Thursday, December 7, 2017 1:24 AM
 
 

শাকিব-অপুর বিয়ে সদাই, পণ্যের তালিকায় তালাক

প্রকাশিত: December 7, 2017 1:24 am   আপডেট: December 7, 2017 at 1:24 am
 

শামীমুল হকঃকথায় বলে প্রেম-ভালোবাসা স্বর্গ থেকে আসে। আর তাই তো সেই স্বর্গ থেকে প্রেমে মজেছিলেন অভিনেতা শাকিব আর অভিনেত্রী অপু। আর প্রেম-ভালোবাসার প্রতিদান দিতে একে অপরকে গোপনে বিয়ে করেন। গোপনে নেন সন্তান। এ সন্তানও নেয়া হয় এক প্রকার বাধ্য হয়ে। অপুর ভাষ্য অনুযায়ী এর আগে তিনবার গর্ভপাত ঘটানো হয়েছে। চতুর্থ বারও গর্ভপাত  ঘটাতে গিয়েছিলেন। কিন্তু ডাক্তার বাদ সাধেন। তাই বাধ্য হয়েই এ সন্তান পেটে ধারণ করতে হয়। পৃথিবীর আলো দেখাতে হয়। এ ইতিহাস শুনে যে কেউ বিশ্বাস করবে শাকিব-অপুর প্রেমও ছিল অভিনয়ে ঠাসা। পৃথিবীতে লাইলি-মজনু, শিরি-ফরহাদ এমনকি চণ্ডিদাস ও রজকিনীর প্রেম কাহিনী শুনলে গা শিউরে উঠে। চণ্ডিদাস রজকিনীকে পেতে বার বছর একটি পুকুরে বঁড়শি নিয়ে বসে ছিলেন। এর পেছনে উদ্দেশ্য ছিল রজকিনীকে এক নজর দেখা। বার বছর পর রজকিনী চণ্ডিদাসকে জিজ্ঞেস করেন এতদিন ধরে যে পুকুরে বঁড়শি নিয়ে বসে আছো কয়টি মাছ পেয়েছো? চণ্ডিদাসের উত্তর ছিল এইমাত্র  ঠোকর দিয়েছে। অবশ্য এখনকার সমাজে আর সেসব প্রেম কাহিনীর জন্ম হবে না। এখন আধুনিক যুগ। মোবাইল ফোনে একবার হাই হ্যালো বললেই প্রেম হয়ে যায়। একসঙ্গে বসে আড্ডা। খাওয়া-নাওয়া সবকিছুই হয়। ভালোবাসা এখন যে সস্তা এক বস্তু হয়ে গেছে। এই সস্তা বস্তুই সদাই করেছিলেন শাকিব ও অপু। শাকিব ভেবেছিলেন গোপন প্রেম গোপনেই শেষ করে ফেলবেন। কিন্তু অপু সেটা হতে দেননি। তাতে কি? সবই যখন হয়েছে গোপনে। তালাক প্রকাশ্যে দিতে অসুবিধা কোথায়?
রুপালি জগতের জনপ্রিয় জুটি শাকিব আর অপু অভিনয় করতে করতেই বাস্তব জীবনের জুটি হয়েছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ প্রায় নয় বছর বাস্তব জীবনের জুটি হওয়ার কথা গোপনই রাখেন। এমনকি সন্তান জন্ম নেয়ার প্রায় এক বছর বিষয়টি গোপনই থাকে। কিন্তু গোল বাধিয়ে দেন অপু নিজেই। একটি টিভি চ্যানেলের লাইভে শাকিবের সঙ্গে তার বিয়ে, সংসার ও সন্তানের গোপন কাহিনী সবার নজরে আনেন। সে সময় খুবই ক্ষিপ্ত হয়েছিলেন শাকিব। বিভিন্ন মিডিয়ায় বিয়ের কথা অস্বীকার করার পাশাপাশি সন্তানের কথাও অস্বীকার করেন। এমন কথাও বলেন, এ সন্তান কার সেটা অপুই জানে। দেশজুড়ে যখন এ নিয়ে তোলপাড় তখনই ফন্দি আঁটেন শাকিব। সবকিছু স্বীকার করে নেন। দৌড়ে যান অপুর কাছে। একসঙ্গে ছবি তুলেন। আরো কত কী। সে সময় সেরা অভিনেতা শাকিব তার অভিনয়ের পুরোটাই কাজে লাগান। সেই অভিনয়ে সে সময়ের