আজকে

  • ৩রা কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
  • ১৮ই অক্টোবর, ২০১৮ ইং
  • ৮ই সফর, ১৪৪০ হিজরী
 

সোশ্যাল নেটওয়ার্ক

প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে ভালোবাসায় সিক্ত সত্যবাণী 

Published: বুধবার, মার্চ ৭, ২০১৮ ৭:১২ অপরাহ্ণ    |     Modified: বৃহস্পতিবার, মার্চ ৮, ২০১৮ ১২:৫১ অপরাহ্ণ
 

ইউকেবিডি টাইমস ডেস্কঃ

১৯১৬ সালে প্রকাশিত ব্রিটেনের প্রথম বাংলা সংবাদ পত্র ‘সত্যবাণী’র ঐতিহ্যের উত্তরাধিকার নিয়ে গত বছর শুরু হওয়া সত্যবাণী’র (অনলাইন) প্রথম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী অনুষ্ঠানে কমিউনিটির ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছে সংবাদ মাধ্যমটি। সত্যবাণী পরিবারকে শুভেচ্ছা জানাতে বৃহস্পতিবার বিকেলে ঝুকিপূর্ণ আবহাওয়া উপেক্ষা করে পূর্ব লন্ডনে শাহ কমিউনিটি হলে জড়ো হয়েছিলেন ব্রিটেনের বাংলা মিডিয়ার সাংবাদিক, কবি, সংস্কৃতিকর্মী ও কমিউনিটি নেতাসহ বিপুল সংখ্যক নেতৃস্থানীয় মানুষ। তীব্র তুষারপাত ও প্রচন্ড ঠান্ডা উপেক্ষা করে জড়ো হওয়া এই মানুষগুলো ফুলেল শুভেচ্ছায় অভিষিক্ত করেন বহির্বিশ্বে বাংলা সংবাদপত্রের ঐতিহ্যের স্মারক ‘সত্যবাণী’কে। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জন্মবার্ষিকী উদযাপনের পাশাপাশি আজকের ডিজিটাল সময়ের অনলাইন সংবাদ মাধ্যমের সমস্যা ও সম্ভাবণা নিয়ে আলোচনা করেন সিনিয়র সাংবাদিকরা। 

সত্যবাণী’র উপদেষ্ঠা সম্পাদক, প্রবীন মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক আবু মুসা হাসানের সভাপতিত্বে ও প্রধান সম্পাদক সৈয়দ আনাস পাশার পরিচালনায় অনুষ্ঠিত জন্মবার্ষিকী উদযাপনের এ আলোচনায় ব্রিটেনে বাংলা সংবাদপত্র বিকাশের শত বছরের দীর্ঘ সংগ্রাম সহযোগী ‘কমিউনিটি’র প্রতিনিধি হিসেবে অতিথি হয়ে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সাবেক এমপি, লন্ডন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা, অধুনালুপ্ত সাপ্তাহিক সিলেটের ডাক’র অন্যতম পরিচালক, ব্রিটেনের এক সময়ের শীর্ষ কমিউনিটি নেতা শফিকুর রহমান চৌধুরী। মূল আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও কমনওয়েলথ জার্নালিষ্ট এসোসিয়েশনের সহসভাপতি সৈয়দ নাহাস পাশা ও ব্রিটেনের প্রাচীনতম বাংলা সাপ্তাহিক ‘জনমত’ সম্পাদক, বাংলা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি নবাব উদ্দিন। বার্তা সম্পাদক নিলুফা ইয়াসমীনের স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে শুরু হওয়া উদযাপন আলোচনায় সত্যবাণী পরিবারের সদস্য কন্ট্রিবিউটিং এডিটর আনসার আহমেদ উল্লা, কমিউনিটি করেসপন্ডেন্ট জামাল খান ও আইটি এডিটর রাজিব হাসানও বক্তব্য রাখেন।

আগামীর পথে এগিয়ে চলা সংবাদ মাধ্যমটির উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করে অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন প্রবীন সাংবাদিক ও কবি হামিদ মোহাম্মদ, লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সহসভাপতি মাহবুব রহমান, সাপ্তাহিক সুরমা সম্পাদক আহমেদ ময়েজ, ওয়ানবাংলা.ডট. কমের প্রধান সম্পাদক মোহাম্মদ সোবহান, ব্রিটবাংলার নির্বাহী সম্পাদক আহাদ চৌধুরী বাবু, বাংলা প্রেসক্লাব কমিউনিকেশন সেক্রেটারী ও ইউকেবিডিটাইমস সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম, সাপ্তাহিক দেশ সম্পাদক তাইসির মাহমুদ, জনমতের নির্বাহী সম্পাদক সাঈম চৌধুরী, বাংলা পোষ্ট সম্পাদক তারেক চৌধুরী ও সেভেন্থ মার্চ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান, কমিউনিটি নেতা নুর উদ্দিন আহমদ। কবিতা আবৃত্তি করেন সংস্কৃতিকর্মী স্মৃতি আজাদ।

