আজকে

  • ১২ই বৈশাখ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
  • ২৫শে এপ্রিল, ২০১৮ ইং
  • ৭ই শাবান, ১৪৩৯ হিজরী
 

সোশ্যাল নেটওয়ার্ক

বাসনের ‘লন্ডনে মওলানা ভাসানী’: ইতিহাসের চোখ দিয়ে পিছন ফিরে দেখা

Published: শনিবার, ফেব্রুয়ারি ১০, ২০১৮ ১০:৩৩ অপরাহ্ণ    |     Modified: বুধবার, ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০১৮ ৮:৪৭ পূর্বাহ্ণ
 

সৈয়দ আনাস পাশা

লন্ডন: লন্ডনের বিশিষ্ট সাংবাদিক, লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক, টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের সাবেক মিডিয়া এন্ড পাবলিক রিলেশন্স অফিসার ও সাপ্তাহিক সুরমা’র প্রাক্তন সম্পাদক নজরুল ইসলাম বাসনের ‘লন্ডনে মওলানা ভাসানী’ গ্রন্থ এখন পাওয়া যাচ্ছে ঢাকা একুশে বইমেলায়। সিলেটের চৈতন্য প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত বইটি মূলত মধ্য পঞ্চাশের দশকে মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর লন্ডন অবস্থান ও তৎপরবর্তীতে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও তরুণ নেতা (পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধু ও বাঙালী জাতির জনক) শেখ মুজিবুর রহমানের লন্ডন সফর নিয়ে বিভিন্ন লেখকের লেখা থেকে সংগৃহিত তথ্য নিয়ে সংকলিত একটি গ্রন্থ। লেখকের আরেকটি গ্রন্থ ‘দি ব্যাটল অব সিলেট’ও সংযুক্ত করা হয়েছে ‘লন্ডনে মওলানা ভাসানী’ গ্রন্থের শেষে। ‘দি ব্যাটল অব সিলেট’ গ্রন্থটি সংযুক্ত করার পক্ষে যুক্তি হিসেবে লেখক নজরুল ইসলাম বাসন বলছেন, “লন্ডনে মওলানা ভাসানী’ ও ‘দি ব্যাটল অব সিলেট’ একই গ্রন্থে সন্নিবেশিত করার কারণ হচ্ছে মওলানা ভাসানী ১৯৫৪ সালে যখন লন্ডনে অবস্থান করছিলেন, তখন তাঁকে ঘিরে বাঙালীর যে রাজনীতি শুরু হয়েছিলো তাঁর একটি অধ্যায় শেষ হয় ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে লন্ডন থেকে অনেকে সরাসরি ভারতে গিয়ে যুদ্ধ করেছেন এবং ফিল্ড হাসপাতাল প্রতিষ্ঠাসহ মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে কুটনৈতিক কর্মকান্ড চালিয়ে গেছেন। তাদের তৎকালীন এই কর্মকান্ডের যোগসূত্রকে গ্রন্থিত করার জন্যই দ্বিতীয় পর্বে দি ব্যাটল অব সিলেট গ্রন্থের অংশ বিশেষ এই বইয়ে সংযোজিত করা হলো’’।
বিভিন্ন লেখকের লেখা থেকে সংগৃহিত তথ্য নিয়ে ‘লন্ডনে মওলানা ভাসানী’ গ্রন্থটি সংকলিত হলেও এই বইটির মাধ্যমে নজরুল ইসলাম বাসন পাঠককে নিয়ে ইতিহাসের ভেতরে ঢুকারই চেষ্টা করেছেন, যা অবশ্যই প্রশংসাযোগ্য। ‘বাঙালী খুব সহজেই অতীত ভুলে যায়’ বলে যে অভিযোগ রয়েছে, আমাদের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও সামাজিক সংস্কৃতিই এই অভিযোগের সত্যতা জানান দেয়। ইতিহাস বিস্মৃত বা অস্বীকার করার এই সংস্কৃতির যুগে ‘লন্ডনে মওলানা ভাসানী’র মাধ্যমে ইতিহাসের সিড়ি ধরে পাঠককে পেছনে ফিরিয়ে নেয়ার বাসনের এই চেষ্টা ইতিহাস বিকৃতি রোধের চলমান আন্দোলনে অবশ্যই ভূমিকা রাখবে। সেই ৫০ ও ৬০ দশকে মওলানা ভাসানী, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লন্ডন সফরের মাধ্যমে ব্রিটেনে আমাদের দেশীয় রাজনীতির যে গোড়াপত্বন, সেই রাজনীতির আজকের কদর্য চেহারায় আমরা যারা আহত হই, সামান্য শান্তনার জন্য হলেও তাদের জন্য ইতিহাসের সিড়ি ধরে পেছন ফিরে যাওয়ার কোন বিকল্প নেই। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে ব্রিটেনে বসবাসকারী এক সময়ের বাংলাদেশী রাজনীতির সক্রিয় কর্মী নজরুল ইসলাম বাসন যখন দেখেন বাঙালীর অবিসংবাদিত জাতীয় নেতা ভাসানী, সোহরাওয়ার্দী ও বাঙালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর শুরু করা দেশীয় রাজনীতির সুন্দর, গণতান্ত্রিক ও সহনশীল চেহারা ক্রমে ক্রমে কদর্য চেহারা ধারণ করে ব্রিটিশ সমাজের সামনে পুরো বাঙালী জাতির ইমেজকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে, তখন শান্তনা খুঁজতে হলেও তাঁকে ইতিহাসের ধারস্থ হতে হয়। ‘লন্ডনে মওলানা ভাসানী’ গ্রন্থের মাধ্যমে বাসন মনে হয় সেটিই করেছেন। একুশের বই মেলায় গ্রন্থটি পাওয়া যাচ্ছে। সংগ্রহে রাখতে পারেন।
গ্রন্থটির পাঠকপ্রিয়তা আশা করছি।

 
 
 

এই বিভাগের আরও সংবাদ

 

ক্যালেন্ডার