Friday, December 1, 2017 2:03 AM
 
 

দৈনিক সিলেটের ডাক-এর পুণঃপ্রকাশ যেন ফিনিক্স পাখির জেগে উঠা

প্রকাশিত: December 1, 2017 2:03 am   আপডেট: December 1, 2017 at 2:03 am
 

মুহাম্মদ তাজ উদ্দিনঃ

দীর্ঘ ১শ’ ৬৪ দিনের গ্রহণকাল। এক কোটি সিলেটবাসীর মুখপত্র দৈনিক সিলেটের ডাক এই  দীর্ঘ সময় প্রকাশিত হয়নি। অবশেষে সেই গ্রহণকাল কেটে গেছে। আজ থেকে নবদিগন্তে আবার আলো ছড়াচ্ছে দৈনিক সিলেটের ডাক। সকালের সতেজ করা এক কাপ চায়ের সাথে আজ থেকে আবারো পাঠকের টেবিলে শোভা পাবে দৈনিক সিলেটের ডাক। সকল প্রতিকূলতা মোকাবেলা করে, শত ঘাত প্রতিঘাত মোকাবেলা করে আইনী লড়াই শেষে ফিরে এলো দৈনিক সিলেটের ডাক। আনন্দের এই মাহেন্দ্রক্ষণে দৈনিক সিলেটের ডাক-এর অগণিত পাঠক, শুভানুধ্যায়ী, বিজ্ঞাপনদাতাসহ সর্বস্তরের সিলেটবাসীর প্রতি দৈনিক সিলেটের ডাক পরিবারের অসীম কৃতজ্ঞতা। 

সিলেটের শত বর্ষের সাংবাদিকতার ঋদ্ধ ধারক দৈনিক সিলেটের ডাক গত প্রায় ৫ মাস ধরে প্রকাশিত হয়নি। এ সময়ে দৈনিক সিলেটের ডাক-এর অভাব সিলেটবাসী অনুভব করেছেন হৃদয় থেকে। অপ্রাপ্তি আর অসম্পূর্ণতার অনুভূতি নাড়া দিয়েছে সবাইকে। সবার মুখে মুখে জিজ্ঞাসা ছিল একটি-ই, কবে আসবে দৈনিক সিলেটের ডাক ? কবে আসছে পাঠনের প্রিয় দৈনিক ? 

অবশেষে সেই জিজ্ঞাসার অবসান হয়েছে। আজ থেকে আবারো পাঠকের ঘরে ঘরে পৌছে যাচ্ছে দৈনিক সিলেটের ডাক। 

চলতি বছরের ১৮ জুন। প্রতিদিনের মত পরদিনের পত্রিকা প্রকাশের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন দৈনিক সিলেটের ডাক পরিবারের কর্মীরা। কিন্তু, আকষ্মিকভাবে জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে আসা একটি চিঠি থমকে দেয় দীর্ঘ ৩৪ বছরের পথচলাকে। জানানো হয়, দৈনিক সিলেটের ডাক-এর ডিক্লারেশন বাতিল করে দেয়া হয়েছে। আকষ্মিক এই সিদ্ধান্তে হতবিহ্বল হয়ে পড়েন সবাই। বন্ধের খবর জেনে দৈনিক সিলেটের ডাক-এর অগণিত পাঠক শুভানুধ্যায়ী ভীড় করেন মধুবন মার্কেটে দৈনিক সিলেটের ডাক কার্যালয়ে। তারা প্রতিবাদে বিক্ষোভে নামার ঘোষণাও দেন। 

কিন্তু, আইনের প্রতি বরাবরই শ্রদ্ধাবনত দৈনিক সিলেটের ডাক। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে দৈনিক সিলেটের ডাক-এর প্রাণপুরুষ দানবীর ড. রাগীব আলী বিষয়টি আইনগতভাবে মোকাবেলার সিদ্ধান্ত নেন। চরম ধৈর্য্য ও সহিষ্ণুতার পরিচয় দিয়ে দৈনিক সিলেটের ডাক পরিবার আইনী সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকেন। 

এই দীর্ঘ ৫ মাসে সুরমা-কুশিয়ারা দিয়ে বহু জল গড়িয়েছে। অসংখ্য সুঘটনা-দুর্ঘটনা ঘটে গেছে সিলেটের পথে প্রান্তরে। সময়ের খেরোখাতায় সেগুলো লেখা হলেও সিলেটের বোদ্ধা পাঠকমহল বঞ্চিত হয়েছেন সে সব ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা থেকে। 

