আজকে

  • ৯ই আষাঢ়, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
  • ২৩শে জুন, ২০১৮ ইং
  • ৭ই শাওয়াল, ১৪৩৯ হিজরী
 

সোশ্যাল নেটওয়ার্ক

আমি কাউকে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বুদ্ধিজীবী কিংবা শিশু বুদ্ধিজীবী বলছি না

Published: সোমবার, জানুয়ারি ২৯, ২০১৮ ৯:৩৮ অপরাহ্ণ    |     Modified: সোমবার, জানুয়ারি ২৯, ২০১৮ ৯:৩৮ অপরাহ্ণ
 
মো. এবাদুর রহমান শামীম:
“আপনাকে ‘শিশু বুদ্ধিজীবী’ বলছি না”- শিরোনামে সাংবাদিক ও কলামিস্ট গোলাম মোর্তোজার লেখা একটি কলাম ২ জানুয়ারি ২০১৮ তারিখে অনলাইন পোর্টাল বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত হয়। গোলাম মোর্তোজার লেখাটি ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের লেখা “বছরটা কেমন গেল?” লেখার অনুভূতি বা মূল্যায়ন মাত্র। গোলাম মোর্তোজা তাঁর লেখায় ইনিয়ে-বিনিয়ে ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালকে শিশু বুদ্ধিজীবী বলেছেন বা বলার চেষ্টা করেছেন বলা যায়। অবশ্য লেখার শুরুতে তিনি ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের গুণ-কীর্তন করতে কোনরকম কার্পণ্য করেননি। পাঠকমহলের জ্ঞাতার্থে তাঁর লেখার কিয়দংশ হুবহু তুলে ধরছিঃ
[পাঠকের বিবেচনায় জীবিত লেখকদের মধ্যে ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালই সবচেয়ে বেশি পঠিত। তিনি বই লেখেন মূলত শিশু-কিশোরদের জন্য। পত্রিকায় শিক্ষা-রাজনীতি-সমাজ নিয়ে লেখেন বড়দের জন্য। তার শিশু-কিশোরদের নিয়ে লেখার পাঠক বড়রাও। আবার বড়দের নিয়ে লেখা কলামের পাঠক ছোটরাও। তিনি যা লেখেন, ছোটরা তো বটেই বড়দেরও বড় একটা অংশ তা বিশ্বাস করেন। তিনি তার শিক্ষকতা পেশা, জীবনযাপন, সহজ-সরল ভাষায় লিখে তা অর্জন করেছেন। খুব কমসংখ্যক শিক্ষক-লেখক তা অর্জন করতে পারেন। সত্য ও ন্যায়নিষ্ঠার প্রতি অবিচল, নীতি-নৈতিকতা সম্পন্ন মানুষ হিসেবে তিনি শিশু-কিশোর ও পরিণত বয়সের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছেন। আমার ধারণা অভিমত সৃষ্টির ক্ষেত্রে ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল বাংলাদেশে সবচেয়ে প্রভাবশালী লেখক-শিক্ষক।]
গোলাম মোর্তোজার উপর্যুক্ত লেখার প্রেক্ষিতে সচেতন ও অনুসন্ধিৎসু পাঠকমলের উদ্দেশ্যে এই ক্ষুদ্র প্রয়াস…..
[এক]
গোলাম মোর্তোজার সাথে সম্পূর্ণ একমত না হলেও একথা ঠিক যে, ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল একাধারে একজন  বুদ্ধিজীবী, লেখক, প্রযুক্তিবিদ, পদার্থবিদ ও শিক্ষাবিদ। তাঁকে বাংলাদেশে বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী লেখা ও জনপ্রিয়করণের পথিকৃৎ হিসেবে গণ্য করা হয়। এছাড়াও তিনি একজন জনপ্রিয় শিশুসাহিত্যিক এবং কলাম লেখক। তাঁর লেখা বেশ কয়েকটি উপন্যাস ও গল্প চলচ্চিত্রে রূপায়িত হয়েছে। তবে গোলাম মোর্তোজার লেখা অনুযায়ী, তিনি সত্য ও ন্যায়নিষ্ঠার প্রতি অবিচল এবং নীতি-নৈতিকতা সম্পন্ন মানুষ হিসেবে বিবেচিত হলেও এনিয়ে সচেতন, মানবিক ও নৈতিকতা বোধসম্পন্ন