আজকে

  • ১২ই বৈশাখ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
  • ২৫শে এপ্রিল, ২০১৮ ইং
  • ৭ই শাবান, ১৪৩৯ হিজরী
 

সোশ্যাল নেটওয়ার্ক

টাওয়ার হ্যামলেট নির্বাচন :সোনার চাবির লড়াই !কে এগিয়ে ?

Published: মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০১৮ ১:০৩ পূর্বাহ্ণ    |     Modified: মঙ্গলবার, মার্চ ২০, ২০১৮ ৮:২৬ পূর্বাহ্ণ
 

ইউকেবিডি টাইমসডেস্কঃ

১৯৬৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া টাওয়ার হ্যামলেট কাউন্সিল ব্রিটেনের আর্থসামাজিক উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রেখে চলেছে। লন্ডনের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ রয়েছে এই কাউন্সিল এলাকায় ,তাই ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এই কাউন্সিলের রয়েছে বিশেষ মর্যাদা। ২০১৬ সালের হিসাব অনুযায়ী টাওয়ার হ্যামলেট কাউন্সিলয়ের বর্তমান জনসংখ্যা তিন লক্ষ ঊনপঞ্চাশ হাজার (৩০৪৯০০) , মোট জনসংখ্যার ৩২% বাসিন্দা বাঙালি বা ব্রিটিশ বাংলাদেশি, ৩১% বাসিন্দা হোয়াইট ব্রিটিশ, বাকি ৫৩% বাসিন্দা হচ্ছেন অন্যান্য কমিউনিটির অন্তর্গত।পরিসংখ্যান থেকে এ কথা স্পষ্ট ভাবে বলা যায় যে ভোটের রাজনীতিতে টাওয়ার হ্যামলেট কাউন্সিলে সংখ্যা গুরু বাংলাদেশিদের মতামত সবচেয়ে বেশি প্রভাবশালী অবস্থানে রয়েছে। দীর্ঘ দিন থেকে বসবাস করে আসা বাংলাদেশী কমিউনিটি অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়ে মূলধারায় নিজেদের অবস্থান যতটুকুই সুসংহত করতে পেরেছে তার পিছনে সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল ইস্পাত কঠিন ঐক্য। টাওয়ার হ্যামলেট কাউন্সিলে বাঙালিদের এই ঐক্যের কারণেই প্রথম বারের মতো এমপি এমনকি টাওয়ার হ্যামলেট কাউন্সিলের সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী মেয়র পদটিও পেয়ে যায় বাংলাদেশিরা।
আসন্ন টাওয়ার হ্যামলেট নির্বাচন মে ২০১৮ কে সামনে রেখে এইবার পরিস্থিতি একটু ভিন্ন ,নির্বাচন যতই কাছে আসছে ততই যেন স্পষ্ট হয়ে উঠছে বাঙ্গালীদের ঐক্যতে ফাটল। আর সেই সুযোগ ভালো ভাবেই কাজে লাগাতে পারবেন বর্তমান মেয়র জন বিগ্স। বিশ্লেষকদের ধারণা মেয়র জন বিগ্স তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বাঙ্গালী প্রার্থীদের মোকাবেলায় তার পূর্বসূরিদের অনুসরণ করছেন। ব্রিটিশরা যখন ভারতীয় উপমহাদেশ শাসন করছিলো তখন সুসংগঠিত বিদ্রোহ দমনে তারা যে পদ্ধতি গ্রহণ করেছিল তা হচ্ছে বিভক্ত করণ এবং শাসন (divide and rule) এবং রাজনৈতিক এই পদ্ধতিটি ব্রিটিশ দের জন্য ছিল বেশ সহায়ক ,যার ফলে অনেকটা বিনা বাধায় ২০০ বছর তারা শাসন করতে পেরে ছিল আমাদের পূর্বসূরিদের।
ব্রিস্টল ইউনিভার্সিটি থেকে গ্রেজুয়েট জন বিগ্স একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদ দীর্ঘ দিন থেকে আছেন টাওয়ার হ্যামলেট লেবার পার্টির বিভিন্ন গুরুত্ব পূর্ণ পদে।২০১৫ সালে মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তিনি চেষ্টা করে চলছেন সকল কমিউনিটির সাথে সহ অবস্থান নিশ্চিত করণে।বিগত দিনে তাকে মোকাবেলা করতে হয়েছে নিজের দলের ভিতরের কুন্দল ,যা কোন কোন সময় মাত্রা অতিরিক্ত পর্যায়েও চলে যায়। কাউন্সিল টেক্স বৃদ্ধি ,বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্টানের জন্য কাউন্সিল থেকে বরাদ্ধ অর্থ কাট,লেবার পার্টিতে বিভাজন এই সকল বিষয় কোন কমিউনিটির ভোটারা ভালো ভাবে নিচ্ছেনা। এছাড়া ২০১৪ সালে লুৎফুর রহমান ঘর প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে পরাজিত করেছিলেন জন বিগ্সকে। আবারো সেই ঘর প্রতীক নিয়ে নতুন ভাবে সংগঠিত হয়েছে লুৎফুর বলয়ের অংশটি।গত সপ্তাহে তারা এস্পায়ার নাম নিয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে আত্ম প্রকাশ করে। প্রবীণ কমিউনিটি নেতা সাংবাদিক আবুতাহের চৌধুরীকে সভাপতি এবং মূলধারার রাজনৈতিক সাবেক লেবার নেত্রী লিলিয়ান কলিন্স কে সেক্রেটারি করে প্রতিষ্টিত দলটি মূলধারায় কতটুকু সম্পৃক্ত হতে পারবে তা সময় বলে দিবে । নব প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দল এস্পায়ার থেকে সমর্থন পাওয়া লুৎফুর রহমানের আস্থা ভাজন সাবেক ডেপুটি মেয়র ওহিদ আহমেদ কে মোকাবেলা করাই হবে বর্তমান মেয়র জন বিগ্স এর জন্য সবচে বড় চ্যালেঞ্জ

