আজকে

  • ১০ই আষাঢ়, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
  • ২৪শে জুন, ২০১৮ ইং
  • ৮ই শাওয়াল, ১৪৩৯ হিজরী
 

সোশ্যাল নেটওয়ার্ক

ইউরোপ থেকে অবৈধ বাংলাদেশীরা ফিরতে শুরু করেছে

Published: শনিবার, জানুয়ারি ২০, ২০১৮ ৪:২৬ অপরাহ্ণ    |     Modified: শনিবার, জানুয়ারি ২০, ২০১৮ ৪:২৬ অপরাহ্ণ
 

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সাথে চুক্তির আওতায় ইউরোপের বিভিন্ন দেশে অবৈধভাবে অবস্থানরত বাংলাদেশীরা ফিরে আসতে শুরু করেছেন। চুক্তি স্বাক্ষরের পর এর অধীনে গত চার মাসে ৪০ জন বাংলাদেশী ফেরত এসেছেন। ইইউ’র দেয়া তালিকা অনুযায়ী পরিচয় যাচাই-বাছাই শেষে বাকীদের ফেরত আনার প্রক্রিয়া চলছে।

অনিয়মিত বাংলাদেশীদের ফিরিয়ে আনার জন্য নিউ ইয়র্কে গত সেপ্টেম্বরে জাতিসঙ্ঘ সাধারণ অধিবেশনের সাইডলাইনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী এবং ইইউর অভিবাসন বিষয়ক মন্ত্রী দিমিত্রিস আভ্রেমোপোলসের মধ্যে চুক্তি হয়। ডিসেম্বরে ব্রাসেলসে চুক্তির আওতায় প্রথম যৌথ কার্যকরী গ্রুপের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ চুক্তির অধীনে প্রতি মাসে ১০০ জন করে প্রথম ছয় মাসে ৬০০ জনের বেশি বাংলাদেশীকে ইউরোপ থেকে ফেরত পাঠানো যাবে না।

এ ব্যাপারে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে অবৈধভাবে অবস্থানকারী বাংলাদেশীদের ফিরিয়ে আনা সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত। ধারাবাহিকভাবে সব সরকারই এ সিদ্ধান্ত অনুসরণ করে। তা না হলে বৈধ বাংলাদেশীদের অভিবাসন প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাবে। তবে ফিরিয়ে আনার আগে সরকার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাগরিকত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত হতে চায়। এ প্রক্রিয়াটি ক্ষেত্র বিশেষ সময়সাপেক্ষ হয়ে পরে।

গত আগস্টে ঢাকায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে ইউরোপ থেকে অবৈধ বাংলাদেশীদের ফিরিয়ে আনা সংক্রান্ত চুক্তির (স্ট্যান্ডার্ড অপারেশন প্রসিডিউর বা এসওপি) খসড়া চূড়ান্ত করা হয়। সরকারের অনুরোধে সুনির্দিষ্ট নয়, বরং একটি যৌক্তিক সময়সীমার মধ্যে অবৈধ হিসাবে চিহ্নিতদের বাংলাদেশীদের নাগরিকত্ব যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার ব্যাপারে ইইউ সম্মতি জানায়।

ইইউ’র সাথে বাংলাদেশের চুক্তি অনুযায়ী, ইউরোপের দেশগুলো সেখান থেকে অনিয়মিত বাংলাদেশীদের একটি পদ্ধতি অনুসরন করে ফেরত পাঠাতে পারবে। অবৈধ বাংলাদেশীদের ফিরিয়ে আনতে ইইউ নানা ধরনের সহায়তার প্রস্তাব করেছে। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার খরচ বহন, স্থানীয় আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতির সাথে সম্পৃক্ত হতে সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের পর বৈধভাবে আবারো ইউরোপ যাওয়ার সুযোগ দেয়া।

বাংলাদেশ পুরো প্রক্রিয়াটি একটি উন্নয়ন মডেলের আওতায় করতে চায়। এই মডেলের মধ্যে অভিবাসীদের পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের জন্য অর্থ যোগান এবং প্রশিক্ষণ রয়েছে। এ খাতে ইইউ আগে সাড়ে ছয় মিলিয়ন ইউরো বরাদ্দ করেছিল। এখন তারা আরো ছয় মিলিয়ন বরাদ্দ করেছে। বরাদ্দ আরো বাড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে ইউরোপের দেশগুলোর এই জোট।

২০১৭ সাল থেকে ইউরোপে অবৈধভাবে বাংলাদেশীদের প্রবেশ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যায়। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) হিসাব মতে, ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে যে সব মানুষ অবৈধভাবে ইউরোপে অভিবাসন প্রচেষ্টা চালায়, তার মধ্যে বাংলাদেশীদের অবস্থান শীর্ষে। বাংলাদেশীরা লিবিয়া পর্যন্ত পৌঁছাতে আট থেকে নয় হাজার ডলার খরচ করে। এর পর ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইটালি পৌঁছাতে খরচ করে আরো ৭০০ ডলার। ঝুঁকিপূর্ণভাবে সাগর পাড়ি দিতে গিয়ে অন্যান্য দেশের নাগরিকদের সাথে অনেক বাংলাদেশী প্রাণ হারিয়েছে। এছাড়া লিবিয়ার কর্তৃপক্ষের কাছে আটক বা মানবপাচারকারীদের কাছে জিম্মি রয়েছে অনেকে।

ইটালি অভিবাসীদের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়ায় অনেকেই এই সুযোগ নেয়ার চেষ্টা করে। কেউ ইটালি পৌঁছে স্থানীয় পুলিশ স্টেশনে নিবন্ধন করলে সাময়িক ওয়ার্ক পারমিট পায়। কিন্তু ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইটালি প্রবেশের হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় এবং একইসাথে দেশটির অর্থনৈতিক মন্দা সবদিক থেকে সমস্যার সৃষ্টি করেছে। এখন অবৈধ অভিবাসীরা ইউরোপের অন্যান্য দেশে ছড়িয়ে পড়ছে। এ কারণেই ইউরোপিয়ান কমিশনের প্রেসিডেন্ট ইটালির প্রধানমন্ত্রীর সাথে কথা বলে অবৈধ বাংলাদেশীদের সম্পর্কে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। অবৈধদের ফিরিয়ে নেয়া না হলে বাংলাদেশের জন্য ভিসা কঠিন করে দেয়ার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি।

ইউরোপীয় নেতৃবৃন্দের এ মনোভাবের প্রভাব বাস্তবে প্রতিফলন হতে দেখা যায়। ২০১৪ সালে ইইউভুক্ত দেশগুলো বাংলাদেশীদের জন্য ২৬ হাজার, ২০১৫ সালে ২১ হাজার এবং ২০১৬ সালে ২৫ হাজার রেসিডেন্ট পারমিট ইস্যু করে। কিন্তু ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত মাত্র চার হাজার ১০০ পারমিট ইস্যু করা হয়।

 
 
 

এই বিভাগের আরও সংবাদ

 

ক্যালেন্ডার