আজকে

  • ২রা কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
  • ১৭ই অক্টোবর, ২০১৮ ইং
  • ৭ই সফর, ১৪৪০ হিজরী
 

সোশ্যাল নেটওয়ার্ক

ওমেন, ওয়ার এন্ড দি মেকিং অফ বাংলাদেশ

Published: শনিবার, এপ্রিল ২১, ২০১৮ ১২:০৮ অপরাহ্ণ    |     Modified: রবিবার, এপ্রিল ২২, ২০১৮ ১:১৩ পূর্বাহ্ণ
 

নজরুল ইসলাম বাসনঃ

 

হার্ড নিকাচস চেয়ার ইন পিস স্ট্যাডিজ এন্ড প্রফেসর অফ হিস্ট্রি এট আরিজেনা স্টেট ইউনিভার্সিটি অধ্যাপক ইয়াসমীন সাইকির ’ওমেন, ওয়ার এন্ড দি মেকিং অফ বাংলাদেশ’ : রিমেম্বারিং ১৯৭১ ’গবেষণা গ্রন্থটি গত বছর প্রথম দিল্লি পরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রকাশিত হয়েছে। আমার অজ্ঞতার জন্য বিনীত ক্ষমা প্রার্থনা করে জানতে চাইছি কতজন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের বিদগ্ধজনেরা এই বইটির কথা শুনেছেন পড়ার কথা জানতে চাইবো না।

আমি জানি ইদানিং বই পড়া তো দূরের কথা সংবাদপত্র পড়ার অভ্যাস একেবারে উঠে যাচ্ছে। বিশেষ করে যাদের পড়ার কথা তারাও পড়েন না। যারা লেখেন তারাও খুব কম পড়েন। তাই লেখতে পড়তে পাঠকরা খুব উৎসাহবোধ করেন না। এসব আমার ব্যক্তিগত মত কেউ এর সাথে একমত হবেন এমন আশা করি না।

যাদের অমৃত বচন প্রতিদিন পত্রিকা, টিভি এবং সভা, সেমিনারে বর্ষিত হয় আর আমাদের যারা জ্ঞান বিতরন করেন সেই সব বুদ্ধিজীবি আর পলিটিক্যাল লীডাররা বই পড়া তো দূরের কথা তারা দৈনিক পত্রিকা পড়েন কি না আমার সন্দেহ আছে। টেলিভিশন চ্যানেল টকশো দেখলে তা বুঝতে অসুবিধা হয় না। দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, সংস্কৃতি ইতিহাস ও ঐহিত্যে নিয়ে তারা কথা বলেন। একদিনের এক টকশো’র কথা পাঠকদের সামনে তুলে ধরি। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল মুক্তিযুদ্ধের সময় গঠিত হয়েছিল ‘পীস কমিটি’ বা ‘শান্তি কমিটি’।

টকশো’র অতিথি এক নেতা শান্তি কমিটিকে বার বার শান্তি বাহিনী বলেছিলেন, উপস্থাপকও শুনছিলেন কিন্তু নেতার ভুল শোধরে দিচ্ছিলেন না। প্রতিপক্ষ অপর নেতা ও জানতেন না শান্তি বাহিনি আর ১৯৭১ সালের শান্তি কমিটির মধ্যে কি তফাৎ, তাই তিনিও চুপ করে বসেছিলেন। এভাবে অনেক ঐতিহাসিক বিষয় খুব হালকা ভাবে নেওয়া হয়। এর মূল কারণ অলস মানসিকতা। তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে দর্শক বা পাঠককে ফাঁকি দেয়া সম্ভব নয়, মুহুর্তে সঠিক তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে পড়া লেখার চাইতে বক্তৃতা হয় বেশি, বাগাড়ম্বর হয় বেশি। তারপরও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে দেশের লেখকদের অনেক তথ্য নির্ভর আছে। তাছাড়া বিদেশি লেখক ও গবেষকদেরও বেশ কিছু লিখা আছে। সম্প্রতি হার্ড নিকাচস চেয়ার ইন পিস স্ট্রাডিজ এন্ড প্রফেসর অফ হিস্ট্রি এট আরিজেনা স্টেট ইউনির্ভাসিটি গবেষক ইয়াসমীন সাইকির ”ওমেন, ওয়ার এন্ড দি মেকিং অফ বাংলাদেশ” নামে একটি গবেষণা গ্রন্থে ১৯৭১ সালের যুদ্ধে নারী ধর্ষণের অধ্যায়টি তুলে এনেছেন বিশ্ববাসীর কাছে। ধুলি ধুসরিত এই অধ্যায়টিতে দিন দিন ধুলার আস্তরণ বাড়ছে। অধ্যাপক ইয়াসমীর সাইকি ধুলার আস্তরন সরাতে পারেননি তবে বিশ্ব -মানবতার কাছে এক জঘন্য মানবতা বিরোধি অপরাধের ইতিহাস তুলে ধরেছেন।

