আজকে

  • ৫ই শ্রাবণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
  • ২০শে জুলাই, ২০১৮ ইং
  • ৫ই জিলক্বদ, ১৪৩৯ হিজরী
 

সোশ্যাল নেটওয়ার্ক

নতুন বছরে যেসব চমক দেখবে বিশ্ববাসী

Published: মঙ্গলবার, জানুয়ারি ২, ২০১৮ ২:৩১ অপরাহ্ণ    |     Modified: বুধবার, জানুয়ারি ৩, ২০১৮ ১০:৪৩ অপরাহ্ণ
 

ইউকেবিডি টাইমস ডেস্ক:

শেষ হলো ২০১৭ সাল। আর শুরু হলো নতুন বছর ২০১৮। নানা উত্থান-পতন আর প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে বিদায় নিল ২০১৭। তবে ২০১৮ সাল কেমন যাবে? এ বছরটিতে আমাদের জন্য কী অপেক্ষা করছে? রাজনীতি, অর্থনীতি, সংস্কৃতি ক্ষেত্রে বেশ কিছু ঘটনা ঘটবে, যার দিকে বিশ্ববাসীর চোখ থাকবে। চলুন জেনে নেওয়া যাক সেসব।

বাজতে পারে কোরীয় যুদ্ধের দামামা : উত্তর কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান উত্তেজনা ২০১৮ সালেও অব্যাহত থাকার আশঙ্কাই বেশি। বছর শেষে ১১তম আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মুখে ক্ষিপ্ত বেইজিং এরই মধ্যে জানিয়ে দিয়েছে, তারা ২০১৮ সালেও তাদের পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি অব্যাহত রাখবে। গত নভেম্বরের শেষ দিকে আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষার পর উত্তর কোরিয়া দাবি করে, তাদের এই দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, বিশ্বের যে কোনো স্থানে আঘাত হানতে সক্ষম। উত্তর কোরিয়ার লাগামহীন পরীক্ষাকে যুক্তরাষ্ট্র নিজের নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি মনে করে। যুক্তরাষ্ট্র খুবই উদ্বিগ্ন। উদ্বেগে আছে প্রতিবেশী দেশ দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপানও। এ ক্ষেত্রে সামান্য ভুল হিসাবের জেরেই বেধে যেতে পারে যুদ্ধ।

ইউরোপের রাজনীতিতে বাড়বে ডানপন্থিদের প্রতাপ : গত বছর অস্ট্রিয়ার ডানপন্থি দল ফ্রিডম পার্টি (এফপিও) সবচেয়ে সফল বছর কাটিয়েছে। দলটি দেশটির জোট সরকারের অংশীদার হওয়ার সুযোগ পেল এবার। এর প্রভাব বিশেষ করে মধ্য ইউরোপে বেশ প্রবলভাবেই অনুভূত হবে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে জার্মানির সংসদে প্রথমবারের মতো জায়গা করে নেয় কট্টর ডানপন্থি দল অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি)। দলটি ৯৪ আসন দখল করে নেয়। নেদারল্যান্ডসে গত নির্বাচনে ফ্রিডম পার্টি (পিডব্লিউ) দ্বিতীয় বৃহত্তম দলে পরিণত হয়েছে। আর ফ্রান্সে মেরিলি প্যানের কট্টর জাতীয়তাবাদী দলও ভালো ফল করে। দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রথম দফায় দ্বিতীয় বৃহত্তম দলে পরিণত হয় এবং দ্বিতীয় দফা নির্বাচনে ইমানুয়েল মাক্রোনের হাতে ধরাশায়ী হলেও দলটির প্রভাব যে ব্যাপকভাবেই থাকবে, তা বলা বাহুল্য।

অভিবাসীদের জন্য কঠোর হয়ে উঠতে পারে ইউরোপ : বিভিন্ন দেশে মাটি পাচ্ছে ডানপন্থিরা। আর অভিবাসন বিদ্বেষী ডানপন্থিদের উত্থানের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মূলধারার দলগুলোকেও অভিবাসীদের প্রশ্নে রক্ষণশীল হয়ে উঠতে বাধ্য হবে। এ ছাড়া ব্রেক্সিটের নানা শর্ত ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ব্রিটেনকে আলোড়িত করবে। ত্রিশ লাখের বেশি অভিবাসী এ বছরটিতেও থাকবে দুশ্চিন্তায়। কট্টরপন্থিদের উত্থানের কারণে মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকা থেকে আসা শরণার্থীদের পক্ষে অস্ট্রিয়া দিয়ে ইউরোপে প্রবেশ কঠিন হবে। তেমনি জার্মানি, ফ্রান্স ও ইতালির মতো দেশে কট্টরপন্থিদের বিরোধিতার মুখে পড়তে হবে।

