আজকে

  • ৫ই শ্রাবণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
  • ২০শে জুলাই, ২০১৮ ইং
  • ৬ই জিলক্বদ, ১৪৩৯ হিজরী
 

সোশ্যাল নেটওয়ার্ক

ষাটের দশকে মিডল্যান্ডের এক কারী ব্যবসায়ীর সফলতার গল্প

Published: সোমবার, জানুয়ারি ৮, ২০১৮ ১২:৪৫ পূর্বাহ্ণ    |     Modified: সোমবার, জানুয়ারি ৮, ২০১৮ ৪:১৯ পূর্বাহ্ণ
 

ইউকেবিডি টাইমস ডেস্কঃ

ইংল্যাণ্ডে ভারতীয় উপমহাদেশের খাবার এখন খুবই জনপ্রিয়। কিন্তু একটা সময় ছিল যখন ব্রিটেনের মানুষের কাছ কারি বা মসলাযুক্ত খাবার ছিল সম্পূর্ণ অপরিচিত।

১৯৫০এর দশকে ইংরেজদের রসনায় কারিকে জনপ্রিয় করতে রীতিমত বেগ পেতে হয়েছিল সেসময় যারা দক্ষিণ এশীয় রেস্তোঁরা ব্যবসা চালু করেছিলেন।

বাংলাদেশি নুর জামান খান তার রেস্তোঁরা ব্যবসা শুরু করেছিলেন মধ্য ইংল্যাণ্ডে বা মিডল্যাণ্ডসে।

ইংল্যাণ্ডের মিডল্যাণ্ডস এলাকায় প্রচুর ব্রিটিশ বাংলাদেশি এখন কারি রেস্তাঁরার রমরমা ব্যবসা করছেন। এসব কারি রেস্তোঁরা ইংল্যাণ্ডে পরিচিত ভারতীয় রেস্তোঁরা নামে।

১৯৫০এর দশকের গোড়ায় শুরু হয়েছিল এই কারি ব্যবসা।

যুদ্ধোত্তর ব্রিটেনে মসলাযুক্ত খাবারের কোন চল না থাকলেও দক্ষিণ এশিয়া থেকে সেসময় অভিবাসীদের আগমন সেই চালচিত্র বদলে দেয়।

নুর জামান খান এসেছিলেন বাংলাদশ থেকে ১৯৫৭ সালের গ্রীষ্মে। তার বয়স তখন তার হিসাবে বোধহয় ১৮ কি ১৯। হিথরো বিমানবন্দরে নেমে তিনি পাড়ি জমান ইংল্যাণ্ডের দ্বিতীয় সবচেয়ে বড় শহর মিডল্যাণ্ডসের বার্মিংহাম শহরে।

সেখানে তার গ্রামের একজন পরিচিত থাকতেন। তাছাড়া তার একজন আত্মীয়ও ছিলেন ওই শহরে। কিন্তু প্রথম যাত্রাটাও ছিল তার জন্য কঠিন। প্রথম ধাক্কা এসেছিল ভাষা নিয়ে।

“আমি যখন দেশে ছিলাম, আমি ভালই ইংরেজি বলতাম। আমার নিজের মত করে। কিন্তু ইংল্যাণ্ডে আসার পর দেখলাম আমার কথা কারোকে বোঝাতে পারছি না। আমি কলেজে পড়েছি,ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে গেছি। কিন্তু আমরা যে অ্যাকসেন্টে ইংরেজি বলতাম তার সঙ্গে ইংল্যাণ্ডের অ্যাকসেন্টের অনেক তফাৎ। ফলে আমার কথা কেউ বুঝছিল না। যেটা বিরাট একটা সমস্যা হয়ে দাঁড়াল।”

কাজেই তিনি বামিংহাম যেতে চান একথাটা কাগজে লিখে মানুষকে বোঝাতে হয়েছিল।

বার্মিংহাম ছিল ১৯৫০এর দশকে ব্রিটেনে ব্যবসা-বাণিজ্যের একটা প্রাণকেন্দ্র। শহরে তখন একের পর এক গড়ে উঠছে নানা ধরনের শিল্প কলকারখানা, সেইসঙ্গে মোটরগাড়ি তৈরির কারখানাও।