সম্ভবত একযুগ আগে আরিজোনা স্টেট ইউনির্ভাসিটির প্রফেসর ইয়াসমিন সাইকি ঢাকা গিয়েছিলেন। ইয়াসমিনের বাবা ৭০ দশকে আসাম থেকে পড়তে গিয়েছিলেন ঢাকা ভার্সিটিতে। প্রাচ্যের অক্সফোর্ড তখন ঢাকা ভার্সিটি। অধ্যাপক ইয়াসমিন জনকের মুখে অনেক কথা শুনেছেন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের। বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের সুতিকাগার এই বিশ্ববিদ্যলায়, ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত প্রতিটি আন্দোলনের ভ্রুণ জন্ম নেয় এই বিশ্ববিদ্যালয়ে। যদিও ঐতিহাসিক ডাকসু আজ নীরব নিথর। বটতলা আজ কথা বলে না, মধুর কেন্টিস থেকে মিছির বের হয় না। সমুদ্রের উত্থাল তরঙ্গের মত যে ডাকসু সেই ডাকসু আজ তালাবদ্ধ। শিক্ষা ও সংস্কৃতির অঙ্গনে কত সৃষ্টিশীল কর্মকান্ডের জন্ম হয়েছে মধুর কেন্টিনের আঙিনায় তাও আজ শুধু ইতিহাস। নষ্ট আর নব্য বেনিয়ারা কিনে নিয়েছে মেধাবি তারুণ্যের মেধা। তারপরও কালজয়ী ইতিহাসের সাক্ষি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অনেকের কৌতুহলের বিষয়।

এই রকম এক কৌতুহলের বষিভুত হয়ে জনকের বিদ্যানিকেতন দেখতে গিয়েছিলেন অধ্যাপক ইয়াসমিন সাইকি। ঢাকায় গিয়ে বিদগ্ধ এই শিক্ষাবিদ ’ধর্ষণ ১৯৭১’ নামের কঠিন এক বাস্তবতার সাথে পরিচিত হলেন। ১৯৭১ সালে যুদ্ধে বাংলাদেশে ধর্ষিত হয়েছে নারী, এরা কোথায়। এদের ছেলে-মেয়েরা কোথায় রাষ্ট্র কি করেছে এদের জন্য? কেন তারা মিলিটারি ও তাদের দোসরদের অত্যাচারের শিকার হল? ইয়াসিন আরো জানালেন ১৯৭১ এর যুদ্ধে বিহারি নামের একটি সম্প্রদায় মিলিটারিদের সহায়তা করার অপরাধে নির্যাতিত হয়েছে।