মানুষের মাঝে বিস্তর সন্দেহের অবকাশ বিদ্যমান আছে বলে মনে করি। এধরণের সন্দেহ হওয়ার যুক্তিসঙ্গত বেশ কিছু  কারণও রয়েছে। গোলাম মোর্তোজার আরো লিখেছেন, ড. জাফর ইকবাল যা লেখেন, তা ছোট-বড় সকলে বিশ্বাস করেন এবং অভিমত সৃষ্টির ক্ষেত্রে তিনি বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রভাবশালী লেখক; এসব গোলাম মোর্তোজার সুবচন সদৃশ অতিকথন; তবে সত্যকথন নয়। ন্যায়নিষ্ঠ ও নৈতিকতা সম্পন্ন ড. জাফর ইকবাল টুকটাক ইস্যু নিয়ে শাবিপ্রবির পরিবেশ উত্তপ্ত করা আর ভিসিদের বিদায় ঘণ্টা বাজানোর ক্ষেত্রে তিনি একাধিকবার মুন্সিয়ানার ঝলক দেখিয়েছেন। সরকার দলীয় প্রভাবশালী সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী এবং শাবিপ্রবির ছাত্রলীগ নেতারা একই অভিযোগ বারংবার করেছেন তাঁর বিরুদ্ধে। বিএনপির আমলেও তাঁর বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ অস্থিতিশীল করার কিংবা অনুগত শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে লেলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। ড. জাফর ইকবাল ও তাঁর অনুসারিরা দীর্ঘদিন ধরে আমদানি করা বিশ্বাস ও অভিমত লেখনীর মাধ্যমে যুবসমাজের উপর চাপানোর  চেষ্টা করে আসছেন। প্রথম প্রথম তাঁদের মতবাদ কলেজ ইউনিভার্সিটি পড়ুয়াদের কিছুটা আকৃষ্ট করতে সক্ষম হলেও ধীরে ধীরে তা পুরোপুরি ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। অধুনা সময়ে পাঠক নন্দিত “প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ” [আরিফ আজাদ] ও “ডাবল স্ট্যান্ডার্ড” [ডা. শামসুল আরেফিন] গ্রন্থসহ আরো কিছু গ্রন্থ নাস্তিক্যবাদী ও সেক্যুলারদের যুক্তিখণ্ডনে টনিক হিসেবে কাজ করছে। যা কলেজ ইউনিভার্সিটি পড়ুয়াদের মনোজগতে ঝড় তুলতে সক্ষম হয়েছে। গ্রন্থসমূহে লেখকদের ক্ষুরধার ও যুক্তিপূর্ণ লেখনীর প্রভাবে গৌরগোবিন্দের সাম্রাজ্যের ন্যায় ড. জাফর ইকবাল গংদের বিশ্বাস ও অভিমত নামক সাম্রাজ্যের পতন ইতঃমধ্যে শুরু হয়ে গেছে।
বিশ্বাস ও অভিমত সৃষ্টিতে প্রভাবশালী ড. জাফর ইকবালের বিরুদ্ধে মূলধারার অনুসন্ধিৎসু বিজ্ঞানমনস্ক পাঠক বুদ্ধিবৃত্তিক চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ এনেছেন। সচেতন পাঠকমহল মনে করেন তাঁর অনেক লেখা [কপোট্রনিক সুখ দুঃখ, ট্রাইটন একটি গ্রহের নাম, নিতু ও তার বন্ধুরা, কোয়ান্টাম মেকানিক্স, মেকু কাহিনী, অবনীল ও আমি তপু ইত্যাদি গ্রন্থ] বিদেশি গল্প, সিনেমা ও কল্পকাহিনীর ছায়া অবলম্বলে রচিত। তিনি নিজেকে ধর্মনিরপেক্ষ ও প্রগতিশীল দাবি করলেও তাঁর অবস্থান সরাসরি ইসলাম ধর্মের বিরুদ্ধে। যা তাঁর চিন্তা-চেতনা, লেখনী ও বক্তৃতা-বিবৃতির মধ্যদিয়ে সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে। শাহবাগী চৌর্যবৃত্তিক চেতনার ফেরিওয়ালাদের কাছে ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের জনপ্রিয়তার প্রধানতম কারণ তাঁর কঠোর ইসলাম ধর্ম বিদ্বেষপ্রসূত মনোভাব ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রশ্নে দৃঢ়চেতা মনোভাব। অথচ মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি অংশগ্রহণ  করেননি। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। যুদ্ধে অংশগ্রহণ না করে পালিয়ে বেড়িয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। শাহবাগী চৌর্যবৃত্তিক চেতনার ফেরিওয়ালাদের  কাছে তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার জীবন্ত কিংবদন্তি হিসেবে পূজনীয়। এইতো কিছুদিন আগে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম দাবি করেছেন, জাফর ইকবালের বাবা নাকি রাজাকার ছিলেন। তিনি আরো বলেন, ড. জাফর ইকবাল মুক্তিযুদ্ধে অংশ না নিয়ে কাপুরুষের মতো গা ঢাকা দিয়েছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় কাপুরুষতার পরিচয় দেওয়া  মুক্তিযুদ্ধের চেতনার তথাকথিত ধারক ও বাহক মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক গল্প ও উপন্যাসেও চৌর্যবৃত্তির আশ্রয় নিয়েছেন। প্রগতিশীলতা, ধর্মনিরপেক্ষতা ও আধুনিকতার আদলে ঘুরেফিরে তাঁর লেখনীতে ইসলাম ধর্মবিদ্বেষী মনোভাব প্রকটভাবে ফুটে উঠেছে।
[দুই]
ড. জাফর ইকবালের মতো শাহরিয়ার কবির, ড. মুনতাসীর মামুন, ড. আফফান চৌধুরীরা মুক্তিযুদ্ধ করেননি। মুক্তিযুদ্ধের সময় তাঁরা সবাই কলেজ ইউনিভার্সিটির ছাত্র ছিলেন বা যুদ্ধে অংশ নেওয়ার মতো বয়স ও সুযোগ ছিল। মুক্তিযুদ্ধের সময় পালিয়ে বেড়ানো এসব কাপুরুষরা এখন মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের মুখপাত্র হিসেবে ভূমিকা পালন করছেন; এমনকি বীরদর্পে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ফেরি করে বেড়াচ্ছেন। তাঁরা মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে গবেষণা, ইতিহাস রচনা, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র নির্মাণ এবং একাত্তরের ঘাতক দালালদের তালিকা তৈরির নামে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে দেশেবিদেশে বিতর্কিত কলঙ্কিত করেছেন। মুক্তিযুদ্ধ না করেও তাঁরা মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি, আর সেক্টর কমান্ডার শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তম ও বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা হয়েও পাকিস্তানের দালাল কিংবা মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি নন। শুধু মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি বা মুক্তিযুদ্ধকে বিতর্কিত ও কলঙ্কিত করা নয়, যুদ্ধাপরাধী বিচার প্রক্রিয়াকেও দেশেবিদেশে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে তথাকথিত স্বঘোষিত মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের বুদ্ধিজীবীরা। এমনকি বাঙালির ধর্ম ও সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্য, শিল্প-সাহিত্য, আন্দোলন-সংগ্রাম এবং রাজনীতি- সবক্ষেত্রেই তাঁরা বুদ্ধিবৃত্তিক মুক্তচর্চার নামে চৌর্যবৃত্তির আশ্রয় নিয়েছে। স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে ধর্মনিরপেক্ষ ও প্রগতিশীল তথা