মি: খান কাজ পান এরকম এক কারখানায় এবং এক বছরের মধ্যে পুঁজি জোগাড় করে ফেলেন নতুন এক উদ্যোগে ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য।

ভারতীয় রেস্তোঁরা ব্যবসা তখন বার্মিংহাম ও তার পাশের উলভারহ্যাম্পটন শহরের জন্য ছিল আনকোরা নতুন এক শিল্প।

পঞ্চাশের দশকে শুরুর সময়ে খাবারের মেন্যুতে ইংরেজদের পছন্দের খাবারই রাখতে হতো। পরিস্থিতি বদলাতে অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে সেসময় রেস্তোঁরা মালিকদের।

“আমার একজন বন্ধুর আত্মীয় সেখানে নতুন একটা রেস্তোঁরা খোলার জন্য উদ্যোগ নিচ্ছিলেন। উনি আমাকে ডাকলেন। সেটা ছিল মধ্য ইংল্যাণ্ডের উলভারহ্যাম্পটন শহরের প্রথম ভারতীয় রেস্তোঁরা – কোহিনূর।”

কোহিনূর নুর জামানের জন্য নিয়ে এসেছিল ভাল ব্যবসা। তার প্রথম বিনিয়োগ থেকে তিনি ভাল অঙ্কের লাভের মুখ দেখেছিলেন। কিন্তু কাজটা মোটেই সহজ ছিল না ।

“খদ্দেরদের জোর করে রেস্তোঁরায় আনতে হতো, প্রথম দিকে খাবারের মেন্যুতে ইংরেজদের পছন্দের খাবার রাখতে হতো।”

“আমাদের মেন্যুতে থাকত ডিমের ওমলেট, রোস্ট চিকেন, মুরগী বা ভেড়ার লিভার বা কলিজা এসব। আলু ভাজা বা চিপস্ও রাখতাম মেন্যুতে। আলুভাজা খুব জনপ্রিয় ছিল। বেশিরভাগ লোক খেত আলুভাজা আর কারি । ভাত বিক্রি করা কঠিন ছিল। লোকে ভাত খেতে চাইত না।”

মি: খান চেষ্টা করতেন কীভাবে খদ্দেরদের নতুন নতুন খাবারের স্বাদ নিতে শেখাবেন।

“প্রথম প্রথম আমরা তাদের জন্য হালকা মসলাযুক্ত খাবার দিয়ে শুরু করতাম। তারপর ধীরে ধীরে মসলার পরিমাণ বাড়াতাম এবং নতুন ও ভিন্ন স্বাদের মসলা দিয়ে রান্না খাবার তাদের চেষ্টা করতে বলতাম। তারা জানতে কৌতূহলী ছিল আমরা কী খাই। আমরা বলতাম এগুলোই আমাদের খাদ্য। তবে তাদের বলতাম বাংলাদেশিরা খুব মাছ ভালবাসে। কিন্তু আমাদের মেন্যুতে মাছ বলতে ছিল শুধু চিংড়িমাছ।”

মি: খান বলছিলেন তখন বাংলাদেশি মাছ ইংল্যাণ্ডে পাওয়া যেত না। এখন তো বাজারে বাংলাদেশের অনেকধরনের মাছ পাওয়া যায়। তখন যেত না। তখন দেশীয় কোন সব্জিও পাওয়া যেত না- যেমন ঢ্যাঁড়শ, বেগুন, এমনকী ধনেপাতাও পাওয়া যেত না। তবে বাংলাদেশি মসলাপাতি পাওয়া যেত।

আসলে ভারতীয় উপমহাদেশের বিভিন্ন মসলা অনেক আগে থেকেই – অষ্টাদশ শতাব্দী থেকেই ব্রিটিশদের রান্নায় ব্যবহৃত হয়ে এসেছে।সূত্রঃবিবিসি

 
 
 

এই বিভাগের আরও সংবাদ

 

ক্যালেন্ডার