রাষ্ট্রহারা হয়েছে সংখ্যালঘু এই বিহারি সম্প্রদায়। খোদ রাজধানী ঢাকা শহরের মীরপুরের ক্যাম্প ’জেনেভা’ নামের মানব খাচায় বসবাস করছে কয়েক লাখ বিহারি চারযুগ ধরে। অনুসন্ধিৎসু গবেষক অধ্যাপিকা ইয়াসমিন পদির্শন করতে গেলেন ’জেনেভা ক্যাম্প’ নামের খরচা। কথা বলতে চাইলেন ক্যাম্পের বাসিন্দা একজন মহিলার সাথে। কিন্তু মহিলা উত্তেজিত হয়ে বকাঝকা শুরু করলেন, ইয়াসমিন যখন উর্দুতে কথা বলতে শুরু  করলেন তখন মহিলা নরম হলেন এবং কথা বলতে শুরু করলেন। তুলে ধরলেন তার জীবনের করুণ কাহিনী, সব হারানোর কাহিনী। ১৯৪৭ সালে বিহার ও উত্তর প্রদেশ থেকে পূর্ব পাকিস্তান নামে মুসলিম দেশে এসেছিল বিহারিরা সবসতি গড়ার আশায়। ঢাকা, রাজশাহী, রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ব্যবসা-বাণিজ্য করতো তারা। ১৯৭১ সালে বিহারিরা পাকিস্তানীদের দোসর হয়ে বাঙালিদের উপর নির্যাতন চালাতে সহযোগিতা করলো। দেশ স্বাধীন হবার পর বিহারীরা আবার রাষ্টহীন নাগরিক হয়ে পড়লো। পাকিস্তানে ফেরত যেতে চাইলো বিহারিরা কিন্তু পাকিস্তান সরকার তাদের ফেরত নেয়নি আজও, তাই বিহারীরা তিন জেনারেশন ধরে রাষ্ট্রহীন নাগরিক হয়ে ঢাকা ও জেনেভা ক্যাম্পে মানবেতর জীবনযাপন করছে। প্রফেসর ইয়াসমিন যখন তার গবেষণা কাজ চালাচ্ছিলেন তখন তার কাছে তারা প্রশ্ন রেখেছে আগের প্রজন্মের কারো কৃতকর্মের জন্য নতুন প্রজন্মের সন্তানরা কেন ভুক্তভোগী হবে?

 

’ক্যাম্প জেনেভা’ থেকে প্রফেসর ইয়াসমিনের গবেষণা এগিয়ে গেছে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে যুদ্ধের বলি নারী ধর্ষণের বিষয়ে। পাকিস্তানি মিলিটারি এবং তাদের দোসররা বাঙালি নারীদের ধর্ষণ করেছে নির্বিচারে এরা হিন্দু না মুসলমান মিলিটারি তা বিবেচনা করেনি। কেন তারা এই জঘন্য কাজটি করেছে? এর উত্তর পাওয়া সহজ নয় এটা অধ্যাপক ইয়াসমিন বলেছিলেন। তবে নারী ধর্ষনের মাধ্যেমে পাকিস্তানি মিলিটারি তাদের পৌরুষত্ব আর ক্ষমতা প্রদর্শন করতে চেয়েছে। ধর্ষিত বাঙালী নারীরা অতীতের সাথে তাদের কোন যোগাযোগ না রাখে বীভৎস স্মৃতি নিয়ে যেন তারা বাকি জীবন আধারে অতিবাহিত করে। ৪ দশক পরে ইয়াসমিন সাইকি তার ওমেন, ওয়ার এন্ড সি মেকিং অফ বাংলাদেশ: রিমেম্বারিং ১৯৭১ গবেষণা গ্রন্থটিতে তিনি দেখিয়েছেন ধর্ষিত নারীরা ইতিহাসের আধারেই রয়ে গেছেন, তারা তাদের নির্যাতনের কথা জানাতে চান না। এখানেই মিলিটারি এবং তাদের দোসরদের নির্যাতন সফল হয়েছে।

 

স্বাধীন রাষ্ট হিসেবে বাংলাদেশের অনেক সীমাবদ্ধতা ছিল তাই ঐ সব ধর্ষিত মহিলাদের আলোতে আনার ব্যাপারে পর্যাপ্ত ভুমিকা নিতে পারেনি রাষ্ট্র। পক্ষান্তরে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই জঘন্য ঘটনা যাতে বিস্তৃতির অতল তলে তলিয়ে যায় সেই রাষ্ট্র করেছে। ১৯৭১ সালে মিলিটারি এবং তার দোসরদের হাতে যারা সম্ভব হারিয়েছিলেন ১৯৭২ সালে তাদের বীরাঙ্গনা আখ্যা দেয়া হয়েছিল এবং তাদেরকে রাখা হয়েছিল নারী পূর্নবাসন কেন্দ্রে। কালের স্রোতে এসব নারী পুনবার্সন কেন্দ্রের অস্তিত্ব ও এখন হারিয়ে গেছে। মহিলা মন্ত্রনালয়ে ধর্ষিতদের ছবি, ধর্ষণের পুলিশ রিপোর্ট, মেডিকেল রিপোর্ট, টিঠিপত্র বা দলিলপত্র কিছুই পাওয়া যায় না। জেলা থেকে রাজধানী ঢাকার মহিলা মন্ত্রনালয়ের কোন কক্ষে ধুলির আস্তরনের নীচে চাপা পড়ে গেছে শত ধর্ষণের কাহিনী। ইনসানিয়াত বা মানবতার এই পরাজয়কে রাষ্ট পরিচালনাকারীরা নির্মমভাবে অবহেলা করেছে। শুধু তাই নয় মুক্তিযুদ্ধ নিহতদের এবং ক্ষতিগ্রস্থদের ব্যাপারেও নির্দয় রাজনীতি করা হয়েছে। পলিটিক্যাল স্কোর করার জন্য বিষয়টি বেছে নেয়া হয়েছে।