অনুষ্ঠানে অন্যানের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জনমত’র বার্তা সম্পাদক মোসলেহ উদ্দিন, ব্রিটবাংলা সম্পাদক ও চ্যানেল এস রিপোর্টার কামাল মেহদী, বাংলা প্রেস ক্লাব সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য, চ্যানেল এস রিপোর্টার ইব্রাহিম খলিল, বাংলা প্রেস ক্লাব সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য সালেহ আহমদ,ইউকেবিডি টাইমস এর নির্বাহী সম্পাদক আমিমুল আহসান তানিম,এটিএন বাংলার সালাউদ্দিন শাহীন, পাক্ষিক ব্রিকলেইন সম্পাদক জুয়েল রাজ, সানরাইজ টুডে সম্পাদক এনাম চৌধুরী, এনটিভির হেফাজুল করিম রাকিব, সাংবাদিক শেখ মুহিতুর রহমান, সঙ্গীত শিল্পী মোস্তফা কামাল মিলন, বিশ্ববাংলা.কমের সম্পাদক শাহ মোস্তাফিজুর রহমান বেলাল, সাংবাদিক সৈয়দ জহুরুল হক, কবি হিলাল সাইফ, জিআর সোহেল, ফটো সাংবাদিক খালিদ হোসেন, শাহীন আহমেদ এবং কমিউনিটি নেতা সত্যব্রত দাশ স্বপন, সাবেক কাউন্সিলার শহীদ আলী ও নারী নেত্রী ফাতেমা নার্গিস প্রমূখ।

বক্তারা বিগত এক বছরে পাঠকদের জন্য সত্যবাণী’র নিউজ প্রচারের প্রশংসা করে বলেন, ব্রিটেনের প্রথম বাংলা সংবাদপত্র শতবর্ষী সত্যবাণী’র উত্তরাধিকার গ্রহন করে শুরু হওয়া অনলাইন সত্যবাণী বিগত এক বছরে পাঠকের মন জয় করতে পেরেছে বলেই আজকের এই বিপদজনক আবহাওয়ায়ও উষ্ণ শুভেচ্ছা নিয়ে এখানে জড়ো হয়েছেন অনেকে। 

অতিথি শফিক চৌধুরী সত্যবাণী’র প্রধান সম্পাদকের প্রশংসা করে বলেন, ব্রিটেনে বাংলা সংবাদপত্র জগতের শতবর্ষের ইতিহাস ধরে রাখতে ১৯১৬ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রথম পত্রিকা ‘সত্যবাণী’ অনলাইনে নিয়ে এসে একটি ব্যাতিক্রমী ও ঐতিহাসিক কাজ করেছেন অনলাইনটির সাথে জড়িত ব্যাক্তিরা। কমিউনিটির আজকের সমৃদ্ধ পর্যায়ের পেছনে বাংলা মিডিয়ার অবদানের কথা স্মরণ করে দেশে ফিরে যাওয়া ব্রিটেনের এক সময়ের এই শীর্ষ কমিউনিটি নেতা বলেন, সত্যবাণী এদেশে বাংলা মিডিয়ার ঐতিহ্যের স্মারক। অনলাইনটি প্রবাসী জনগোষ্ঠির ইতিহাস ভবিষ্যতের কাছে নিয়ে যেতে চায়, সত্যবাণীর স্বকিয়তা এখানেই।

লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব সভাপতি সৈয়দ নাহাস পাশা সত্যবাণীকে অভনন্দন জানিয়ে বলেন, ইতিহাসকে ভবিষ্যতের কাছে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে একবছর আগে সত্যবাণী যে যাত্রা শুরু করেছিলো, সেই যাত্রা সফলতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে-কমিউনিটি, সংবাদকর্মী ও পাঠকের কাছে এই মুহূর্তে অনলাইনটির গ্রহনযোগ্যতা দেখে তাই মনে হচ্ছে। লন্ডনে সত্যবাণীসহ অন্যান্য অনলাইন পত্রিকার যাত্রা ইতিবাচক মন্তব্য করে বর্তমান কাট-পেইষ্ট সাংবাদিকতা সম্পর্কেও মন্তব্য করেন বাংলা প্রেস ক্লাব সভাপতি। তিনি বলেন, শুধু অনলাইন নয়, প্রিন্ট মিডিয়াসহ আমাদের সবারই অনেক সীমাবদ্ধতা আছে। নিউজের জন্য অবশ্যই আমাদের বাংলাদেশের পত্রপত্রিকাগুলোর উপর নির্ভর করতে হয়। তিনি বলেন, লন্ডনের প্রিন্ট মিডিয়া যে কাট-পেইষ্টের বাইরে তা আমি বলিনা। তবে দেশের পত্রিকার একটি নিউজ কাট করার পর পেইষ্ট করার আগে যে বেশ কিছু কাজ করতে হয়, এটি আমাদের ভাবতে হবে। প্রেস ক্লাব সভাপতি বলেন, লন্ডন থেকে প্রকাশিত  প্রিন্ট মিডিয়ার পাঠক নির্দিষ্ট একটি ভূখন্ডের, আর অনলাইনের পাঠক সারা পৃথিবীতে। সুতরাং কাট-পেইষ্টে অনলাইনকে প্রিন্টের চেয়েও সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে বেশি। ব্রিটেনের বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে সত্যবাণীর নিজস্ব নিউজের প্রশংসা করে তিনি বলেন,  ব্রিটেনে বাংলা মিডিয়ার ঐতিহ্যের স্মারক পত্রিকাটির উত্তরাধিকার গ্রহন করে গত বছর যাত্রা শুরু করেছিলো যে সত্যবাণী, একটি পাঠকপ্রিয় সমৃদ্ধ অনলাইন হওয়ার চেষ্টা করছে পত্রিকাটি, বিগত এক বছর সত্যবাণীর খবর সরবরাহে তাঁর প্রমান পাওয়া যায়। 

