আজকে

  • ৯ই আষাঢ়, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
  • ২৩শে জুন, ২০১৮ ইং
  • ৭ই শাওয়াল, ১৪৩৯ হিজরী
 

সোশ্যাল নেটওয়ার্ক

এক ঘরে দুই পীরের জায়গা হয়না

Published: শনিবার, জানুয়ারি ২৭, ২০১৮ ১:২৭ অপরাহ্ণ    |     Modified: শনিবার, জানুয়ারি ২৭, ২০১৮ ১:২৭ অপরাহ্ণ
 

দেওয়ান ফয়সলঃ

আজকের এই লেখাটি লিখতে গিয়ে আমার ছাত্র জমানায় শোনা একটি গল্পের কথা মনে পড়ে গেলো। আমি তখন মৌলভী বাজার সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র। গ্রীষ্মের ছটিতে বাড়িতে গেছি। আমি বাড়িতে গেলেই খবর পেয়ে গ্রামের বুড়ো থেকে জওয়ান পর্য্যন্ত সবধরণের লোকই আমাকে দেখতে আসতো। তার কারণ ছিলো গ্রামের সবাই আমাকে খুব আদর এবং সম্মান করতো। সব সময়ই তারা আসতো সন্ধ্যের পর এবং বসতো অনেক রাত পর্য্যন্ত। সবাই দিনের কাজকর্ম সেরে আসতো এবং আমাদের বাংলা ঘরের বারান্দায় বসার জন্য লম্বা দুইটা বেঞ্চি ছিলো। সবাই এসে এগুলোতে বসতো। আর জায়গা না হলে ছোটরা পাকা বারান্দার মধ্যেই বসে বসে বিভিন্ন ধরণের গল্প করতো। আমাদের বাড়ির একটা সুবিধা ছিলো এই যে আমাদের বাড়িটি গ্রামের দক্ষিণে। আমাদের বাড়ির পরই শুধু ধানক্ষেত অর্থাৎ একেবারে খোলা। গরমের সময় রাতের ধু ধু বাতাসের মধ্যে বাংলার বারান্দায় বসে সবাই মিলে গল্প করতে বেশ আনন্দই পাওয়া যেতো। এরকম আডডায় বসে তাদের কাছ বিভিন্ন রকমের গল্প শোনতাম আর তা আমি খুবই উপভোগ করতাম। আমাকে দেখার জন্য লোকজন আসলে আমার মা খুবই খুশী হতেন। কিছুক্ষণ পরপরই চ-নাস্তা কাজের লোককে দিয়ে সবার জন্য পাঠাতেন। একদিন এরকম চা পান করতে করতে ছোয়াব খাঁ নামে একজন বয়স্ক লোক কোন এক কথা প্রসঙ্গে একটি গল্প বললো। সে বললো এক ঘরে দুই পীরের জায়গা হয়না। আমি জিজ্ঞাসা করলাম এটা কেন। এক ঘরে দুই পীর যদি থাকে তাহলে এ বাড়ির সুনাম চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ে। লোকজন আসে। তারা উপকৃত হয়। এটা তো ভালো কাজ তারা করেন। তখন সে বললো তাহলে গল্পটা বলি। কোন এক গ্রামে এক প্রভাবশালী এবং ধনী ব্যক্তি ছিলেন। তাঁর দুজন ছেলে ছিলো এবং দুজনই মাদ্রাসা লাইনে লেখাপড়া করে অনেক সুনাম অর্জন করলেন। আস্তে আস্তে বড় ভাই পীরাকি পেয়ে গেলেন। তাঁর কাছে লোকজন আসতে থাকলো এবং লোকজন যে যেকাজে আসে তাতে ভালো উপকার পায়। এরপর ভদ্রলোকের ছোট ছেলেও পীরাকি পেয়ে গেলেন এবং তিনিও জ¦ীনভূত সরানো থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরণের রোগের ওষুধপত্র দিতে শুরু করলেন এতে ছোট পীরের দিকেও মানুষের আগ্রহ দিন দিন বাড়তে থাকলো। এক সময় দেখা গেলো দু’পীরেরই কেরামতি বহু উচ্চ পর্য্যায়ে চলে গেছে। তাদের বাবা খুবই চালাক মানুষ। তিনি কিন্তু তাঁর দু