ইস্টলন্ডন ইউনিভার্সিটি থেকে- মাস্টার ডিগ্রি- প্রাপ্ত ওহিদ আহমেদ টাওয়ার হ্যামলেট রাজনীতির মাঠে অতি পরিচিত মুখ। বিগত ১৬ বছর থেকে তিনি বার বার কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত হয়ে আসছেন। ওহিদ আহমেদ লেবার ফ্রেন্ডস অফ বাংলাদেশ এর প্রতিষ্টাতা এবং লেবার পার্টি থেকে সুফলক আসন থেকে এমপি পদ প্রার্থী হিসেবে অংশ নেন। সাবেক মেয়র লুৎফুর রহমানের বিরুদ্ধে লেবার পার্টির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে তিনি লেবার পাৰ্টির সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে আসেন এবং ২০১০ সালের নির্বাচনে স্বত্রন্ত প্রার্থী হিসেবে বিপুল ভোট কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। পরে টাওয়ার হ্যামলেট কাউন্সিলের ডেপুটি মেয়র হিসেবে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। কাউন্সিলার অহিদ আহমেদ লেবারের কাউন্সিলার হিসাবে এডুকেশন ও ইয়থ, রিজানেরেশন ও পাট’নারশীপ, ফাইনান্স ও পারফরমেন্স কেবিনেট মেম্বার হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া টাওয়ার হ্যামালেটসের প্রথম স্ট্যাটারী ডেপুটি মেয়র হিসাবে একাধারে চার বৎসর কাজ করেন! ওহিদ আহমেদ নিজেকে একজন পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সমর্থ হয়েছেন। তার সমর্থকদের দাবি অহিদ আহমেদ কমিউনিটিকে কখনো বিভক্ত করতে চাননি। ঐক্য বদ্ধ কমিউনিটি প্রতিষ্টা ছিল তার লক্ষ। ২০১৫ সালে কোর্টের রায়ে লুৎফর রহমান তার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পাওয়ার পর নির্বাচন কমিশন আরেকটি নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করে ১১ জুন ২০১৫ সালে সেই নির্বাচনে ওহিদ আহমেদ কে মেয়র প্রার্থী হিসেবে চেয়েছিলেন তার সমর্থকরা। কিন্তু ওই নির্বাচনে সাবেক মেয়র লুৎফুর রহমানের সমর্থন লাভ করেন কাউন্সিলর রাবিনা খান। নেতার আহবানে প্রতি অনুগত প্রদর্শণ করে ওহিদ আহমেদ বন্ধ করে দেন তার সকল প্রচারণা যা সকল মহলে ব্যাপক ভাবে প্রশংসিত হয়।মে ২০১৮ আসন্ন নির্বাচন কে সামনে রেখে সাবেক মেয়র লুৎফুর রহমান বলয়ের প্রায় সকল কাউন্সিলরের পরোক্ষ ভোট মনোনয়ন পান কাউন্সিলর ওহিদ আহমেদ। আগামী নির্বাচনে তার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ২০১৫ সালের পরাজিত প্রার্থী রাবিনা খান। ওহিদ সমর্থকদের আশা কমিউনিটিকে বিবক্তিকরণে ভূমিকা না রেখে সাবেক মেয়র লুৎফুর রহমানের সমর্থিত দল থেকে মনোনীত প্রার্থী ওহিদ আহমেদের হাত কে শক্তিশালী করণে ভূমিকা রাখবেন রাবিনা খান।