বামপন্থি/কমিউনিস্টদের হাত ধরে  আধুনিকতার নামে আমাদের জাতিগত ও ধর্মীয় সংস্কৃতি বিরোধী অশ্লীল/যৌন সুড়সুড়িতে ভরপুর শিল্প-সাহিত্য, ধর্মনিরপেক্ষতা ও প্রগতিশীলতার নামে ইসলাম ধর্ম বিদ্বেষপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি, অসাম্প্রদায়িকতার নামে  সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়ানো ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নামে আয়নাবাজি চেতনার আমদানি করা হয়েছে। ২০১২ সালে এই অসাম্প্রদায়িক ও প্রগতিশীলদের বর্তমান প্রজন্ম শাহবাগী তথাকথিত মুক্তমনা-বিজ্ঞানমনস্ক প্রগতিশীলদের বুদ্ধিবৃত্তিক মুক্তচর্চা ও চেতনার মুখোশ উন্মোচিত হয়। এই সময় মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নামে শাহবাগী ধর্মনিরপেক্ষ ও প্রগতিশীলদের বুদ্ধিবৃত্তি ও চেতনার চৌর্যবৃত্তির কুৎসিত রূপ গোটা জাতি অবলোকন করেছে। যে শাহবাগ থেকে বাঘা সিদ্দিকী ও শহীদ জিয়ার বিরুদ্ধে স্বাধীনতা বিরোধী হিসেবে স্লোগান উঠেছে, সে  শাহবাগী চেতনার মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার রাজাকার পরিবারের সন্তান বলে পরবর্তীতে জানা যায়।
মুক্তিযুদ্ধের জীবন্ত ইতিহাস বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম ও বীর মুক্তিযোদ্ধা জাফর উল্ল্যাহ চৌধুরীসহ রণাঙ্গনের অনেক বীরযোদ্ধা বলেছেন শাহরিয়ার কবিররা মুক্তিযোদ্ধা কিংবা মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি তো নয়ই; এমনকি মুক্তিযুদ্ধে তাঁদের অনেকের ভূমিকা বিতর্কিত ছিল। মুক্তিযুদ্ধের জীবন্ত উপাখ্যান বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম প্রায়শই বক্তৃতা, টকশো ও লেখনীতে শাহরিয়ার কবির রাজাকার ছিলেন বলে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করেছেন। জনপ্রিয় কলামিস্ট ও সাংবাদিক পীর হাবিবুর রহমানও বিভিন্ন সময় টকশো ও লেখনীতে শাহরিয়ার কবির, রাশেদ খান মেনন ও হাসানুল হক ইনুসহ তথাকথিত চীনাপন্থি/মস্কোপন্থি বামদের পথভ্রষ্ট বিপ্লবী ও বঙ্গবন্ধু বিদ্বেষী হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। বঙ্গবন্ধুর কঠোর সমালোচক শাহরিয়ার কবির মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি ক্যাম্পে মুরগি সাপ্লাই দিতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। ঘাদানিকের সাবেক আহ্বায়ক বেগম মোস্তারী শফি লিখিত “জাহানারা ইমামের স্মৃতির উদ্দেশ্যে লেখা চিঠি” গ্রন্থে উল্লেখ আছে, ঘাদানিকের লোকজনের মধ্যে কথোপকথনের এক পর্যায়ে এক সদস্য বলেছেন, শাহরিয়ার কবির নিজে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেননি। এমনকি তিনি পাক আর্মি  ক্যাম্পে মুরগি সরবরাহ করতেন। মুক্তিযুদ্ধে প্রগতিশীলদের খুব বেশি সক্রিয় ভূমিকা ছিল না। ৭০’র নির্বাচনের বিরোধীতা ও মুক্তিযুদ্ধের অবিসংবাদিত নেতা জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিদ্বেষী মনোভাবের প্রেক্ষিতে খোদ মুজিব বাহিনী ও মুক্তিবাহিনী তাঁদের মুক্তিযুদ্ধের প্রশ্নে বিশ্বাস করেনি। মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের অলিগলিতে ঘুরে বেড়ানো  ধর্মনিরপেক্ষ ও প্রগতিশীল দাবিদার বামপন্থি/কমিউনিস্টরা বিপ্লবী জাসদের নেতৃত্বে যুদ্ধের পর স্বাধীন বাংলায় পাক হানাদারদের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিল।  