আজকে

  • ৫ই কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
  • ২০শে অক্টোবর, ২০১৮ ইং
  • ৯ই সফর, ১৪৪০ হিজরী
 

সোশ্যাল নেটওয়ার্ক

বেগম খালেদা জিয়ার রায় কয়েকটি তিতা কথা

Published: বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ৮, ২০১৮ ১:২০ অপরাহ্ণ    |     Modified: শুক্রবার, ফেব্রুয়ারি ৯, ২০১৮ ৯:১৭ পূর্বাহ্ণ
 

অলিউল্লা নোমানঃ

কেউ বলছেন অবৈধ আদালত। কেউ বলছেন ষড়যন্ত্রমূলক সাজানো মামলা। আবার কেউ বলছেন মিথ্যা মামলা। সবই মানলাম। সবই শতভাগ সঠিক। বিনা ভোটের দখলদার সরকার। দখলদার সরকারের পরিচালিত আদালত বৈধ হতে পারে না। দখলদার সরকারের আদালত থেকে এমন রায় প্রসব করাই প্রত্যাশিত। এটা অপ্রত্যাশিত কিছু নয়। বরং এটা যাদের বুঝতে দেরি হয়েছে তাদের জন্য শুধু করুনা হয়। 

শুধু একটা বিষয় মানতে কষ্ট হচ্ছে। কথায় কথায় অবৈধ সরকার বলছি আমরা। সুতরাং সরকার অবৈধ হলে আদালতও অবৈধ। অবৈধ আদালতে ষড়যন্ত্রমূলক সাজানো মামলা। মিথ্যা অভিযোগে ভিত্তিহীন বিবরন। কাগজপথে ঘষামাজা করে তৈরি দলীল। তবে এই আদালতে গিয়ে তার বৈধতা দেওয়া হয়েছে কেন? বিচার চালিয়ে নিতে সবকিছুতে সহযোগিতা করা হয়েছে কেন? দখলদার সরকারের আদালতে গিয়ে প্রতিদিন বিচারে সহযোগিতা করে এখন রায়টা মানব না। এটা কেমন যেন স্ববিরোধীতা মনে হচ্ছে।

২০০৯ সাল থেকে আওয়ামী করনে সাজানো আদালতের বিরুদ্ধে ছিল আমাদের অবস্থান। দৈনিক আমার দেশ বারবার এবিষয়টাই সামনে তোলে ধরার চেষ্টা করেছে। ২০১৪ সালের এপ্রিলে অনেক মামলার উদাহরণ টেনে লিখেছিলাম ‘চেম্বার মানেই সরকার পক্ষে স্টে’ শিরোনামে বিশেষ রিপোর্ট। কিভাবে সরকার আদালতকে আওয়ামীকরণ করেছে তাঁর উদাহরণ ছিল এই রিপোর্টে।

রিপোর্টের বিনিময়ে সুপ্রিমকোর্ট আমাদের দন্ড দিল। জরিমনা করল। জরিমানা না দিয়ে প্রতিবাদ হিসাবে আমার শ্রদ্ধেয় সম্পাদক একমাস এবং আমি এক সপ্তাহ অতিরিক্ত কারাভোগ করেছি। বুঝিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছি আওয়ামী আদালতের রায় এটা। তাই প্রতিবাদ হিসাবে অতিরিক্ত কারাভোগ করলাম। 

আমাদের রায় দেওয়ার আগে খোদ সুপ্রিমকোর্ট বলেছিল ‘ট্রুথ ইজ নো ডিফেন্স’। পাঁচ বিচারপতি আরো বলেছিলেন ‘সত্য মিথ্যা যাছাইয়ের জন্য এখানে বসিনি আমরা।’ তখনই তো বুঝতে হত আদালতকে কোন দিকে রওয়ানা করানো হয়েছে। 

রাজনীতিকদের এটা অনুধাবন না করার খেসারত এখন তিলে তিলে দিচ্ছে পুরো জাতি। 

সুপ্রিমকোর্টের সেই অমীয় বানী ‘ট্রুথ ইজ নো ডিফেন্স’ কেউ তখন আমলে নেয়নি। বরাং উল্টা বলা হত, মাহমুদুর রহমান ও আমার দেশ বেশি বাড়াবাড়ি করছে। তারা ঘোড়ার আগে গাড়ি কিনে ফেলছে। এরকম কত কথাই শুনেছি। 

শুধু বখশিবাজারে স্থাপিত আদালত নয়। সুপ্রিমকোর্ট থেকে ম্যাজিষ্ট্রেট কোর্ট। সারা বাংলাদেশে প্রতিটি আদালত আওয়ামীকরণ হয়েছে। লাখ লাখ বিরোধী নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সাজানো মামলায়ই রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন, নিপীড়ন চালানো হচ্ছে। ৩০লাখ মামলা ভীড়ে একটা মামলা শুধু অবৈধ বা সাজানো আদালতে নয়, প্রতিটি মামলাই এরকম অবৈধ আদালতে হচ্ছে। সুতরাং ৩০ লাখ মামলার ন্যায় বিচার নিশ্চিত করার দাবী উঠাতে হবে। আদালত আওয়ামী করনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়তে হবে। শুধু একটা/দুইটা মামলায় আদালত অবৈধ বলে মুক্তির নিশানা খোজে লাভ হবে না। বরং যা হওয়ার তাই হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও হবে। 

