আজকে

  • ৩রা আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
  • ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
  • ৭ই মুহাররম, ১৪৪০ হিজরী
 

সোশ্যাল নেটওয়ার্ক

প্রেসক্লাবের এজিএম ও স্বাধীনতা দিবস উদযাপন:টকঝালে শুরু, মুরব্বার মধুরতায় সমাপ্ত

Published: শুক্রবার, মার্চ ৩০, ২০১৮ ৮:২৮ অপরাহ্ণ    |     Modified: বুধবার, এপ্রিল ১৮, ২০১৮ ১০:২১ অপরাহ্ণ
 

 

কাইয়ুম আব্দুল্লাহঃ২৭ মার্চ, মঙ্গলবার চমৎকার কিছু আয়োজন ও হার্দিক পরিবেশের মধ্যদিয়ে  সম্পন্ন হলো আমাদের ক্লাবের (লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাব) বাৎসরিক সভা তথা এজিএম ও স্বাধীনতা দিবস উদযাপন। হার্দিক পরিবেশ এজন্যে বলছি যে, এজিএম-এ ক্লাবের বিভিন্ন স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয় ও এর কার্যক্রম নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা সমালোচনা এবং ক্লাবের স্বার্থে বিভিন্ন দাবী-দাওয়া নিয়ে কেউ কেউ খানিকটা উচ্চকণ্ঠ হলেও কেউই কারো বক্তব্যে গো ধরে বসিনি বিধায় এজিএম-এর মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সময় সাপেক্ষ সভা ঘণ্টা দুয়েকের মধ্যেই শেষ হতে পেতে পেরেছে এবং সভার ভেতরেই আমরা আমাদের মান-অভিমান
টিস্যু
পেপারে মুছে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান পর্বে মিলিত হই। বিলেতে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিবর্গের স্মৃতিচারণ শ্রবন এবং তাদের অসাধারণ অবদানের সম্মাননা জানানোর পাশাপাশি সাধারণ সদস্য ও জীবন সদস্যদের স্বতঃস্ফূর্ত ভিড়ে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও সুস্বাদু ভুড়িভোজ শেষে একটি নির্মল আনন্দ নিয়ে যে যার মতো ঘরে ফিরি। আমাদের ক্লাবের এই চিরায়ত ঐতিহ্য এটা একদিনে গড়ে ওঠেনি। এর পেছনে ক্লাব প্রতিষ্ঠা থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত চলা সবপর্যায়ের নেতৃত্বের আন্তরিক প্রচেষ্টা ছিলো এবং বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটিও তা ধর রাখতে সক্ষম হয়েছে তাই আমি সাবেক নেতৃবৃন্দসহ বর্তমান নেতৃত্বকে আন্তরিক শ্রদ্ধা ও ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আশা করি ভবিষ্যতেও এই কাক্সিক্ষত পরিবেশ ও আমাদের মধ্যকার পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার বন্ধন অটুট থাকবে।

রসঘন শুরু:
ক্লাব সভাপতি সৈয়দ নাহাস পাশার সভাপতির আসনে বসতে কিছুটা রসালো কথাবার্তা বলে পরিবেশটা শুরুতেই অনেকটা হালকা করে সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ জুবায়েরের পরিচালনায় ছেড়ে দেন। সাধারণ সম্পাদকের বার্ষিক রিপোর্ট এবং ট্রেজারার আ স ম মাসুমের আর্থিক রিপোর্ট পেশের পর যথারীতি শুরু হয় প্রশ্ন পর্ব ও মতামত জ্ঞাপন। এ পর্বে বিভিন্ন পরামর্শ সুপারিশ ওঠে আসার পাশাপাশি বিগতের দিনের কিছু কর্মকা- ও সিদ্ধান্ত নিয়ে কিছুটা টকঝাল কথাবার্তার অবতারণা হলেও ক্লাবের বৃহৎ স্বার্থে ক্ষান্ত দেওয়ার মানসিকতায় সেটির সুন্দর পরিসমাপ্তি হয়েছে। নতুবা সেটি তর্কবিতর্কে বহুদূর গড়াতো।
মনে মনে পরিকল্পনা করে গিয়েছিলাম কিছু বলবো না শুধু আয়েশে বসে সব উপভোগ করবো। কিন্তু বাস্তব কারণে কিছু বলতে হয়েছে, এতে কেউ কষ্ট পেলে আমি ক্ষমা প্রার্থী। কারণ আমি বিশ্বাস করি, শুধু শুধু তোষামোদ করা যেমন পজেটিভনেস নয়, কোনকিছুর ঘটনমূলক সমালোচনাও নেগেটিভ হতে পারে না। সেটি হলে ক্রিটিসিজম বলে কিছু থাকতো না। তবে এজিএমের জন্য এতো কম সময় বা অন্য একটি ইভেণ্টের সাথে মিশিয়ে নেয়াটা
ঠিক হয়নি। এজিএমের মতো গুরুত্বপূর্ণ সভা আরো দীর্ঘ সময় নিয়ে করা উচিত। কেউ যদি মনে করেন, ভলাণ্টারি একটি কাজে এতো সময় ব্যয় করার সুযোগ কোথায়? তাদের উদ্দেশ্যে বলবো: তাহলে এধরনের কাজের জন্যে দায়িত্ব না নেয়াটাই কি শ্রেয় নয়? ভলান্টারি হোক বা পারিশ্রামিক, পদবীর কিন্তু দায়িত্ব সমান!
আগেই এজিএমের সম্ভাব্য আলোচ্য বিষয় আশয় লেখালেখি হয়েছে, অনেকে ‘গুরুত্বহীন’ হিসেবে মন্তব্য করেছেন। আমি তখন ভেবেছি গিয়ে দেখি। তবে এধরনের মন্তব্য ও লেখালেখিতে লাভ হয়েছে এই যে, বর্তমান কমিটি গত বিশেষ এজিএমে প্রত্যাখাত বিল্ডিং কমিটিসহ এধরনের কোনো ইস্যুর পুনরাবৃত্তি করেনি। বিষয়গুলো আগেভাগে আলোচনায় নিয়ে আসার জন্য মেহেদি ভাইসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ।