অন্যতম আলোচক জনমত সম্পাদক নবাব উদ্দিন সত্যবাণী’র ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, সত্যবাণী’র লক্ষ্যের দিকে দ্রুত অগ্রসর হওয়ার কারন হলো এই অনলাইনটির পেছনে আছে পুরো একটি সাংবাদিক পরিবার। সম্পাদক সৈয়দ আনাস পাশা, তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তান সবাই সাংবাদিকতা নেশায় আচ্ছন্ন। আপাদমস্তক সাংবাদিক ভ্রমন পিপাসু এই সম্পাদক আমাজন জঙ্গল থেকে তাজ মহলের অভ্যন্তরে যেখানেই থাকুননা কেন তাঁর মোবাইল থাকে স্বক্রিয়। তার কাছে পৌছে যাওয়া প্রতিটি ঘটনা নিউজ আকারে অনলাইনে চলে আসতে নির্দিষ্ট কোন অফিস বা স্থানের প্রয়োজন হয়না। খবর পাওয়ার সাথে সাথেই হলিডে আনন্দ, সামাজিক আড্ডা, পারিবারিক অনুষ্ঠান কোন কিছুই আর এই সাংবাদিককে তাদের নিজস্ব গন্ডিতে আটকে রাখতে পারেনা। তখন মোবাইলই হয়ে ওঠে তাঁর একমাত্র সঙ্গী। 

সত্যবাণী সম্পাদকের এই মোবাইল স্বক্রিয়তা এক বছরে অনলাইন সত্যবাণীর জনপ্রিয়তার অন্যতম একটি কারন বলে মন্তব্য করেন জনমত সম্পাদক। তিনি বলেন, লন্ডনে যেসব অনুষ্ঠানে সত্যবাণী সম্পাদক নিজে উপস্থিত থাকেন, সে সব অনুষ্ঠানের খবর অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার আগেই অনলাইন জগতে চলে আসে, সম্পাদকের নিজের করা প্রতিটি আইটেম হয় পাঠকের জন্য সুখপাঠ্য। জনমত সম্পাদকের মতে সৈয়দ আনাস পাশার সৃজনশীল নেতৃত্বের কারনেই এক বছরের মাথায় সত্যবাণী আজ ব্রিটেনের জনপ্রিয় অনলাইনের পাঠক স্বীকৃতি পেয়েছে।

প্রবীন সাংবাদিক হামিদ মোহাম্মদ বলেন, শতবর্ষ আগে প্রথম প্রকাশিত বাংলা পত্রিকার উত্তরাধিকার গ্রহন করে একই নামে যখন সত্যবাণী অনলাইন শুরু করেন আনাস পাশা,  তখনই আমি বুঝেছি আমার এই সৃজনশীল বন্ধু লক্ষ্যে পৌছবেই। অনলাইনটির আজকের এই অবস্থান আমার এই ধারণাই সত্য প্রমান করেছে। 

অনুষ্ঠানের সভাপতি সত্যবাণীর উপদেষ্ঠা সম্পাদক আবু মুসা হাসান তাঁর সমাপনী বক্তব্যে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া উপেক্ষা করেও সত্যবাণীকে শুভেচ্ছা জানাতে আসায় সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ব্রিটেনের বাংলা মিডিয়ার গৌরবময় ইতিহাস ভবিষ্যতের কাছে পৌছে দেয়ার সত্যবাণীর যাত্রায় ব্রিটেনের পুরো বাংলা মিডিয়া পরিবার যে সহযাত্রী আজকে আমার সহকর্মীদের উপস্থিতি সেটিই প্রমান করে। চলার পথে এটিই সত্যবাণীর  মূল শক্তি। সত্যবাণী টিম আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞ।আলোচনা শেষে বাংলা মিডিয়ার সহকর্মীদের সাথে নিয়ে সত্যবাণীর কমিউনিটি করেসপন্ডেন্ট জামাল খানের আনা বিশাল কেইক কাটেন সত্যবাণী টিম। এসময় উপস্থিত সবাই উল্লাস প্রকাশ করে উৎসাহিত করেন সত্যবাণীকে।

 
 
 

এই বিভাগের আরও সংবাদ

 

ক্যালেন্ডার