আরেকটি বিষয় এখানে উল্লেখ্য। অন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল নামে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির পরিচালিত আদালতে যখন বিচার চলছিল তখনো দেখছি একই অবস্থা। পুরো বিচারে সহযোগিতা করা হয়। রায় ঘোষণা পর্যন্ত অপেক্ষা। দেখি কি হয়। রায়ের পর হরতাল ঘোষণা। তার মানে বিচারটা মানলাম। কিন্তু রায়টা মানলাম না। 

তখনো অনেকে কইতেন, আপিলে গিয়ে এসব রায় ঠিকবে না। আপিল বিভাগে সব রায় বাতিল হয়ে যাবে। কিন্তু ওখানে যে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির দাদারা বসে আছেন সেটা কেউ ভাবেননি। বরং কথা শুনে মনে হত জামায়াতে ইসলামীর রোকন সাহেবরা ওখানে বসে আছেন ন্যায় বিচার ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার জন্য! 

এখনো কেউ হয়ত: কইবেন এ রায় ঠিকবে না। আপিলে গিয়ে সব খালাস হয়ে যাবে। এটা সাজানো মামলা। কিন্তু মনে রাখতে হবে সুপ্রিমকোর্টের ওই যে ‘ট্রুথ ইজ নো ডিফেন্স’ বাক্যটা। শেখ হাসিনার দখলদার সরকারের নিয়োগ দেওয়া বিচারপতিরাই বসে আছেন কিন্তু ওখানে।

সর্বশেষ কইতে চাই আরেকটি বিষয়। গত ক’দিন ধরে অনেকেই জিজ্ঞাসা করতেন কি হবে ম্যাডামের! সাজা কি দিয়েই দেবে! তখন চেষ্টা করতাম এক কথায় উত্তর দিতে। সেটা হচ্ছে ‘শেখ হাসিনা তামাশার জন্য মামলা টেনে এপর্যন্ত নেয়নি। আমার মনে হচ্ছে শেখ হাসিনা যা করেন একটা কিছু করার জন্যই করেন।’ সবাইকে এই উত্তরাটা দিতাম। অনেকেই আমার সাথে দ্বিমত করেছেন তখন। তাদেরও যুক্তি ছিল। তখন মনে হত শেখ হাসিনাকে তারা পুরোপুরি ডায়ানসিস করতে সক্ষম হয়নি। মনে হত, শেখ হাসিার রাজনৈতিক চরিত্রটা ডায়াগনসিস না করেই তারা নিজেদের সুবিধা বিবেচনা করে চিন্তা করছেন। 

ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা তৈরির সময় দ্রুত ফুরিয় যাচ্ছে। তবে যারা মনে করেন ইন্ডিয়া এসে ক্ষমতায় বসিয়ে দেবে তারা স্বপ্নের মধ্যে আছেন। ক্ষমতার স্বপ্ন শুধু দেখতেই থাকেন। আবার যারা মনে করেন একটা ইলেকশনের সুযোগ পেলেই হল। তারাও ইলেকশনের স্বপ্নটাই দেখে যান। 

কেউ কেউ বলেন সেনা বাহিনীর কথা। তাদেরও আমি একটা উদাহরণ দেই। সেটা হচ্ছে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট বিপ্লব না ঘটলে ৭ নভেম্বর আসত না। ৭ নভেম্বর না আসলে বহুদলীয় রাজনীতির পথ উম্মুক্ত হত কি না সেটা বিরাট প্রশ্ন। কিন্তু ১৫ আগষ্টের বিপ্লবের নায়কদের ফাঁসি দেওয়া হল। তাদের ফাঁসির রায় ঘোষনার দিন ২০ দলীয় জোটের রাজনৈতিক দল গুলোর প্রতিক্রিয়া জাতিকে অনেক কিছু ষ্মরণ করিয়ে দেয়। সুতরাং যারা মনে করেন সেনা বাহিনী এসে দেশ উদ্ধার করে দেবে তাদেরকে এসব বিষয় গুলো ভাবতে হবে। সেনাবাহিনী নিশ্চয়ই এসব ভেবে চিন্তে দেশ উদ্ধারের কথা চিন্তা করে। ১৫ আগষ্ট বিপ্লবের ফলে প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দল গুলো যখন প্রতিক্রিয়ায় বলেন জাতি দায় মুক্ত হয়েছে তখন সেনা বাহিনীও জাতিকে উদ্ধার করা থেকে নিজেদের দায়মুক্ত করে নেন।

 
 
 

এই বিভাগের আরও সংবাদ

 

ক্যালেন্ডার