প্রশংসনীয় উদ্যোগ:
শুরুতে এওয়ার্ডস প্রদান শোনে কিছুটা ভিমরি খেয়েছিলাম  এই ভেবে যে, প্রেসক্লাব আবার বহুলভাবে ব্যবহৃত এই সস্তা কর্মকান্ডে জড়ালো কেন? কিন্তু না, সেটি তথাকথিত কোনো এওয়ার্ডস অনুষ্ঠান ছিলো না। সেটি ছিলো সত্যিকার অর্থে সম্মাননা অবশ্য প্রাপ্ত এমন ক’জন গুণী ও দেশপ্রেমীকের মহান কর্মের মূল্যায়ন। এমনিতেই পুরো বছর নানা অনুষ্ঠানের ক্লাব ছিলো সক্রিয় কিন্তু স্বাধীনতা দিবসে আলোচনার নামে কেবল কথার ফুলঝুরি না ফুটিয়ে এমন একটি ব্যতিক্রমী ও গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সব কর্মকান্ডের স্বার্থকায়নে সমর্থ হয়েছে।

সুরের মূর্চ্ছনায় ক্ষুধা বিদূরিত:
মুক্তিযুদ্ধের শ্রদ্ধেয় সংগঠকদের বক্তৃতা, তাদের ক্রেস্ট প্রদানসহ নানা পরিবেশনায় বেশ সময় গড়ায়। এরই মধ্যে অনেকের ক্ষুধা অনুভূতির কথা জানান দিতে শুরু করেন। বিষয়টি জনাব সভাপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি জানালেন, খেতে খেতে গানে শিল্পীদের আপত্তি। এটা অবশ্য যৌক্তিক। লোকজন খাবারে মগ্ন থাকলে শিল্পীরা কার জন্য কষ্ট করে গাইবেন। বেশী বাস্তববাদীদের কাছে আসলে গান, কবিতার গুরুত্ব কম। তাই তারা শুনেন বটে কিন্তু মনযোগ বা মর্যাদা দেওয়ার ক্ষেত্রে আন্তরিক নন। তাই বেশীরভাগ সভাসমাবেশগুলো খাবার ফাঁকে ফাঁকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলে। আমি অবশ্য ভাবছিলাম খেয়েধেয়ে আয়েশে সঙ্গীতের সুর লহরীতে কিছু সময় অবগাহন করবো। যখনই ক্ষুধার বিষয়টি
আমাদের টেবিলে আলোচিত
ঠিক তখন মাইকেও কাকতালীয়ভাবে প্রতিধ্বনিত হলো অভিজ্ঞ উপস্থাপক উর্মি মাজহার। তবে ক্ষুধাসহ যাবতীয় অপ্রাপ্তিকে নিমিষে ভুলিয়ে দেয়। আমাদের সুললিত কণ্ঠের অধিকারী শিল্পীদের সুনির্বাচিত সঙ্গীতের সুর লহরী। তবে সবচেয়ে বেশী মুগ্ধ হয়েছি প্রথমবারের মতো আমাদের সাবেক সেক্রেটারী মুহাম্মদ আব্দুস সাত্তার ভাইর ভরাট কণ্ঠের গান শুনে। সংবাদ পাঠক ও শিল্পী রুপি আমিনের সাথে ডুয়েটে কম যাননি শুধু অভিনয়ে একটু লাজুক মনে হয়েছে। কিন্তু দুনিয়াটা এখন এমন যে, প্রেমেও প্রোফেশনাল হতে হয়।
আর খাবারে তথাকথিত আভিজাত্য না থাকলেও ছিলো সুস্বাদু ও আমাদের পারিবারিক ঐতিহ্যের বনেদি পরিবেশনা। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সচারাচর
টিক্কা-কাবাবের সমাহার দেখে অভ্যস্থ হলেও সেদিন বিরুন ভাতের সাথে সার্ডিনের কম্বিনেশনে স্টাটার্ড পরিবেশন ছিলো প্রকৃত অর্থেইব্যতিক্রম। একইভাবে মুররব্বার ডিজার্ড পারিবারিক পুরনো দিনে ফিরিয়ে নেয়। তা একসময় আমাদের মা-চাচীরাই তৈরীতে করতেন এবং এসবের জন্য তাঁরাই ছিলেন শ্রেষ্ঠ শেফ। তাই এ প্রজন্মের শেফের তৈরী সেই মুরব্বা পুরোপুরি সেরকম না হলেও স্বাদে গন্ধে মজাদার আহার্য।