পরিস্থিতি নিজের অনুকূলে আনেন। অবশ্য তখনই অনেকে বলাবলি করছিলেন এটা হয়তো শাকিবের চাতুরি। চূড়ান্ত অভিনয়। এরপরই অ্যাকশন, কাট বলে শেষ হবে অভিনয়ের পালা। শেষ পর্যন্ত তাই হলো। শেষ দৃশ্যে কাট বলেই সমাপ্তি টানলেন। এর আগে ঝানু অভিনেতার মতোই ধীরে ধীরে অপুর বিরুদ্ধাচরণ করতে থাকেন। সন্তানের জন্মদিনের কার্ডে তার ছবি দেয়া হলো না কেন? এ নিয়ে গোস্‌সা করেন। জন্মদিনের অনুষ্ঠানই বয়কট করেন। এমনিতেই শাকিবকে নিয়ে নানা কথা চারদিকে। রুপালি পর্দায় আসার পেছনের কাহিনী থেকে শুরু করে শ্যুটিং করার সময়ের নানা কাহিনী মানুষের মুখে মুখে। অপুকে ডিভোর্স লেটার পাঠিয়ে সেই সব কথা সত্যি বলেই মনে করিয়ে দিলেন দর্শকদের। ঢালিউডের নাম্বার ওয়ান নায়ক শাকিব খান তার স্ত্রী নায়িকা অপু বিশ্বাসকে ডিভোর্স লেটার পাঠিয়ে অভিনয়ের ষোলকলা পূর্ণ করলেন। ওদিকে ঘটনার এখানেই শেষ নয়। আরো চমক আসছে দেশবাসীর সামনে। অপু গতকাল ডিভোর্স লেটার পেয়েছেন। এর আগে জানিয়েছিলেন তালাক নোটিশ পেলে তিনি সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানাবেন। সত্যিই শাকিবরা পারেন। পারবেন। অপুরাও কম যান না। তারপরও পর্দার এ জুটি হতে পারতো বাস্তব জীবনের আদর্শ জুটি। কিন্তু সেটা আর হলো কই? শাকিব দুটি কারণ দেখিয়েছেন। প্রথমটি হলো- অপু তাদের সন্তানকে কাজের লোকের কাছে রেখে কথিত বয়ফ্রেন্ডকে নিয়ে ভারতে বেড়াতে গিয়েছিলেন। আর দ্বিতীয় অভিযোগে শাকিব জানিয়েছেন, অপু তার কোনো নির্দেশ মেনে চলেন না, তাই তিনি বিবাহ বিচ্ছেদ চান। শাকিবের অভিযোগ সত্যি বলেই ধরে নেয়া যায়। কারণ বিয়ে, সন্তান, সংসার সবকিছুর কথা গোপন রাখার কথাই বলেছিলেন শাকিব। আর তাই রুপালি পর্দার নায়িকা অপু তার কথামতো তিনবার গর্ভপাত ঘটিয়েছেন। দীর্ঘ নয় বছর বিয়ের কথা গোপন রেখে সংসার করেছেন। সন্তান হওয়ার পরও গোপন রেখেছেন। এতদিন শাকিবের কোনো অভিযোগ ছিল না। শাকিব বলেননি অপু তার নির্দেশ মানেন না। যখন অপু সবকিছু জানিয়ে দিলেন তখনই এ অভিযোগ আনা হলো। আর গোপন কথা জানিয়ে দেয়ার পেছনেও নিশ্চয় কারণ আছে। যখন অপু দেখছে সবকিছু সঁপে দিয়েও অভিনেতা শাকিব তার সঙ্গে অভিনয় করছেন তখনই হয়তো অপু সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তার গোপন কথা প্রকাশ করার। এটা শাকিবের কাছে অপরাধ মনে হতে পারে। কারণ শাকিব চেয়েছিলেন হয়তো আরো অনেকদিন অপুকে ব্যবহার করে যাবেন ভোগের সামগ্রী হিসেবে। বর্তমান পরিস্থিতি অন্তত তা-ই বলে।

লেখকঃনির্বাহী সম্পাদক,

দৈনিক মানব জমিন।

 
সংবাদটি পড়া হয়েছে 1097 বার
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 

ক্যালেন্ডার