সংবাদ, বিজ্ঞাপন, বিপণন, মুদ্রনসহ বিভিন্ন বিভাগ মিলিয়ে প্রায় ৫ শ’ সদস্যের সিলেটের ডাক পরিবার। তারা শুধু আশায় দিন গুণেছেন। পত্রিকার সম্মানী বা বেতনের উপর নির্ভরশীল অনেক পরিবারকে গুণতে হয় দীর্ঘশ্বাসের প্রহর। কিন্তু, সত্যের পথে অবিচল দৈনিক সিলেটের ডাক কর্মীরা হতাশায় ভেঙ্গে পড়েনি। দীর্ঘ কারাভোগের পর মুক্ত হলে যখন দৈনিক সিলেটের ডাক-এর প্রাণপুরুষ ড. রাগীব আলী মুক্ত আলোয় ফিরে আসেন, তখন নতুন করে আশায় বুক বাঁদেন ‘ডাক’ পরিবারের সদস্যরা। আইনী প্রক্রিয়ায় দৈনিক সিলেটের ডাক-এর ফিরে আসার চেষ্টা জোরালো হয়। 

অবশেষে গতকাল বুধবার দুপুরে আসে সেই বহু আকাঙ্খিত ঘোষণা। মহামান্য হাইকোর্ট বেঞ্চ দৈনিক সিলেটের ডাক-এ ডিক্লারেশন বাতিল করে দেয়ার সিদ্ধান্ত ৩ মাসের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেন। বিকেলে দৈনিক সিলেটের ডাক-এর পক্ষে আইনী লড়াইয়ে অংশ নেয়া ব্যারিস্টার আব্দুল হালিম কাফী স্বাক্ষরিত ল’ইয়ার্স সার্টিফিকেট ফ্যাক্সযোগে পাঠানো হয় জেলা প্রশাসকের কাছে। একটি মুদ্রিত কপিও জমা দেয়া হয় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে। 

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে গতকাল বিকেলেই দৈনিক সিলেটের ডাক কার্যালয়ে আবারো ফিরে আসে প্রাণ চাঞ্চল্য। অতীতের মত পাঠকের মনের খোরাক যোগান দিতে কলম হাতে বসে পড়েন দৈনিক সিলেটের ডাক-এর সংবাদ কর্মীরা। 

কাজের মাঝেও সুধীজনের শুভেচ্ছায় বর্ণিল হয়ে উঠে দৈনিক সিলেটের ডাক-এর বার্তা কক্ষ। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, সিলেট প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দসহ সুধী সমাজের অনেকে ভীড় জমান দৈনিক সিলেটের ডাক কার্যালয়ে। 

সন্ধ্যায় দৈনিক সিলেটের ডাক কর্মীদের উচ্ছাসে এসে শামিল হন পত্রিকাটির প্রাণপুরুষ, দৈনিক সিলেটের ডাক-এর প্রাণপুরুষ, স্বনামখ্যাত দানবীর ড. রাগীব আলী। আসেন দৈনিক সিলেটের ডাক-এর সম্পাদক আব্দুল হাই ও তার সহধর্মীনী সাদেকা জান্নাত চৌধুরীও। সাময়িক বিরতির পর নতুন দিনের পথচলায় অতীতের মত দৈনিক সিলেটের ডাক-এর নিরপেক্ষতা ও বস্তুনিষ্টতা বজায় রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তারা। 