 

২০০৮ সালের ৪ঠা এপ্রিল ’ওয়ার ক্রাইম ফ্যক্টস ফাউন্ডিং’ কমিটির এক তদন্ত রিপোর্টের উপর ঢাকার ডেইলি স্টার এক রিপোর্ট ছাপে, এতে বলা হয়েছে ঐ সংগঠন ১,৫৯১ জন যুদ্ধাপরাধীর নাম তালিকাভুক্ত করেছে। এদের বিরুদ্ধে হত্যা, ধর্ষণ, লুঠতরাজ ও অগ্নি সংযোগের অভিযোগ রয়েছে। ৩৬৯ জন পাকিস্তানি মিলিটারি, ১,১৫০ আলবদর, রাজাকার. আল শামস্ ও শান্তি কমিটির সদস্য এবং ৭৮ জন বিহারির নাম ওয়ার ক্রাইম ফ্যাক্স ফাইন্ডিং কমিটি তাদের তালিকায় অন্তভুর্ক্ত করেছে। গবেষক ইয়াসমিন সাইকা তার গবেষণা গ্রন্থে ভারতীয় বাহিনী এবং মুক্তিবাহিনীর অত্যাচারের কথা কেন তালিকাভুক্ত করা হয়নি এর কারণ হিসেবে বলেছেন, এদেরকে সংগত করনেই তদন্তের বাইরে রাখা হয়েছে। ১৯৭১ সালে প্রথম ছিল সিভিল ওয়ার বা গৃহযুদ্ধ নিরস্ত্র পূর্ব-পাকিস্তানিদের উপর সশস্ত্র আক্রমণ। একপর্যায়ে তা ইন্ডিয়া ও পাকিস্তানের যুদ্ধে রুপ নেয়। পাকিস্তান পরাজিত হয়। পূর্ব পাকিস্তানে তাদের ৯৩ হাজার সেনাবাহীনির লোক আত্ম-সমর্পন করে। বাংলাদেশ স্বাধীনতা পায়। ইয়াসমিন সাইকিয়া বলেছেন, মিলিটারির এই যুদ্ধে পরাজিত হল মানবতা, হিন্দু -মুসলমান এবং বিহারি নারীকে হারাতে হলো তাদের ইজ্জত ইনসানিয়াত বা মানবতা পরাজিত হল।

নতুন রাষ্ট বাংলাদেশ ভুলে যেতে লাগল ইজ্জত হারানো নারীদের, পশ্চিমা-বিশ্ব জানতো না এসব সম্ভ্রম হারানো নারীদের কথা। ১৯৭৫ সালে সুসান ব্রাউন মিলার নামে একজন পশ্চিমা লেখক এগেইনস্ট আওয়ার উইল মেন: ’ওমেন এন্ড রেপ’ গ্রন্থটি লেখার পর পশ্চিমা বিশ্ব একটু একটু করে জানল ইতিহাসের ধুলি-ধুসরিত ধর্ষণের এই অধ্যায়ের কথা। অধ্যাপক ইয়াসমিন সাইকি গবেষণার তথ্য উপাত্ত সংগ্রহের জন্য জাতীয় যাদুঘরে গিয়েছিলেন, তিনি তার গবেষণা গ্রন্থে বলেছেন জাতীয় যাদুঘরে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বলতে ১৯৭২ সালে প্রকাশিত পত্র-পত্রিকার কাটিং এবং জাতির জনক এবং আওয়ামীলীগ সংগ্রামের খবর পাওয়া যায়। তিনি উল্লেখ করেছেন বাংলাদেশে শেখ মুজিব এবং জিয়াকে বড় করে দেখানোর একটি প্রতিযোগীতা দৃশ্যমান। কিন্তু ইতিহাস তো কোন ব্যক্তির উপর রচিত হয় না, ইতিহাস রচিত হয় জাতির সংগ্রাম এবং আন্দোলনের উপর, ব্যক্তি সেখানে মুখ্য নয়। মানব ও মানবজাতিকে নিয়ে রচিত হয় ইতিহাস, ব্যক্তিকে নিয়ে নয়।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে মেজর রফিক, এন্থনি ম্যাসকারনেস, জেনারেল জ্যাকব, পাকিস্তানের মেজর সিদ্দিক সালিক, নিয়াজি প্রমুখরা লিখেছেন। ইন্ডিয়ার একজন গবেষক শর্মিলা বসুও গবেষণা করেছেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বই লিখেছেন দীক্ষিত। ১৯৭১ সালের যুদ্ধের মুল চরিত্র ইন্দিরা, ভুট্টো ও মুজিব। উপমহাদেশের রাজনীতির নাট্যমঞ্চে গোরস্থান থেকে ও এই তিন চরিত্র কুলাকুশলীদের প্রভাবিত করে আসছেন। সেই অন্য প্রসংগ।

