাকায় ইয়াবার একটি বড় চালান আদান-প্রদান হচ্ছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালানো হয়। এ সময় ইমান আলীর সঙ্গে তার কয়েকজন সহযোগী উপস্থিত ছিল। পরে র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়ে আতঙ্ক তৈরি করার চেষ্টা করে। এ সময় র‌্যাব পাল্টা গুলি ছুড়লে ইমান আলী গুলিবিদ্ধ হয়। বাকিরা পালিয়ে যায়। ইমান আলী ঘোড়াশাল খালিসকারটেক গ্রামের মিলন মিয়ার ছেলে। তার বিরুদ্ধে পলাশ ও নরসিংদী থানায় হত্যাসহ বিস্ফোরক, অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একাধিক মামলা রয়েছে।
স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী থেকে জানান, রাজশাহীতে মাদকবিরোধী অভিযানের মধ্যে র‌্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে একজন নিহত হয়েছে। নিহত লিয়াকত আলী মণ্ডলের বাড়ি পুঠিয়া থানার নামাজগ্রাম এলাকায়। তিনি ওই এলাকার ‘চিহ্নিত মাদক কারবারি’ এবং তার বিরুদ্ধে থানায় মাদক আইনে সাতটি মামলা রয়েছে বলে র‌্যাব-৫ এর উপ-অধিনায়ক মেজর আশরাফুল ইসলামের ভাষ্য। তিনি বলছেন, রোববার রাত সাড়ে ১২টার দিকে বেলপুকুর থানার ক্ষুদ্র জামিরা এলাকায় মাদক চোরাকারবারিদের সঙ্গে র‌্যাবের গোলাগুলির ওই ঘটনা ঘটে। র‌্যাবের একটি টহল দল ওই এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে গেলে মাদক ব্যবসায়ীরা গুলি করে। তখন র‌্যাবও পাল্টা গুলি চালায়। এ সময় লিয়াকত মোটরসাইকেল নিয়ে পালাতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়; অন্যরা পালিয়ে যায়। পরে গুলিবিদ্ধ লিয়াকতকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন বলে জানান মেজর আশরাফুল। এদিকে নিহত লিয়াকতের পরিবার জানিয়েছে, শনিবার দুপুর থেকে লিয়াকত নিখোঁজ ছিলেন। পরে রাতে তারা খবর পান লিয়াকত বন্দুকযুদ্ধে মারা গেছেন।

চুয়াডাঙ্গা: চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে মাদক মামলার এক আসামি পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছে। রোববার রাত ৩টার দিকে জীবননগর উপজেলার উথলী গ্রামে ‘বন্দুকযুদ্ধের’ ওই ঘটনা ঘটে বলে জীবনননগর থানার ওসি মাহমুদুর রহমান জানান। তিনি বলেন, নিহত জোনাব আলী উথলী গ্রামের মহসিন আলীর ছেলে। তার বিরুদ্ধে মাদক আইনের একাধিক মামলা থাকায় তাকে গ্রেপ্তার করতে ওই গ্রামে অভিযানে যায় পুলিশ। পুলিশ জীবননগর সন্ন্যাসীতলায় পৌঁছালে জোনাব আলী পুলিশের দিকে গুলি করে। পুলিশও আত্মরক্ষার জন্য পাল্টা গুলি চালায়। এক পর্যায়ে মাদক ব্যবসায়ী জোনাব আলী পুলিশের গুলিতে নিহত হয়।

স্ট গাজীপুর ও টঙ্গী:গাজীপুরের টঙ্গীতে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে একজন নিহত হয়েছে, যার বিরুদ্ধে থানায় মাদক পাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগে ১৪টি মামলা রয়েছে। নিহত রেজাউল ইসলাম রনি ওরফে বেস্তি রনি (২৭) টঙ্গীর এরশাদনগরের ৩ নম্বর ব্লকের হাফিজুল ইসলামের ছেলে। রোববার রাত সোয়া ৩টার দিকে টঙ্গীর নিমতলী মাঠ এলাকায় গোলাগুলিতে রনি নিহত হন বলে টঙ্গী থানার ওসি মো. কামাল হোসেনের ভাষ্য। তিনি বলেন, মাদক কেনাবেচার খবর পেয়ে পুলিশ রাতে ওই এলাকায় অভিযানে যায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পরে পুলিশও পাল্টা গুলি ছুড়লে রনি গুলিবিদ্ধ হয়। অন্যরা পালিয়ে যায়। এ সময় তাদের ধরতে গিয়ে দুই পুলিশ সদস্য আহত হন।

টাঙ্গাইল: টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে র‌্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে আবুল কালাম আজাদ খান নামক এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে। রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। তবে নিহতের পরিবারের দাবি শনিবার তাকে মোটর সাইকেলযোগে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিলো।

র‌্যাব-১২ এর তিন নম্বর কোম্পানী কমান্ডার মেজর মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম জানান, রোববার রাতে গোপন সংবাদে তারা জানতে পারেন ঘাটাইল উপজেলার দেওলাবাড়ী এলাকায় সোহরাব চেয়ারম্যানের ইটভাটায় কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ী অবস্থান করছেন। এ খবরের ভিত্তিতে র‌্যাবের একটি দল সেখানে অভিযান চালাতে যায়। র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে সেখানে অবস্থানরত মাদক ব্যবসায়ী দলটি র‌্যাব সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি বর্ষণ শুরু করে। এসময় র‌্যাবও পাল্টা গুলি করে। ১০/১৫ মিনিট পাল্টাপাল্টি গুলি বিনিময়ের পর মাদক ব্যবসায়ীরা পিছু হটে যায়। পরে ওই ইটভাটার চিমনীর পশ্চিম পাশে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় এক ব্যক্তিকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। তাকে উদ্ধার করে রাত সাড়ে ১২টার দিকে চিকিৎসার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হয়। এসময় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

 
 
 

এই বিভাগের আরও সংবাদ

 

ক্যালেন্ডার