দীর্ঘ ৫ মাসাধিককাল দৈনিক সিলেটের ডাক-এর অনুপস্থিতি দারুণ পীড়া দিয়েছে সিলেটের পাঠক মহলকে। দীর্ঘ ৩৪ বছর যে পত্রিকা ছিল সিলেটবাসীর প্রতিদিনের সহচর, তার অবর্তমানে সৃষ্টি হয় এক গভীর শূন্যতার। স্থানীয়ভাবে মান সম্পন্ন একটি দৈনিকের অভাব হাড়ে হাড়ে অনুভব করতে থাকেন সবাই। দৈনিক সিলেটের ডাক পুণঃপ্রকাশের দাবীতে চলে বক্তৃতা-বিবৃতি-স্মারকলিপি প্রদান। বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে সভা সমাবেশ করেও দৈনিক সিলেটের ডাক পুণঃ প্রকাশের দাবীও জানানো হয়। শুধু বাংলাদেশে নয়, দেশের বাইরে থেকেও দৈনিক সিলেটের ডাক-এর পক্ষে কলম ধরেন বোদ্ধা-লেখক-পাঠকরা। জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমসহ সামাজিক গণমাধ্যমেও দৈনিক সিলেটের ডাক-এর পুণঃপ্রকাশের দাবী জানিয়ে চলে ব্যাপক লেখালেখি। আজ নতুন দিনের সূচনায় দৈনিক সিলেটের ডাক পরিবার গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছে তাদের সকলের প্রতি, যারা এর পুণঃ প্রকাশনার দাবীতে সোচ্চার হয়েছিলেন। বিশেষ করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা দৈনিক সিলেটের ডাক পরিবারের সাবেক কর্মীবৃন্দসহ প্রকাশনার দাবীতে যারা উচ্চ কন্ঠ ছিলেন, তাদের সকলের প্রতি আমাদের গভীর কৃতজ্ঞতা। 

দীর্ঘ ৩৪ বছরের পথ পরিক্রমায় দৈনিক সিলেটের ডাক এখন সিলেটে স্থানীয় দৈনিকের বিকল্প নাম। সিলেটবাসীর স্থানীয় পত্রিকা বলতে বুঝেন দৈনিক সিলেটের ডাক-কে। দীর্ঘ ৫ মাস অতিবাহিত হলেও অন্য কোন স্থানীয় দৈনিক সিলেটবাসীর প্রত্যাশা পূরণে সক্ষম হয়নি। আর তাই স্বাভাবিকভাবে নব প্রাণে ফিরে আসায় দৈনিক সিলেটের ডাক-এর কাছে সিলেটবাসীর প্রত্যাশা বেড়ে গেছে বহুগুণ। পাঠকের সেই দাবী পূরণে দৈনিক সিলেটের ডাক আগামী দিনে আরো সচেতন থাকবে- এটা যেমন সবার প্রত্যাশা, তেমনি দৈনিক সিলেটের ডাক পরিবারের সকল কর্মীর দৃঢ় প্রত্যয়। 

দৈনিক সিলেটের ডাক বৃহত্তর সিলেটের এক কোটি মানুষের মুখপত্র। দেশে বিদেশ ছড়িয়ে থাকা অগণিত সিলেটের আত্মার খোরাক যুগিয়ে চলেছে গত ৩৪ বছর ধরে। চলার পথে পাঠক সমাজের প্রত্যাশা পূরণে দৈনিক সিলেটের ডাক সব সময় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কোন দলের প্রতি নয়, কোন মতাদর্শের প্রতি নয়, নিরপেক্ষতা বজায় রেখে দৈনিক সিলেটের ডাক সব সময় বিশ্বস্ত ছিল সিলেটের স্বার্থের প্রতি- বৃহত্তর সিলেটের গণমানুষের প্রতি। বস্তুনিষ্টতা. নিরপেক্ষতা ও সিলেটবাসীর প্রতি দায়বদ্ধতাই দৈনিক সিলেটের ডাক-এর মূলমন্ত্র। ভবিষ্যতেও দৈনিক সিলেটের ডাক তার অবস্থান থেকে বিচ্যুত হবেনা। 

দৈনিক সিলেটের ডাক আজ এক ফিনিক্স পাখি। দাবানলে যখন পুড়ে যায় বন, তখন তীব্র দাহের নীচে মুখ বুজে পড়ে থাকে ফিনিক্স। প্রচন্ড বহ্নিশিখায় পুড়ে যায় তার পাখাটিও। সেই তীব্র যন্ত্রনা সওয়ার পর যখন প্রলয় থামে, তখন ছাই চাপা আগুন থেকে আবার মাথা উঁচু করে দাঁড়ায় ফিনিক্স। ৫ মাসের সাময়িক বিরতির পর আবারো সগৌরবে ফিরে এল দৈনিক সিলেটের ডাক। শতবর্ষের সাংবাদিকতার ধারক হয়ে দৈনিক সিলেটের ডাক অতীতের চেয়ে আরো দায়বদ্ধতা ও সচেতনতার সাথে সিলেটবাসীর প্রত্যাশা পূরণে সচেষ্ট থাকবে- এটি আমাদের দৃঢ় প্রতিজ্ঞা।

 
সংবাদটি পড়া হয়েছে 1584 বার
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 

ক্যালেন্ডার