বাংলাদেশ এমন একটি সৌভাগ্যবান দেশ , যে দেশের মানুষ ১৯৭১ সালে বিশ্বের আধুনিক এক সশস্ত্র বাহিনীকে পরাজিত করল। এই দেশের মানুষই আবার ১৯৯০ সালে বাঙালি জেনারেল এরশাদকে গণ অভ্যুত্থানের মাধ্যেমে উৎখাত করল। তবে এসব রাষ্ট্রিয় পট -পরিবর্তনে কিছু ব্যক্তি লাভবান হয়েছেন, কিন্তু জাতি কি পেয়েছে? এ প্রশ্ন এখন উঠতে শুরু করেছে। এখনো মুক্তিযোদ্ধা, পঙ্গু-মুক্তিযোদ্ধাদের করুণ কাহিনী মিডিয়ায় আসে প্রতিনিয়ত রাষ্ট চক্ষু মেলিয়া জীবিত মুক্তিযোদ্ধাদের এই চিত্র দেখে না, তাদের পরিবারের প্রতি রাষ্ট্র কি দায়িত্ব পালন করবে এটা ক্ষমতাসীমনদের আন্তরিকতার মধ্যে পড়েনা। এই লেখাটি শেষ করতে চাই এভাবে অধ্যাপক ইয়াসমিন সাইকিয়ার কথা দিয়ে। তিনি এক জায়গায় লিখেছেন, দিনাজপুরে যেখানে সবচাইতে বেশি নারী নির্যাতিত হয়েছিলেন সেখানকার এক মহিলা দফতরে গিয়ে ধর্ষিত মহিলাদের সম্পর্কে কিছু তথ্য জানতে চান। সেখানকার কর্মকর্তারা বল্লেন, এসব গোদামে সংরক্ষিত আছে, তবে এগুলো বের করে আনা যাবে না, কারণ এগুলোর উপর ধুলো বালির অঅস্তরন পড়েছে বা পোকা কেটে ফেলেছে। আর তাদের প্রতি নিষেধ আছে এই তথ্যগুলো যাতে না দেয়া হয়।

রাষ্ট্র ধর্ষিত নারীদের প্রতি এই দায়িত্বটুকু অন্তত পক্ষে পালন করেছে, যে তাদের ইজ্জত হারানোর কাহিনী ধুলোর আবরনে লুকিয়ে রাখতে পেরেছে। আর রাজনৈতিক দলগুলো স্বাধীনতা মুক্তিযুদ্ধ আর মা-বোনের ইজ্জত হারানোর গল্পকে পুঁজি করে রাজনীতির বেসাতি করতে পারছেন। ইয়াসমিন ভারত- পাকিস্তান বা বাংলাদেশের মিলিটারি একাডেমিও একাত্তরের ধর্ষিত নারীদের ব্যাপারে নিশ্চুপ থাকার ঘটনাটির কথা উল্লেখ করেছেন। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরাও এই দিকটি এড়িয়ে গেছেন। যার কারণে ইনসানিয়ৎ বা মানবেতর পরাজয়কে অগোচরে মেনে নেয়া হচ্ছে, ধুলোর আবরনে ঢাকা পড়বে শত শত ধর্ষিতার চাপা কান্না।

 

লেখকঃ সাংবাদিক/ কলামিষ্ট/গবেষক

লন্ডন

 
 
 

এই বিভাগের আরও সংবাদ

 

ক্যালেন্ডার