উইকি তথ্য মতে, এ – লেভেল,(১৯৯২) পর্যন্ত শিক্ষা গত যোগ্যতা সম্পন্ন রাবিনা খান ২০১০ সালে সাবেক মেয়র লুৎফুর রহমানের ইন্ডিপেন্ডেন্ট গ্রূপ থেকে প্রথম বারের মতো কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। ২০১৫ সালের নির্বাচনে অনেকটা চমক হিসেবে লুৎফুরের সমর্থন নিয়ে জন বিগস এর বিরুদ্ধে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন রাবিনা খান। মে ২০১৮ নির্বাচনে ইন্ডিপেন্ডেন্ট গ্রপ থেকে সমর্থন পাওয়ার জন্য তৎপর ছিলেন রাবিনা খান কিন্তু ইন্ডিপেন্ডেন্ট গ্রপের অন্যান্য কাউন্সিলরদের সমর্থন আদায়ে ব্যার্থ হন রাবিনা খান, পরে তিনি তার স্বামী আমিনুর খানের নেতৃত্বে পিপুল এলায়েন্স নাম নতুন গ্রূপ গঠন করেন মে ২০১৮ নির্বাচনে প্রতিতদ্বন্দীতার জন্য। ২০১৫ নির্বাচনে ইন্ডিপেনডেনডেন্ট গ্রপের একক সমর্থনে নির্বাচনে অংশ নেন রাবিনা। ইন্ডিপেন্ডেন্ট গ্রপের হাজারো নেতা কর্মীর আপ্রাণ প্রচেষ্টায় অল্প সময়ে তিনি ভোটারদের কাছে পরিচিতি পান, কিন্তু এই বার প্রেক্ষাপট ভিন্ন লেবার পার্টিতে রয়েছে একঝাঁক বাংলাদেশী কর্মী এবং কাউন্সিলর পদপ্রার্থী ওপর দিকে তিনি পাচ্ছেননা ইন্ডিপেন্ডেন্ট গ্রূপের সমর্থন।টাওয়ার হ্যামলেট এলাকায় লুৎফুর রহমানের রয়েছে নীরব সমর্থক গুষ্টি, যারা মনে করেন লুৎফুরের সাথে করা হয়েছে অবিচার।তারা আগামীতে ভোটের রাজনীতিতে লুৎফুর রহমানের বলয় থেকে বেরহয়ে আসা রাবিনা খান কে কিভাবে নিবেন তা দেখতে হলে অপেক্ষা করতে হবে নির্বাচন পর্যন্ত।

 
 
 

এই বিভাগের আরও সংবাদ

 

ক্যালেন্ডার