অ্যাঙ্গেলা মেরকেলের পতন ঘটতে পারে : জার্মানির রাজনীতিতেই শুধু নয়, প্রভাবশালী তিনি গোটা ইউরোপজুড়ে। সর্বশেষ চতুর্থ দফা জয়ী হলেও তার দলের আসনসংখ্যা অনেক কমে গেছে। বাধ্য হয়ে মহাজোট গঠনের পথে হেঁটেছিলেন, সে ক্ষেত্রেও ব্যর্থতার মুখে পড়েন তিনি। এখনও আলোচনা চলছে সংখ্যালঘু সরকার গঠনের লক্ষ্যে। এ দফা ব্যর্থ হলে নতুন নির্বাচনের পথে যাবে জার্মানি। এ ক্ষেত্রে কট্টরপন্থি এএফডি আরও প্রভাব বিস্তার করতে পারে রাজনীতিতে। মেরেকেলে দলের জন্য জয় যেমন কঠিন হয়ে পড়তে পারে, তেমনি তারও বিদায়ঘণ্টা বাজা অসম্ভব নয়। তাই জার্মানির দিকেও চোখ থাকবে সচেতন রাজনীতি মহলের।

মাক্রোনের আন্তর্জাতিক প্রভাব বাড়বে : দেশের ভেতরে সংকটের কারণে জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেলের প্রভাব ইইউরোপে দুর্বল হবে আর এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েলের প্রভাব আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উজ্জ্বল হবে বলেই আশা করছেন রাজনীতি বিশেষজ্ঞরা।

তেরেসার ভাগ্যে কী আছে তাও থাকবে নজরে : ব্রেক্সিট প্রশ্নে গণভোট দিয়ে সংসদে নিজের দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়ে সেই যে নেতৃত্ব নিয়ে চাপে পড়েছেন, বলতে গেলে এরপর আর তেমন সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারেননি। দলের ভেতরে বারবার গুঞ্জন ওঠে তার নেতৃত্ব নিয়ে। দলের ভেতর থেকে তার বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ আসা অসম্ভব নয়। তা সামলে ওঠা তার জন্য সহজ নাও হতে পারে। তবে রাজনীতি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ২০১৮ সালেও তেরেসাই থাকবেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী এবং দলের নেতা।

পুতিনই থাকবেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট : রাশিয়ায় ১৮ মার্চে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও চোখ রাখবেন অনেকে। তবে আগের মতোই ভদ্মাদিমির পুতিনের একচ্ছত্র জয় নিশ্চিত। তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সামান্য যোগ্যতা রাখে এমন নেতা ছিলেন আলেক্সেই নাভালনি। তার মনোনয়ন অনুমোদন করেনি নির্বাচন কর্তৃপক্ষ। তাই আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন হয়ে পড়বে এই নির্বাচন।

ট্রাম্প-যুগের অবসান হতে পারে :যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য বছরটি যদি বিদায়ের পট তৈরি করে, তাহলে বিস্মিত হওয়ার কিছু নেই। গত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগে তার প্রচার টিমের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। তার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগও আছে। আর কর সংস্কার বিলও তার জন্য কাল হয়ে উঠতে কতক্ষণ। কিংবা এই তিনটি মিলেই ২০১৮ সাল তার জন্য বিদায়ঘণ্টা বাজলে খুব বিচিত্র কিছু হবে না।

প্রিন্স হ্যারির বিয়ে : ব্রিটিশ রাজপরিবার বলে কথা। গোটা ইউরোপই তাদের বিভিন্ন অনুষ্ঠান নিয়ে বেশ আগ্রহী। রাজপরিবারে এ বছরেই অনুষ্ঠিত হবে একটি জাঁকজমকপূর্ণ বিয়ে। ব্যাপক আলোচিত এ বিয়েটি ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্স হ্যারি ও মেগান মার্কেলের।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের শতবর্ষ : সর্বশেষ ২০১৮ সাল হচ্ছে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ সমাপ্তির ১০০ বছর পূর্তি। এ উপলক্ষে নিশ্চয়ই বিভিন্ন দেশের নানারকম ব্যাপক প্রস্তুতি থাকবে।

কার্ল মার্কসের জন্মের ২০০তম বার্ষিকী : জার্মান দার্শনিক কার্ল মার্কসের জন্ম হয়েছিল ১৮১৮ সালের ৫ মে। ২০১৮ সালের ৫ মে তার জন্মের ২০০তম বার্ষিকী। আশা করা চলে তার চিন্তা এবং উত্তরাধিকার নিয়ে এ বছর বহুমাত্রিক বিতর্ক হবে।

পোলিও নিশ্চিহ্ন হচ্ছে পৃথিবী থেকে : পোলিওকে একসময় পৃথিবীর সবচেয়ে ভীতিকর রোগ বলে মনে করা হতো। কিন্তু এখন পোলিও বিলুপ্ত হওয়ার পথে। গত ডিসেম্বর পোলিও নির্মূলের বৈশ্বিক সংস্থা বলছে, ২০১৭ সালে মাত্র ১৭ জনের পোলিও হয়েছিল। আশা করা হচ্ছে, ২০১৮-এর শেষ হতে হতে পোলিও হয়তো বিলুপ্ত হয়ে যাবে।

 
 
 

এই বিভাগের আরও সংবাদ

 

ক্যালেন্ডার