ক্ষমতা লিপ্সু দেশদ্রোহী বামপন্থি/কমিউনিস্টরা  দেশি ও বিদেশি ষড়যন্ত্রের বেড়াজালে আবদ্ধ করে বঙ্গবন্ধু নেতৃত্বাধীন সরকারকে ব্যর্থ সরকারে পরিণত করেছিল। তাঁদের ষড়যন্ত্রের প্রত্যক্ষ ফসল বাঙালি জাতিসত্তার ইতিহাসের সবচেয়ে দুঃখময় ও কলঙ্কজনক অধ্যায় ৭৫’র ১৫ আগস্ট। আওয়ামীলীগের অসংখ্য সংসদ সদস্য সংসদের ভিতর ও বাহিরে জাসদের বিরুদ্ধে ঠিক একই অভিযোগ করেছেন। কেউ কেউ জাসদকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর কথাও বলেছেন।  স্বাধীনতা আন্দোলনের অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যার পর নির্লজ্জ উল্লাসেও মাতোয়ারা বামপন্থি/কমিনিউস্টদের বিষাক্ত ছোবল থেকে ৭৫’র ৭ নভেম্বর গোটাজাতিকে রক্ষা করেছেন শহীদ জিয়াউর রহমান বীর উত্তম। এই ঘটনাবহুল ৭ নভেম্বর থেকে ধর্মনিরপেক্ষ ও প্রগতিশীল তথা বামপন্থি/কমিউনিস্টদের সাথে শহীদ জিয়ার দ্বন্দ্বের সূত্রপাত হয়। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর বামপন্থি/কমিউনিস্ট শক্তির হাতে রাষ্ট্র ক্ষমতা ন্যস্ত হওয়া অনুমিত ছিল। কিন্তু সেক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ান মেজর জিয়াউর রহমান। যদিও জিয়ার শাসনামলে খালকাটা কর্মসূচিসহ অনেক জনবান্ধব কর্মসূচিতে বামপন্থি/কমিউনিস্টরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিল।
[তিন]
সময়ের বিবর্তনে সাপের মতো খোলস পাল্টাতে অভ্যস্ত বামপন্থি/কমিউনিস্টরা এখন সুকৌশলে গিরগিটির ন্যায় রঙ বদলাচ্ছে। সুবিধাবাদী তথাকথিত বামপন্থি/কমিউনিস্ট তথা ধর্মনিরপেক্ষ ও প্রগতিশীলরা নিজেদের বাম ঘরানার বুদ্ধিজীবী, সমাজ বা রাষ্ট্রের বিবেক,  সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং রাষ্ট্রের বিশিষ্ট নাগরিক প্রভৃতি নামে উপনামে বিপণন করছে। দুঃখজনক হলেও সত্য মহান মুক্তি সংগ্রামসহ প্রায় সব আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃদানকারী আওয়ামীলীগের বন্ধু সেজে ক্ষমতার স্বাদ আস্বাদন করছে সুবিধাভোগী বামপন্থি/কমিউনিস্টরা। আওয়ামীলীগও ক্ষমতার সাময়িক লোভে অন্ধ হয়ে ক্ষমতার অংশীদারিত্ব দিয়েছে জনবিচ্ছিন্ন বাম ইনু-মেননদের। এর ফল ভালো হবে না, তজ্জন্য আওয়ামীলীগকেই একদিন খেসারত দিতে হবে। আর ইনু-মেননদের অমৃত বাণী তখন  খোদ আওয়ামীলীগকেই দংশন করবে, যেভাবে বঙ্গবন্ধুকে করেছিল আর এখন বেগম খালেদা জিয়াকে করছে। যাইহোক, এক্ষেত্রে আমি কাউকে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বুদ্ধিজীবী কিংবা শিশু বুদ্ধিজীবী বলছি না; বলবো না। তবে এতটুকু বলতে পারি এবং বলা উচিত বটে, আওয়ামীলীগ দুধকলা দিয়ে কালসাপ পুষছে।
মো. এবাদুর রহমান শামীম
কলামিস্ট ও কর আইনজীবী
 
 
 

এই বিভাগের আরও সংবাদ

 

ক্যালেন্ডার