আজকে

  • ৭ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
  • ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
  • ১১ই মুহাররম, ১৪৪০ হিজরী
 

সোশ্যাল নেটওয়ার্ক

সংবাদ সম্মেলনে এমপি কয়েস চৌধুরীকে মনোনয়ন না দেওয়ার আহবান

Published: বুধবার, ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০১৮ ১২:০৩ অপরাহ্ণ    |     Modified: বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০১৮ ১:২৯ পূর্বাহ্ণ
 

নিজস্ব প্রতিবেদক : একাদশ সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৩ আসনে এমপি কয়েস চৌধুরীকে মনোনয়ন না দেওয়ার আহবান জানিয়ে নগরীতে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে।

দক্ষিণ সুরমা উপজেলা আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে এমপি কয়েস চৌধুরীর বিগত কীর্তিকলাপ তুলে ধরে দলীয় মনোনয়ন বোর্ডের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।

বুধবার নগরীর একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন দক্ষিণ সুরমা উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী রইছ আলী।

তিনি লিখিত বক্তব্যে দলীয় এমপি কয়েস চৌধুরীকে বেয়াদব, প্রতিহিংসা পরায়ণ, আভিজাত্যের অহমিকায় অন্ধ, পরশ্রীকাতর উল্লেখ করে বলেন তাঁর পিতা দেলওয়ার হোসেন ফিরু মিয়া মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ছিলেন শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান এবং একজন চিহ্নিত রাজাকার (সুত্রঃ বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, সিলেট জেলা কমান্ড কর্তৃক প্রকাশিত স্মারক গ্রন্থঃ রণাঙ্গণে একাত্তর। যাতে মহামান্য রাষ্ট্রপতি এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বাণী রয়েছে)। রাজাকার ফিরু মিয়ার প্রতিহিংসার শিকার হয়ে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার অনেক সাধারণ মানুষ পাক-বাহিনীর হাতে নির্যাতিত হয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিগত ৪ বছর থেকে আমাদের দক্ষিণ সুরমা উপজেলায় কোন উন্নয়ন হচ্ছে না উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, উপজেলার ছোট-বড় রাস্তা-ঘাটের অবস্থা খুবই করুণ। বিভিন্ন বিদ্যালয়ে আসবাবপত্র সংকট বিরাজ করছে। পানি নিস্কাশন ব্যবস্থার কোন উন্নতি হয়নি। এমপি’র বিমাতাসুলভ আচরণের ফলেই এ দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত নিন্দনীয়।

নানা দুস্কর্মের হোতা এমপি মাহমুদ-উস-সামাদ চৌধুরী ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ন্যাক্কারজনক ভূমিকা রাখেন বলে উল্লেখ করে বলা হয়, প্রতিটি ইউনিয়ন পর্যায়ের তৃণমূল নেতৃবৃন্দের ভোটে মনোনীত হওয়ার পর যাচাই-বাছাই করে দলীয় প্রতীক ‘নৌকা’র প্রার্থী দেয়া হয়েছিল। তৃণমুল নেতাদের বাছাই করার ফলে এমপি’র নিজের লোকেরা অর্থাৎ পদলেহী চাটুকারেরা প্রার্থী হতে পারেনি। এ নিয়ে প্রতিহিংসা পরায়ণ এমপি দলীয় প্রতীকের বিরোধিতা করে প্রকাশ্যে অন্য দলের প্রার্থীদের সমর্থন করেন, যা ছিল ছোট মনের পরিচায়ক। তারপরও নৌকার পরাজয় নিশ্চিত করতে দাউদপুর, মোগলাবাজার ও সিলাম ইউনিয়নে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে এমপি নিজের লোকদের ‘বিদ্রোহী প্রার্থী’ হিসেবে নির্বাচনে দাঁড় করান। দলীয় প্রার্থীদের বিরুদ্ধে এমপি’র এই প্রকাশ্যে বিরোধীতার কারণে দক্ষিণ সুরমা উপজেলায় অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ৭টি ইউনিয়নের মধ্যে ৫টিতে নৌকার প্রার্থীকে পরাজয় বরণ করতে হয়। বিদ্রোহী প্রার্থী থাকা স্বত্বেও শুধুমাত্র মোগলাবাজার ও সিলাম ইউনিয়নে দলীয় প্রার্থীর বিজয় সুনিশ্চিত হয়। এই ঘটনাগুলোর ব্যাপারেও আমরা জেলা আওয়ামী লীগের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

এমপি মাহমুদ-উস-সামাদের অপকর্মর শেষ নয়। সিলাম ইউনিয়নের নবারুণ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সাথে অশোভন আচরণ করে এমপি গোটা দলকে সমালোচনার মুখে দাঁড় করিয়েছেন। মানুষ গড়া কারিগর একজন সম্মানীত শিক্ষককে তিনি প্রকাশ্যে চপেটাঘাত করেন। যা নিয়ে তোড়পাড় শুরু হয়। এরফলে গোটা শিক্ষকসমাজ অপমানিত বোধ করেছেন এবং শিক্ষকরা আমাদের দল আওয়ামী লীগের প্রতি অনেকটা অসন্তোষ্ট। এমপি’র এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর গোচরীভূত হয়েছে এবং সম্ভবতঃ তিনি বিষয়টি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকেও জানিয়েছেন।

গত কিছুদিন আগে ফেঞ্চুগঞ্জে অনুষ্ঠিত এক সভায় এমপি মাহমুদ-উস-সামাদ বীরদর্পে বলেছেন ‘নবনির্মিত শাহজালাল (রহঃ) সার কারখানা আমি পুড়িয়ে ধ্বংস করে দেবো। আমি যেমন গড়তে জানি, তেমনি ধ্বংস করতেও পারি।’ তার দম্ভোক্তি উপস্থিত দলীয় নেতাকর্মীদের বিষ্মিত করে।

এমপি’র তত্বাবধানে তার নিজের লোকেরা আমাদের সিলেট-৩ আসনের অন্তর্ভূক্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের টেন্ডার ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করছে। থানা পুলিশের দালালী করছে এমপি’র চাটুকাররা। মোট কথা এমপি এবং তার মোসাহেবরা দূর্নীতির মাধ্যমে আমাদের দক্ষিণ সুরমা তথা সিলেট-৩ আসনভূক্ত এলাকাকে নিজেদের করদ রাজ্যে পরিণত করে তুলেছে।

(সিলনিউজ বিডি)

 
 
 

এই বিভাগের আরও সংবাদ

 

ক্যালেন্ডার