তবু যা বলতে হয়:
প্রিন্ট মিডিয়ার শুরুই ধুসর পান্ডুলিপি অবলম্বন করে। কখনোই খুব একটা চাকচিক্য ছিলো না তাই অন্তিমে বেশিকিছু হারাবারও নেই। তবে গুরুত্বহীন ভাবার প্রশ্নই আসেনা, বরং প্রকৃত জ্ঞানীও বোধসম্পন্ন মানুষের কাছে এর কদরই আলাদা, যা কখনো ফারাবার নয়। সেদিন স্টেইজে কিছু ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সারম্ভর প্রতিনিধিত্ব থাকলেও প্রিন্ট মিডিয়ার ছিলো না বললেই চলে। অতচ এই ক্লাবের জন্ম প্রিন্ট মিডিয়ার কর্ণধারদের হাত ধরে। তাছাড়া প্রেসক্লাবের সাবেক নেতৃবৃেন্দের তালিকা খুব একটা দীর্ঘ হয়নি যে স্টেজ তাদের ধারণে অক্ষম ছিলো। গত নির্বাচনের রাতেই সেই ঐতিহ্যের মৃত্যু হতে দেখেছি।
আরেকটি বিষয় লক্ষ্য করলাম যে, আমাদের এই প্রিয় ওয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ক্লাবের সবকিছুই শেয়ার হয়। কেবলই এখানে ঘটে যাওয়া কোনো বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষন করলে নেতৃবৃন্দ অবলীলায় বলে ফেলেন এটা ক্লাবের অফিশিয়াল গ্রুপ নয়। আমার প্রশ্ন হলো- সেটিই যদি হবে, এই গ্রুপে ক্লাবের লগো ইউজ হচ্ছে কী করে এবং এর দায়ও এড়াবেন কীভাবে?
তবে শুনে ভালো লেগেছে যে, একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমান সভাপতি সৈয়দ নাহাস পাশা ও সদ্য সাবেক সেক্রেটারি মুহাম্মদ এমদাদুল হক চৌধুরীর মধ্যকার সৃষ্ট ভুলবোঝাবুঝি অনুষ্ঠান শেষে সিনিয়র নেতৃবৃন্দের মধ্যস্থতায় শেষ হয়েছে জেনে।
শত চেষ্টার পরও লেখাটি দীর্ঘ হয়ে গেলো। তাই আজ আর নয়। আমাদের এই সৌহার্দ্যপূর্ণ পথচলা অব্যাহত থাকুক, সেই প্রত্যাশায় …।

বি.দ্র. প্রাত্যহিক ব্যস্ততা এবং উক্ত লেখাটির কারনে গ্রুপে সক্রিয় হতে পারিনি। তাছাড়া ইদানিং স্বেচ্ছায় নিরব থাকার বিষয়টিও বিবেচনাধীন। তথাপি ক্লাব সভাপতির ১৬ (!) বছরে পদার্পনের বিষয়টি এড়ানো যায় কী করে? তাই দেরীতে হলেও হার্দিক শুভেচ্ছা। আমাদের সেক্রেটারি জুবায়ের ভাই ও ট্রেজারার মাসুম ভাই একই সাথে বিবি পাওয়ারে লিস্টেট হওয়ায় তাদের প্রতি অভিনন্দন! আর নবাব ভাইর কথা কী আর বলবো? তাঁর একটি চমৎকার ছবি বেশ ভাইরাল হতে দেখেছি। তবে আমার মনে হয়েছে যেন বাংলার শেষ নবাব রাজ্য হারিয়ে উদাস তাকিয়ে দূরের পানে।
বাকী সবার প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা।

লেখকঃবার্তা সম্পাদক সাপ্তাহিক সুরমা।

সিনিয়র সদস্য, লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাব।

 
 
 

এই বিভাগের আরও সংবাদ

 

ক্যালেন্ডার