ছেলের দিকে খুবই খেয়াল রাখছিলেন। তিনি খেয়াল করে দেখলেন, তাঁর দু’ছেলের মধ্যেই এক জন আরেকজনের মধ্যে কিছুটা মনোমানিল্যের সৃষ্টি হতে চলেছে। কারণ পীরাকির কেরামতিতে তখন কেউ কেউর থেকে কম নন। তখন একদিন তাদের বাবা দু’ ছেলেকে ডেকে নিয়ে আসলেন। একত্রে বাপ-বেটারা তিনজনই এক টেবিলে বসলেন। তারপর চা-নাস্তা খেতে খেতে বললেন, দেখ, তোমাদের আমি ডাকলাম এই কারণে যে, আল্লাহর রহমতে তোমরা দু’জনই পীরাকি লাইনে যেভাবে কামিয়াব হয়েছো তাতে আমি খুবই খুশী এবং আল্লাহ পাকের দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি এবং দোয়া করছি তোমাদের কেরামতি যেন আল্লাহ পাক আরও বাড়িয়ে দেন যাতে মানুষ উপকৃত হয়। তবে একটি কথা তোমাদেরকে বলতে হচ্ছে, আমার মনে হয় তোমরা দুই ভাই একঘরে থেকে পীরাকি করাটা ঠিক হচ্ছে না। ভবিষ্যতে হয়তো একে অন্যের প্রতি এই ভালোবাসা থাকবেনা। তিনি একটু ঘুরিয়ে কথাটা বললেন, দেখ এ দুনিয়ায় যারা ভালো কাজ করে তাদের পেছনে শত্রু থাকে। তাদেরকে ভালো কাজ থেকে সরানোর জন্য বিভিন্ন ধরনের পন্থা বের করে তোমাদের দুই ভাইয়ের মধ্যে একটা ঝগড়া বিবাদ লাগানোর চেষ্টা করতে পারে, আমার খুব ভয় হচ্ছে। এতে তোমাদের দুই ভাইয়ের মধ্যে সম্পর্ক নষ্ট হবে এবং সেই সাথে তোমাদের বহু কষ্টের বিনিময়ে পাওয়া পীরাকিও নষ্ট হয়ে যাবে। বড় ছেলে জিজ্ঞাসা করলেন তাহলে বাবা আমরা কি করবো? তখন তিনি বললেন, আমি অন্যত্র আলাদা করে দূর দূর দুটি জায়গায় তোমাদের বাড়ি বানিয়ে দেবো, তোমরা সেখানে গিয়ে আলাদা ভাবে তোমাদের কাজ চালিয়ে যাও। আর আমিতো তোমাদের প্রতি খেয়াল রাখবোই। তখন তারা দু ভাই-ই বললেন, বাবা আমরাতো কোনদিন আপনার কথার অবাধ্য হইনি। আপনি যা বলবেন আমরা তা মাথা পেতে নেবো। কারন আমরা জানি আপনি যা সিদ্ধান্ত করবেন আমাদের ভালোর জন্যই করবেন। তখন তাদের বাবা তাদের দু জায়গায় দুটি সুন্দর বাড়ি নির্মান করে দিলেন। তারা সেখানে গিয়ে আলাদা ভাবে তাদের পীরাকির কাজ চালিয়ে যেতে থাকলেন। তাদের মধ্যে আর দ্বন্ধের কোন অবকাশ রইলনা।
গত ক’দিনের খবরের কাগজ এবং অনলাইন পত্রিকাগুলোতে নারায়নগঞ্জের ঘটনাগুলো পড়ে আমার মনে পড়ে গেলো সেই গল্পের কথা। নারায়নগঞ্জের গডফাদার নামে পরিচিত এমপি শামিম ওসমান আর মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভি’র মধ্যে যে দ্বন্ধ শুরু হয়েছে তার শেষ যে কোথায় তা কেউ বলতে পারেনা। দু‘জনই একই এলাকার অর্থাৎ নারায়নগঞ্জের। একজন গড ফাদার আর একজন গড মাদার। কিন্তু দু;খের বিষয় দু’জনই আওয়ামী লীগের নেতা এবং নেত্রী। শামীম ওসমান নারায়নগঞ্জের একজন শক্তিধর নেতা। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সময় থেকেই আওয়ামী লীগের একজন নেতা হিসেবে স্বীকৃত বলে শোনা যায়। জানা গেছে, বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সাথে রয়েছে তার গভীর সম্পর্ক। অনেক দু;খ-কষ্টের সময়েও তিনি নাকি তাদের ছেড়ে যাননি। নারায়নগঞ্জে রয়েছে তাঁর বিরাট প্রতাপ। ধনে-জনে তিনি সমৃদ্ধ। আর এজন্যই নারায়নগঞ্জে গডফাদার হিসেবে তিনি পরিচিত। অন্যদিকে সেলিনা হায়াৎ আইভি তিনিও একজন প্রাক্তন মেয়রের মেয়ে। জনগণের কল্যানে ব্রত হয়ে রাজনীতিতে যোগ দেন। দিনে দিনে তার জনসমর্থন বাড়তে থাকায় স্বভাবত;ই শামীম ওসমানের গোস্বা হওয়ার কথা। কারন, তিনি এত বড় একজন প্রভাশালী লোক আর এ এলাকাতেই আরেকজন রাজনীতিতে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠবেন এটা সহ্য করা আসলেও কষ্টকর। এছাড়াও আইভি’র এই জনপ্রিয়তা দেখে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও তার উপর খুশী। গত মেয়র নির্বাচনে তিনি জনগণের ভোটে মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর নারায়ানগঞ্জের উন্নয়নে বিভিন্ন ধরণের পদক্ষেপ নিচ্ছেন, যাতে নারায়নগঞ্জবাসী সুখে শান্তিতে দিন কাটাতে পারে। তার মনে হয়তো ভরসা ছিলো শামীম ওসমানের উপর, কারন তিনিওতো আওয়ামী লীগের একজন এমপি। হয়তো আইভি’র মনে এও ছিলো যে, যদি আমরা দু’জন মিলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করি তাহলে নারায়নগঞ্জকে আমরা একটি আদর্শ শহর হিসেবে গড়ে তুলতে পারবো। কিন্তু সেলিনা হায়াৎ আইভি’র বিধি বাম। তাঁর চিন্তাধারা হয়ে গেলো হিতে-বিপরীত।
গত ১৬ই জানুয়ারী নারায়নগঞ্জের চাষাড়ায় বঙ্গবন্ধু সড়কে হকার উচ্ছেদ অভিযান চালাতে গিয়ে বড় ধরণের এক অপ্রীতিকর ঘটনার সৃষ্টি হয়। সেলিনা হায়াৎ আইভি বলেছেন, ফুটপাত জনগণের চলাচলের জন্য, এখানে হকার বসে জনগণের স্বাধীনভাবে চলাচলে বিঘœ ঘটাক এটা তিনি চাননা। এছাড়া ফুটপাত পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকলে শহরকে দেখতেও সুন্দর দেখায়। আইভি আরও বলেছেন, তিনি হকারদের বসার কোন ব্যবস্থা না করেই হকার উচ্ছেদ শুরু করেন নি। তিনি বলেছেন, রাস্তার অদূরেই একাধিক জায়গা হকারদের বসার জন্য চিহ্নিত করে এবং তা অনুমোদন করার জন্য সংশ্লিষ্ট অফিসে দ্বািিয়ত্বপাপ্তদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তিনি তার কোন উত্তর পাননি।
উল্লেখ্য, ঐদিন হকার উচ্ছেদ নিয়ে চাষাড়ায় স্থানীয় এমপি ও সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা; সেলিনা হায়াৎ আইভি’র সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। ঘন্টাখানেক ধরে এই সংঘর্ষ চলাকালে এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয় বলে খবরে প্রকাশ। এতে মেয়র আইভি ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের শহর শাখার সভাপতি জুয়েল হোসেন সহ অন্তত; অর্ধশত আহত হয়েছেন। এ সময় পুলিশ প্রচুর কাঁদানী গ্যাস ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। জানা গেছে, ন্রাায়নগঞ্জ শহরের ফুটপাত হকারমুক্ত রাখা নিয়ে গত কয়দিন ধরেই শামীম ওসমান ও আইভি’র সমর্থকদের মধ্যে ্উত্তেজনা চলছিলো। এরই মধ্যে শামীম ওসমান এক সমাবেশে ঘোষণা দেন হকারদের পুনর্বাসনের আগে আগামী ২১ ফেব্রুয়ারী মঙ্গলবার বিকাল ৫টা থেকে রাত ১০ পর্য্যন্ত হকার বসবে। কিন্তু মেয়র আইভি ঘোষণা দেন, কোনো ভাবেই হকার বসতে দেয়া হবেনা।
ওই ঘোশণার পরিপেক্ষিতেই ঐদিন বিকেল ৪টা দিকে আওয়ামী লীগের নেতা কর্মী ও কাউন্সিলারদের নিয়ে অবস্থান নেন মেয়র আইভি। সেখান থেকে তাঁর অনুগামী নেতাকর্মীদের নিয়ে ফুটপাতের ওপর দিয়ে চাষাড়ার দিকে আসতে থাকেন। অপর দিকে চাষাড়া শহীদ মিনারে হকারদের কয়েকটি গ্রুপ বিকেল ৪টার দিকে সেখানে অবস্থান নেয়। এই হকারদের সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করলে তাদের মধ্যে বাকবিতন্ডা শুরু হয়। এছাড়া আইভি’র মিছিলটি পুলিশ আটকে দেয়। এই সময় একজন হকারকে মারধোর করা হলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তখন শামীম ওসমানের অনুগামী হিসেবে পরিচিত চাষাড়া এলাকার নিয়াজল সেখানে গেলে তাকেও নাকি মারধোর করা হয়। তারপরই শামীম ওসমান ও আইভি এই দু’পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এই সময় সায়াম প্লাজার সামনে মেয়র আইভি’কে লোকজন ব্যারিকেড দিয়ে রক্ষা করেন। তখন আইভি পায়ে আঘাত পান। পরে লোকজন আইভি’কে উদ্ধার করে নারায়নগঞ্জ প্রেস ক্লাবে নিয়ে যান। এদিকে শামীম ওসমান চাষাড়ায় বঙ্গবন্ধু সড়কে হকার সহ তার সমর্থকদের উদ্দেশ্রে বলেন, ’কেউ কেউ চাচ্ছে গন্ডগোল করে পরিস্থিতি অশান্ত করতে। নারায়নগঞ্জকে অশান্ত করতে দেয়া হবেনা। আপনারা ধৈর্য্য ধরেন। কেউ যেন নারায়নগঞ্জকে অশান্ত করতে না পারে।
অনেকে আবার অভিযোগ তুলেছেন, মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভি’র পেছনে নাকি জামাত,শিবির, বিএনপি সহ কয়েকটি সংগঠনের সমর্থন রয়েছে। একথার সত্যতা কতটুক ুতা জানিনা তবে তার সত্যতা যাচাই করার দ্বায়িত্ব আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের উপর। এটা তাদের সাংগঠনিক ব্যাপার।
এরপর গত ১৮ই ফেব্রুয়ারী মেয়র আইভি সিটি ভবনে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে নারায়নগঞ্জ থেকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয় এবং ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর তার অবস্থা জানার জন্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জনাব ওবায়দুল কাদের সেখানে গিয়ে তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজ খবর নেন। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মেয়র বলেন, আওয়ামী লীগের কর্মী হিসেবে আমি শেখ হাসিনার এক ক্ষুদ্র কর্মী। আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কর্মী। আমি আলী আহমদ চুনকার সন্তান। এই আমার পরিচয়। সকল কিছু আমার জনগণ। যেই জনগণের জন্য আমি বেঁচে আছি, এখানে দাঁড়িয়ে আছি। আমি আপনাদের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলছি। তিনি আরও বলেন, কারো সঙ্গে আমার কোন বিরোধ নেই। দেশ সেবা করতে নিউজিল্যান্ড থেকে চলে এসেছি। ২০০১ সালে আওয়ামী লীগের ভরাডুবির পর ২০০৩ সালে ক্যান্ডিডেট হয়ে আমি পাস করেছিলাম। আমি শেখ হাসিনার পরীক্ষিত সৈনিক। আমাকে বারবার পরীক্ষা দিতে হবেনা। আমি আওয়ামী লীগের একজন নিবেদিত কর্মী। একজন মেয়র হিসেবে আমি নারায়নগঞ্জের লীডার।’
খুব ভালো কথা। তাদের দাবী , তারা দু’জনই আওয়ামী লীগের পরিক্ষিত সৈনিক। তাই যদি হয়, তাহলে তারা ভালো করেই জানেন আগামী নির্বচনের আর কয় মাস বাকি? আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচন আওয়ামী লীগের জন্য এক বিরাট চ্যালেঞ্জ। আর এজন্যই আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলীয় এমপি, মন্ত্রীদের বলেছেন, তারা যেন প্রত্যেকেই নিজের এলাকায় গিয়ে জনসংযোগ বাড়ান। জনগনের আস্থা অর্জনের জন্য স্থানীয় নেতা কর্মীদের সাথে নিয়ে কাজ করেন। এ রকম একটি কঠিন মূহুর্তে যদি নারায়নগঞ্জের মতো একটি জায়গায় যেখানে আওয়ামী লীগের নিশ্চিত আসন, সেখানে যদি আওয়ামী লীগের দুই পরীক্ষিতি সৈনিক অর্থাৎ পীর আর পীরানির মধ্যে যুদ্ধ চলতে থাকে তাহলে নারায়নগঞ্জে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ কি প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে দাঁড়ায়না? আমরা সবাই জানি বিরোধী দলগুলো ওৎ পেতে বসে আছে আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করার জন্য। দেশে আজ যে অরাজকতা চলছে তা সামাল দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে হিমশিম খেতে হচ্ছে এটা কি তারা বুঝতে পারেননা? তাদের এই ক্ষমতার দ্বন্ধের কারণে যদি তাদের এলাকার নিশ্চিত আসনটি অন্য হাতে চলে যায় তাহলে এই পরীক্ষিতি সৈনিকরা কি উত্তর দেবেন? এখন দেশবাসী চেয়ে আছে এব্যাপারে আওয়ামী লীগের উচ্চ পর্র্য্যরায়ের নেতারা কি সিদ্ধান্ত নেন। তাদের এই সিদ্ধান্ত পীর আর পীরানির মানা আর না মানার উপরই নির্ভর করবে নারায়নগঞ্জের ভবিষ্যৎ ।

ছবি; যদি পারেন তাহলে আইভি এবং শামীম ওসমানের একটা মুখোমুখি ছবি দিলে ভালো হবে।

দেওয়ান ফয়সল
সাংবাদিক ও লেখক
কার্ডিফ,ইউকে।

 
 
 

এই বিভাগের আরও সংবাদ

 

ক্যালেন্ডার