আজকে

  • ১লা ভাদ্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
  • ১৬ই আগস্ট, ২০১৮ ইং
  • ৪ঠা জিলহজ্জ, ১৪৩৯ হিজরী
 

সোশ্যাল নেটওয়ার্ক

আপন দৃষ্টি:আব্দুল মালিক

Published: শনিবার, এপ্রিল ১৪, ২০১৮ ১১:৫১ পূর্বাহ্ণ    |     Modified: রবিবার, এপ্রিল ১৫, ২০১৮ ১:২৪ পূর্বাহ্ণ
 

 

আব্দুল মালিক: গ্রেটার সিলেট ডেভলাপমেন্ট এন্ড ওয়েলফেয়ার কাউন্সিলের নির্বাচন দেখার পরও কি ওল্ডহ্যাম বাংলাদেশ এসোসিয়েশনের শিক্ষা হবে না ? এই ব্যাপারে অতীতে অনেক লেখালেখির পরও যাদের টনক নড়ে নাই, আমি জানি না ভবিষ্যতেও তাদের টনক নড়বে কি না। তবে আমি লিখে যাব। কারণ, ভয় আর লোভ লালসা কি জিনিষ আমি জানিই না। আমার এক হাতে আছে কলম নামক তলোয়ার , আর আরেক হাতে আছে ঢাল নামক কাগজ, সুতারাং অন্যায়, অত্যাচার, জুলুম আর স্বার্থান্বেষী মহলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আমার কোন অসুবিধা নেই।
সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বাঙ্গালিরা যেখানেই আছে সেখানেই গড়ে তুলেছে এক খন্ড বাংলাদেশ। সেই সাথে বাঙ্গালীদের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য গঠিত হয় বাংলাদেশ নামক সংগঠন। এসব সংগঠনে যারা প্রতিনিধিত্ব করেন তারা অবশ্যই সমাজের গণ্যমান্য ব্যাক্তি বর্গ এবং গণতান্ত্রিক ভাবে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে নির্বাচিত হয়ে সংগঠন পরিচালনা করেন। তারা সব সময় জনগণের সম্মানের আসনে  অধিষ্ঠিত থাকেন কিন্তু আজ ২০টি বৎসর ধরে ওল্ডহ্যাম বাংলাদেশ এসোসিয়েশন নামক জনগণের সংগঠনকে দখল করে বসে আছেন এক গুষ্টি। কিসের স্বার্থে ? তাদের পিছনে ও সামনে মানুষ। এই এসোসিয়েশন নিয়ে অনেক কথা বলাবলি করে কিন্তু তাদের একটুও শরম লজ্জা নেই। স্বাধীনতার পর ওল্ডহ্যামের বাঙ্গালীদের প্রতিনিধিত্বকারী এই সংগঠনের অনেক অবদান ছিল। প্রতি দু বছর পর পর গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতেই কখনও সিলেকশন আবার কখনও ইলেকশনের মাধ্যমে জনগণ তাদের পছন্দের প্রতিনিধি নির্বাচন করেছে। ওল্ডহ্যামের সেই প্রবীণ গুণী জন মরহুম আলহাজ্ব মখসুদ আলী, মরহুম আলহাজ্ব মোবাশ্বির খান ও মরহুম আলহাজ্ব সমুজ মিয়া ব্যাক্তি স্বার্থের উর্ধে থেকে এই সংগঠনের নির্বাচনের মাধ্যমে তারা প্রতিনিধিত্ব করে সাধারণ মানুষের সেবা করে গেছেন। এই সংগঠনের একটি নিজস্ব ভবন ছিল।যার দেয়ালে বাংলায় লেখা ছিল, “বাংলাদেশ কালচারাল সেন্টার”। এই লেখা টুকুই ছিল বাঙ্গালীর গর্ব আর অহংকার। ওয়েস্ট উড এডভাইস সেন্টারের মাধ্যমে সর্বস্তরের বাঙ্গালীরা বেনিফিট ও ইমিগ্রেশন সহ বিভিন্ন ধরনের সেবা পেয়েছেন। কিন্তু সেই ১৯৯৮ সালে নির্বাচন পর কোন এক অশুভ শক্তির ক্ষমতাবলে বাঙ্গালীর এই প্রাণের সংগঠনকে নিজস্ব ব্যাবসার মত দখল করে বসে আছেন এক পক্ষ। ক্ষমতার জুরে সেই অশুভ শক্তির কাছে বিক্রি করা হল বাঙ্গালীর নিজস্ব ভবন। মুছে ফেলা হল, মায়ের ভাষা বাংলায় লেখা “বাংলাদেশ কালচারাল সেন্টার”। বন্ধ করা হল শেরে বাংলা প্রাইমারী স্কুল। আমার অবাক লাগে যখন দেখি একদিকে বাংলা স্কুল বন্ধ করে নতুন প্রজন্মদের বাংলা ভাষা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত করেন। আবার ২১শে ফেব্রয়ারীতে শহীদ মিনারে ফুল শ্রদ্ধা জানানো এবং নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য সবার আগে। সমাজে যাদের একটু আক্কেল জ্ঞান আছে তারাও ভাল করে বুঝেন এগুলু কি? আজ কেউ জানে না কোথায় হারিয়ে গেল সেই সেবামুলক প্রতিষ্টান অয়েস্ট উড এডভাইস সেন্টার। যদি আজ বেছে থাকতেন সেই তিন জন কিংবদন্তী, মরহুম আলহাজ্ব মখসুদ আলী, মরহুম আলহাজ্ব মোবাশ্বির খান ও মরহুম আলহাজ্ব সমুজ মিয়া, তবে অনেক আগেই গর্জে উঠত তাদের সেই ব বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর, জাগিয়ে তুলতেন ওল্ডহ্যামের আধমরাদের, জনগণকে সাথে নিয়েই ভেঙ্গে দিতেন বিশ বৎসরের দখলদারদের অশুভ শক্তির কালো হাতকে। গুণে ধরা এই সমাজ আবার ফিরে পেত তাদের নতুন প্রাণ। তবে আমার বিশ্বাস ওল্ডহ্যামের বাঙ্গালীরা একদিন জেগে উঠবে, দখল মুক্ত হবে জনগণের প্রাণের সংগঠন, “ওল্ডহ্যাম বাংলেদেশ এসোসিয়েশন”। হয়ত সেদিন সম্মানের বদলে ধিক্ষার জানাবে এই দখলদারদের।

লেখক: কলামিষ্ঠ ও সমাজকর্মী

ওল্ডহাম।

 
 
 

এই বিভাগের আরও সংবাদ

 

ক্যালেন্ডার

    আগষ্ট ২০১৮
    রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
    « জুলাই    
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০৩১